8:44 am, Friday, 6 November 2026

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্বের নির্দেশিকা জারি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দেশে ক্রমবর্ধমান প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর) বিষয়ক নির্দেশিকা, ২০২৬ জারি করেছে সরকার।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ গেজেটে নির্দেশিকাটি প্রকাশ করে। নতুন নির্দেশিকাটি বাংলাদেশে উৎপাদিত বা ব্যবহৃত পুনঃচক্রায়নযোগ্য ও অ-পুনঃচক্রায়নযোগ্য সব ধরনের প্লাস্টিক পণ্যের পাশাপাশি এসব পণ্যের প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

তবে শুধু রপ্তানি আদেশের ভিত্তিতে পণ্য উৎপাদনকারী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এ নির্দেশিকার আওতার বাইরে থাকবে। নির্দেশিকায় প্লাস্টিক পণ্যকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—কঠিন প্লাস্টিক, নমনীয় প্লাস্টিক, স্টাইরোফোম বা ইপিএস, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ নয় এমন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক এবং অন্যান্য প্লাস্টিক পণ্য।

‘অন্যান্য’ শ্রেণিতে স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডায়াপার ও সিগারেট ফিল্টারের মতো পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ধাপে ধাপে তালিকাভুক্ত হবে প্রতিষ্ঠান নির্দেশিকা অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর ‘অবলাইজড এনটিটি’ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধাপে ধাপে তালিকাভুক্ত করবে। প্রথম দুই বছরে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরবর্তী দুই বছরে মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং পঞ্চম বছরে ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। এ নিবন্ধনের মেয়াদ হবে তিন বছর। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা অথবা প্রোডিউসার রেসপনসিবিলিটি অর্গানাইজেশন (পিআরও)-এর মাধ্যমে যৌথভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ন ও পরিত্যাজনের দায়িত্ব পালন করতে পারবে। নির্ধারিত হলো বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা ইপিআর নির্দেশিকায় অবলাইজড এনটিটিগুলোর জন্য বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথম দুই বছরে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পুনঃচক্রায়ন করতে হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ এবং পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দেশিকাটি বাস্তবায়নের তিন বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব লক্ষ্যমাত্রা পরবর্তী সময়ে হালনাগাদ করা হবে।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত সংগ্রহ করা বর্জ্য সরকার অনুমোদিত পদ্ধতিতে ‘প্লাস্টিক ক্রেডিট’ হিসেবে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করার সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন দিতে হবে প্রতি বছর নির্দেশিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি বছর তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

নির্ধারিত নিয়মে প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন নবায়ন করা হবে না। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত পরিদর্শন, নিরীক্ষা ও তথ্য যাচাই করবে। কোনো প্রতিষ্ঠান অসত্য তথ্য দিলে তার নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে অধিদপ্তরের। প্লাস্টিক দূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা, এ নির্দেশিকা বাস্তবায়নের ফলে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকরা তাদের পণ্যের জীবনচক্র-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় সরাসরি দায়বদ্ধ হবেন।

এর মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়ন অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি অ-প্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহক খাতকে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং দেশে চক্রাকার অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ কমাতে এবং প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে বলে আশা করছে সরকার।

নির্দেশিকার বিস্তারিত বিবরণ, নিবন্ধন ফরম ও প্রতিবেদন ছক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত

প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্বের নির্দেশিকা জারি

Update Time : 05:31:15 pm, Thursday, 20 August 2026

দেশে ক্রমবর্ধমান প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর) বিষয়ক নির্দেশিকা, ২০২৬ জারি করেছে সরকার।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ গেজেটে নির্দেশিকাটি প্রকাশ করে। নতুন নির্দেশিকাটি বাংলাদেশে উৎপাদিত বা ব্যবহৃত পুনঃচক্রায়নযোগ্য ও অ-পুনঃচক্রায়নযোগ্য সব ধরনের প্লাস্টিক পণ্যের পাশাপাশি এসব পণ্যের প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

তবে শুধু রপ্তানি আদেশের ভিত্তিতে পণ্য উৎপাদনকারী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এ নির্দেশিকার আওতার বাইরে থাকবে। নির্দেশিকায় প্লাস্টিক পণ্যকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—কঠিন প্লাস্টিক, নমনীয় প্লাস্টিক, স্টাইরোফোম বা ইপিএস, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ নয় এমন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক এবং অন্যান্য প্লাস্টিক পণ্য।

‘অন্যান্য’ শ্রেণিতে স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডায়াপার ও সিগারেট ফিল্টারের মতো পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ধাপে ধাপে তালিকাভুক্ত হবে প্রতিষ্ঠান নির্দেশিকা অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর ‘অবলাইজড এনটিটি’ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধাপে ধাপে তালিকাভুক্ত করবে। প্রথম দুই বছরে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরবর্তী দুই বছরে মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং পঞ্চম বছরে ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। এ নিবন্ধনের মেয়াদ হবে তিন বছর। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা অথবা প্রোডিউসার রেসপনসিবিলিটি অর্গানাইজেশন (পিআরও)-এর মাধ্যমে যৌথভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ন ও পরিত্যাজনের দায়িত্ব পালন করতে পারবে। নির্ধারিত হলো বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা ইপিআর নির্দেশিকায় অবলাইজড এনটিটিগুলোর জন্য বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথম দুই বছরে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পুনঃচক্রায়ন করতে হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ এবং পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দেশিকাটি বাস্তবায়নের তিন বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব লক্ষ্যমাত্রা পরবর্তী সময়ে হালনাগাদ করা হবে।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত সংগ্রহ করা বর্জ্য সরকার অনুমোদিত পদ্ধতিতে ‘প্লাস্টিক ক্রেডিট’ হিসেবে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করার সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন দিতে হবে প্রতি বছর নির্দেশিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি বছর তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

নির্ধারিত নিয়মে প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন নবায়ন করা হবে না। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত পরিদর্শন, নিরীক্ষা ও তথ্য যাচাই করবে। কোনো প্রতিষ্ঠান অসত্য তথ্য দিলে তার নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে অধিদপ্তরের। প্লাস্টিক দূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা, এ নির্দেশিকা বাস্তবায়নের ফলে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকরা তাদের পণ্যের জীবনচক্র-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় সরাসরি দায়বদ্ধ হবেন।

এর মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়ন অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি অ-প্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহক খাতকে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং দেশে চক্রাকার অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ কমাতে এবং প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে বলে আশা করছে সরকার।

নির্দেশিকার বিস্তারিত বিবরণ, নিবন্ধন ফরম ও প্রতিবেদন ছক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।