11:42 am, Sunday, 11 October 2026

সৌদির বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ১২, দুই বাংলাদেশিও রয়েছে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০৯ জন। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে দেশটির সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার কারণেই সৌদি আরবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা।

বিবিসি বলছে, হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা দ্রুত দখল করার পর সংঘাত আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যে ছিল বাব আল মান্দেব প্রণালির কাছে অবস্থিত মোকা বন্দর। লোহিত সাগরের এই প্রণালিটি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সমর্থকেরা অবশ্য পরে দাবি করেন, লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তারা নিশ্চিত করেছেন।

২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট গঠন করা হয়। আরব দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত এই জোটের লক্ষ্য ছিল, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কাছেই দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা ও হুতিদের ঠেকানো।

বহু বছর ধরে চলা বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হওয়ার পর ২০২২ সালে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জায়গায় পরিণত হয়েছে। তবে গত জুলাইয়ে অনানুষ্ঠানিক এই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়তে শুরু করে।

এরপর সৌদি আরবের ওপর সমুদ্রপথে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা জানায় হুতিরা। তারা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

হুতিদের দাবি, সৌদি আরবের কয়েক বছর ধরে চলা অবরোধের জবাব দিতেই তারা এসব হামলা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা। সানা বর্তমানে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

মুক্তি পেলেন সিজেপির তিন নেতা অভিজিৎ দীপকেসহ অন্যরা

সৌদির বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ১২, দুই বাংলাদেশিও রয়েছে

Update Time : 09:36:31 am, Sunday, 11 October 2026

সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০৯ জন। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে দেশটির সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার কারণেই সৌদি আরবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা।

বিবিসি বলছে, হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা দ্রুত দখল করার পর সংঘাত আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যে ছিল বাব আল মান্দেব প্রণালির কাছে অবস্থিত মোকা বন্দর। লোহিত সাগরের এই প্রণালিটি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সমর্থকেরা অবশ্য পরে দাবি করেন, লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তারা নিশ্চিত করেছেন।

২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট গঠন করা হয়। আরব দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত এই জোটের লক্ষ্য ছিল, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কাছেই দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা ও হুতিদের ঠেকানো।

বহু বছর ধরে চলা বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হওয়ার পর ২০২২ সালে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জায়গায় পরিণত হয়েছে। তবে গত জুলাইয়ে অনানুষ্ঠানিক এই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়তে শুরু করে।

এরপর সৌদি আরবের ওপর সমুদ্রপথে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা জানায় হুতিরা। তারা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

হুতিদের দাবি, সৌদি আরবের কয়েক বছর ধরে চলা অবরোধের জবাব দিতেই তারা এসব হামলা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা। সানা বর্তমানে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।