1:36 pm, Monday, 2 November 2026

গাজীপুরে মহাসড়কে পোশাককর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত, মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি

গাজীপুরে মহাসড়কে পোশাককর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত, মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েকদিন ধরে চলা শ্রমিক আন্দোলনে আজও অচল হয়ে উঠছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও সোমবার সকাল থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

এদিকে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের অবস্থানের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোর গেটেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশসহ ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠে কাজ করছেন জেলা প্রশাসনের ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

অন্যদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মোট কতটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, সে সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি শিল্প পুলিশ।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানান, নিত্যপণ্যের সবকিছুর দাম বেশি। একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হয় ২ হাজার ৫০০ টাকায়, বাসা ভাড়া দিতে হয় ৫ হাজার। মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, তাঁদের বেতন কত করা হয়েছে তার ঘোষণা দিতে হবে। সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছেন। কারখানা ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে বহিরাগতরা। তাদের দাবি, দুর্বৃত্তরা তাদের মধ্যে ঢুকে পরিস্থিতি খারাপ করেছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২ এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে গতকাল গাজীপুরে শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। আজও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। তবে সোমবার মোট কতটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি তবে বেশিরভাগ কারখানায় ছুটি হয়েছে।

এর আগে গতকাল সকাল ৯টার দিকে ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে কোনাবাড়িতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে তাদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে। জবাবে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এমন পরিস্থিতিতে চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক, সফিপুর এলাকায় একই সময়ে আন্দোলন শুরু করেন শ্রমিকেরা। তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ করে। এ সময় কোনাবাড়ি এলাকায় দুটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় প্রাইভেট কারসহ বেশ কিছু যানবাহন।

এছাড়া কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিকাল নিটেক্স লিমিটেডের নামে একটি কারখানার গোডাউনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ থেকে কোনাবাড়ি এলাকা পর্যন্ত শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এসময় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২০ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে বিকেল ৩টার দিকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

কৃষক কার্ডের মাধ্যমেই মিলবে আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা ও ১০ ধরনের সুবিধা

গাজীপুরে মহাসড়কে পোশাককর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত, মোতায়েন ১০ প্লাটুন বিজিবি

Update Time : 11:14:11 am, Monday, 2 November 2026

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েকদিন ধরে চলা শ্রমিক আন্দোলনে আজও অচল হয়ে উঠছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও সোমবার সকাল থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

এদিকে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের অবস্থানের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোর গেটেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশসহ ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠে কাজ করছেন জেলা প্রশাসনের ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

অন্যদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মোট কতটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, সে সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি শিল্প পুলিশ।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানান, নিত্যপণ্যের সবকিছুর দাম বেশি। একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হয় ২ হাজার ৫০০ টাকায়, বাসা ভাড়া দিতে হয় ৫ হাজার। মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, তাঁদের বেতন কত করা হয়েছে তার ঘোষণা দিতে হবে। সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছেন। কারখানা ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে বহিরাগতরা। তাদের দাবি, দুর্বৃত্তরা তাদের মধ্যে ঢুকে পরিস্থিতি খারাপ করেছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২ এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে গতকাল গাজীপুরে শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। আজও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। তবে সোমবার মোট কতটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি তবে বেশিরভাগ কারখানায় ছুটি হয়েছে।

এর আগে গতকাল সকাল ৯টার দিকে ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে কোনাবাড়িতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে তাদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে। জবাবে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এমন পরিস্থিতিতে চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক, সফিপুর এলাকায় একই সময়ে আন্দোলন শুরু করেন শ্রমিকেরা। তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে অবরোধ সৃষ্টি করে বিক্ষোভ করে। এ সময় কোনাবাড়ি এলাকায় দুটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় প্রাইভেট কারসহ বেশ কিছু যানবাহন।

এছাড়া কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিকাল নিটেক্স লিমিটেডের নামে একটি কারখানার গোডাউনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ থেকে কোনাবাড়ি এলাকা পর্যন্ত শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এসময় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২০ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে বিকেল ৩টার দিকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।