5:14 pm, Friday, 6 November 2026

ইউটিউব দেখে জাল নোট তৈরির কারখানা স্থাপন, তেলেঙ্গানায় চক্রের সন্ধান

ইউটিউব দেখে জাল নোট তৈরির কারখানা স্থাপন, তেলেঙ্গানায় চক্রের সন্ধান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইউটিউবে ভিডিও দেখে জাল নোট তৈরির কৌশল শিখেছিলেন এক ব্যক্তি। এরপর ভাড়া বাড়িতে গড়ে তোলেন জাল নোট ছাপানোর কারখানা। ভারতের তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে এমনই একটি জাল নোট তৈরির চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- মাদুপোজু কর্ণাকার, চিন্নোল্লা মানিক্য রেড্ডি, চেরুকুপেল্লি রত্নাকর রেড্ডি ও করণম অজয় কুমার। এ ঘটনায় আরও তিনজন পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা মূল্যের জাল নোট। একই সঙ্গে জাল নোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর রামোজি ফিল্ম সিটির কাছে ৬৫ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি গাড়ি আটক করে আবদুল্লাপুরমেট থানার পুলিশ ও শাদনগর বিশেষ অভিযান দল।

গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫০০ টাকার জাল নোটে ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের সূত্র ধরে হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে কুন্টলুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ির সন্ধান পান তদন্তকারীরা। ওই বাড়িতেই তৈরি করা হচ্ছিল জাল নোট। সেখান থেকে আরও ১৩৪ বান্ডিল ৫০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

এসব নোটের আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা জাল নোটের পরিমাণ ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। কারখানাটি থেকে রঙিন মুদ্রণযন্ত্র, স্ক্যানার, বহনযোগ্য কম্পিউটার, লেমিনেশন মেশিন এবং নোট কাটার বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। ফিউচার সিটি পুলিশের কমিশনার তরুণ যোশী জানান, চক্রটির মূল অভিযুক্ত মাদুপোজু কর্ণাকার ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিও দেখে জাল নোট তৈরির কৌশল শিখেছিলেন।

পরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাল নোট তৈরির কাজ শুরু করেন। তদন্তকারীদের দাবি, চক্রটির পরিকল্পনা ছিল এক লাখ টাকা আসল নগদ অর্থের বিনিময়ে তিন থেকে চার লাখ টাকার জাল নোট সরবরাহ করা। তবে এ প্রস্তাবে ক্রেতাদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় তারা প্রতারণার নতুন কৌশল নেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের জন্য প্রথমে তাদের কিছু আসল টাকা দেখানো হতো।

পরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে তাদের ভয় দেখিয়ে আসল টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। এ কাজে ভুয়া পরিচয়পত্র, ওয়াকিটকি, নকল আগ্নেয়াস্ত্র এবং জাল নম্বর প্লেটযুক্ত গাড়ি ব্যবহার করত চক্রটি। এভাবে দুটি পৃথক ঘটনায় দুই সম্ভাব্য ক্রেতার কাছ থেকে যথাক্রমে দুই লাখ ও তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৫১ মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ

ইউটিউব দেখে জাল নোট তৈরির কারখানা স্থাপন, তেলেঙ্গানায় চক্রের সন্ধান

Update Time : 12:35:58 pm, Thursday, 5 November 2026

ইউটিউবে ভিডিও দেখে জাল নোট তৈরির কৌশল শিখেছিলেন এক ব্যক্তি। এরপর ভাড়া বাড়িতে গড়ে তোলেন জাল নোট ছাপানোর কারখানা। ভারতের তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে এমনই একটি জাল নোট তৈরির চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- মাদুপোজু কর্ণাকার, চিন্নোল্লা মানিক্য রেড্ডি, চেরুকুপেল্লি রত্নাকর রেড্ডি ও করণম অজয় কুমার। এ ঘটনায় আরও তিনজন পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা মূল্যের জাল নোট। একই সঙ্গে জাল নোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর রামোজি ফিল্ম সিটির কাছে ৬৫ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি গাড়ি আটক করে আবদুল্লাপুরমেট থানার পুলিশ ও শাদনগর বিশেষ অভিযান দল।

গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫০০ টাকার জাল নোটে ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের সূত্র ধরে হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে কুন্টলুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ির সন্ধান পান তদন্তকারীরা। ওই বাড়িতেই তৈরি করা হচ্ছিল জাল নোট। সেখান থেকে আরও ১৩৪ বান্ডিল ৫০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

এসব নোটের আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা জাল নোটের পরিমাণ ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। কারখানাটি থেকে রঙিন মুদ্রণযন্ত্র, স্ক্যানার, বহনযোগ্য কম্পিউটার, লেমিনেশন মেশিন এবং নোট কাটার বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। ফিউচার সিটি পুলিশের কমিশনার তরুণ যোশী জানান, চক্রটির মূল অভিযুক্ত মাদুপোজু কর্ণাকার ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিও দেখে জাল নোট তৈরির কৌশল শিখেছিলেন।

পরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাল নোট তৈরির কাজ শুরু করেন। তদন্তকারীদের দাবি, চক্রটির পরিকল্পনা ছিল এক লাখ টাকা আসল নগদ অর্থের বিনিময়ে তিন থেকে চার লাখ টাকার জাল নোট সরবরাহ করা। তবে এ প্রস্তাবে ক্রেতাদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় তারা প্রতারণার নতুন কৌশল নেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের জন্য প্রথমে তাদের কিছু আসল টাকা দেখানো হতো।

পরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে তাদের ভয় দেখিয়ে আসল টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। এ কাজে ভুয়া পরিচয়পত্র, ওয়াকিটকি, নকল আগ্নেয়াস্ত্র এবং জাল নম্বর প্লেটযুক্ত গাড়ি ব্যবহার করত চক্রটি। এভাবে দুটি পৃথক ঘটনায় দুই সম্ভাব্য ক্রেতার কাছ থেকে যথাক্রমে দুই লাখ ও তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।