বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের কারাগারে ছয় মাস ধরে বন্দি রয়েছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ৯ জেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা বন্দি থাকায় চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তাদের স্বজনদের।
এরই মধ্যে একজন দেশে ফিরলেও বাকিদের ফেরার অপেক্ষায় উৎকণ্ঠায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। রামগতি উপজেলার কোহিনূর বেগমের দুই ছেলে তামজিদ ও তাহমিদ মিয়ানমারে আটক হন। সম্প্রতি ছোট ছেলে তাহমিদ দেশে ফিরলেও এখনো বন্দি রয়েছেন বড় ছেলে তামজিদ। ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ধারদেনা করে ছোট ছেলেকে ফিরিয়ে আনলেও বড় ছেলেকে দেশে ফেরাতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন কোহিনূর বেগম।
তাহমিদ জানান, মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের ট্রলার মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে সেনাবাহিনী তাদের আটক করে। পরে দূতাবাসের মাধ্যমে তিনি দেশে ফেরেন। শেষবার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছিলেন তামজিদ। একই এলাকার জেলে জাবের হোসেনের স্ত্রী রাশেদা বেগমও দুই সন্তান নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
স্বামী বন্দি থাকায় অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মার্চ ‘মা-বাবার দোয়া’ নামে একটি ট্রলারে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের ১৬ জেলে মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়ন থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান। পরদিন থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ২৮ মার্চ ট্রলার মালিক মহেশখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
রামগতি ও কমলনগরের বন্দি জেলেদের পরিবারগুলো তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছে। ইউএনও শেখ এহসান উদ্দীন জানান, বন্দি জেলেদের ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি উদ্যোগ নেওয়া হবে পরিবারগুলোকে সহায়তার।
ছয় মাস ধরে স্বজনদের ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর দাবি, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দি জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনার।













