8:43 am, Saturday, 7 November 2026

ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের কাঁচকালী-হলদিবাড়ি হাট পাকা সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কারকাজে নিম্নমানের তিন নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দেড় কোটি (১ কোটি ৪০ লাখ) টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র সামনে আসায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নিম্নমানের এ খোয়া দিয়ে কাজ করা হলে অল্পদিনেই পিচ ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে সড়কটি নষ্ট হয়ে যাবে। এতে জনগণের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টির পাশাপাশি সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় ঘটবে। স্থানীয়রা দ্রুত এ অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে পড়ে থাকা এ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকার মানুষ আশাবাদী হয়েছিলেন।

কিন্তু কাজের শুরুতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অনিয়ম ধরা পড়ায় তাদের সেই আশা নিরাশায় রূপ নিয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে প্রশস্তকরণের জন্য যে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, তার গুণগত মান অত্যন্ত নিম্নমানের। ব্যবহৃত খোয়ার অধিকাংশই ভঙ্গুর, মাটিমিশ্রিত ও বড় বড় টুকরাযুক্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই কাজের জন্য যে ধরনের খোয়া ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে, তার পরিবর্তে তিন নম্বর ইট ভেঙে তৈরি নিম্নমানের খোয়া সড়কে বিছানো হচ্ছে।

ফলে সংস্কারকাজের স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় পথচারী নবাব আলী বলেন, ‘রাস্তায় ৩ নম্বর ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। খোয়াগুলো দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়, এগুলো দীর্ঘদিন ইটভাটায় পড়ে নষ্ট হওয়া নিম্নমানের ইট। অব্যবহার্য খোয়াগুলো এখানে এনে কাজে লাগানো হচ্ছে।

সরকারের বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা যদি এভাবে তছরুপ হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়ন হবে কীভাবে? কাঁচকালী বাজারের দোকানদার জয়নাল বলেন, যে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাস্তার কাজ চালানো হচ্ছে, তাতে এক বছর যেতে না যেতেই পিচ ও খোয়া উঠে রাস্তা আগের মতো বেহাল হয়ে যাবে। আশা করছি, উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিন এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করুক এবং সংস্কারকাজের গুণগত মান যাচাই করুক। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পেলে অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের বিষয়ে ঠিকাদার মোবারক আলী কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি দাবি করেন, সরকারের কাছ থেকে ১৪ টাকা দরে ইট ক্রয় করেছি। এ ইট না দিয়ে কি ফেলে দেব নাকি? ’ তাকে ইট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু জানার থাকলে কার্য-সহকারী আবু সুফিয়ানের কাছে জেনে নেন। ’ উপজেলা কার্য-সহকারী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ’ বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাঁচকালী বাজারের তিন হাজার ৩০০ মিটার রাস্তার জন্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহাজান আলী বলেন, তিন নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহারের প্রশ্নই আসে না। সাইডে গিয়ে কাজ দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ’ এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মাসুদুল আলম জানান, ‘যদি তিন নম্বর ইটের খোয়া দিয়ে সংস্কারকাজ করা হয়ে থাকে, তবে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না; ওই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ

Update Time : 08:32:12 am, Saturday, 7 November 2026

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের কাঁচকালী-হলদিবাড়ি হাট পাকা সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কারকাজে নিম্নমানের তিন নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দেড় কোটি (১ কোটি ৪০ লাখ) টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র সামনে আসায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নিম্নমানের এ খোয়া দিয়ে কাজ করা হলে অল্পদিনেই পিচ ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে সড়কটি নষ্ট হয়ে যাবে। এতে জনগণের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টির পাশাপাশি সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় ঘটবে। স্থানীয়রা দ্রুত এ অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে পড়ে থাকা এ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকার মানুষ আশাবাদী হয়েছিলেন।

কিন্তু কাজের শুরুতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অনিয়ম ধরা পড়ায় তাদের সেই আশা নিরাশায় রূপ নিয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে প্রশস্তকরণের জন্য যে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, তার গুণগত মান অত্যন্ত নিম্নমানের। ব্যবহৃত খোয়ার অধিকাংশই ভঙ্গুর, মাটিমিশ্রিত ও বড় বড় টুকরাযুক্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই কাজের জন্য যে ধরনের খোয়া ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে, তার পরিবর্তে তিন নম্বর ইট ভেঙে তৈরি নিম্নমানের খোয়া সড়কে বিছানো হচ্ছে।

ফলে সংস্কারকাজের স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় পথচারী নবাব আলী বলেন, ‘রাস্তায় ৩ নম্বর ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। খোয়াগুলো দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়, এগুলো দীর্ঘদিন ইটভাটায় পড়ে নষ্ট হওয়া নিম্নমানের ইট। অব্যবহার্য খোয়াগুলো এখানে এনে কাজে লাগানো হচ্ছে।

সরকারের বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা যদি এভাবে তছরুপ হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়ন হবে কীভাবে? কাঁচকালী বাজারের দোকানদার জয়নাল বলেন, যে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাস্তার কাজ চালানো হচ্ছে, তাতে এক বছর যেতে না যেতেই পিচ ও খোয়া উঠে রাস্তা আগের মতো বেহাল হয়ে যাবে। আশা করছি, উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিন এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করুক এবং সংস্কারকাজের গুণগত মান যাচাই করুক। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পেলে অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের বিষয়ে ঠিকাদার মোবারক আলী কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি দাবি করেন, সরকারের কাছ থেকে ১৪ টাকা দরে ইট ক্রয় করেছি। এ ইট না দিয়ে কি ফেলে দেব নাকি? ’ তাকে ইট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু জানার থাকলে কার্য-সহকারী আবু সুফিয়ানের কাছে জেনে নেন। ’ উপজেলা কার্য-সহকারী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ’ বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাঁচকালী বাজারের তিন হাজার ৩০০ মিটার রাস্তার জন্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহাজান আলী বলেন, তিন নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহারের প্রশ্নই আসে না। সাইডে গিয়ে কাজ দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ’ এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মাসুদুল আলম জানান, ‘যদি তিন নম্বর ইটের খোয়া দিয়ে সংস্কারকাজ করা হয়ে থাকে, তবে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না; ওই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।