1:36 pm, Monday, 2 November 2026

নওগাঁয় ভ্যান ছিনতাইয়ের অভিযোগে গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু

নওগাঁয় ভ্যান ছিনতাইয়ের অভিযোগে গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভ্যান ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ধরে থানায় নেওয়ার পথে গণপিটুনির শিকার হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর বাজার এলাকা থেকে থানা মোড় এলাকায় এই গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।

পরদিন রোববার (১ নভেম্বর) সকালে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান তিনি। নিহত ব্যক্তির নাম হায়দার আলী (৫০)। তিনি জয়পুরহাট জেলার ভাতশা ইউনিয়নের দেওনাহার গ্রামের মৃত কহির উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ অক্টোবর দুপুরে বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের বারাতৈল গ্রামের ভ্যানচালক সৌমিককে ৩০০ টাকা ভাড়ায় বদলগাছী নতুন ব্রিজ থেকে আক্কেলপুরে নিয়ে যান হায়দার আলীসহ কয়েকজন।

সেখানে বিভিন্ন কৌশলে সৌমিককে দুপুরের খাবার খাওয়ানো হয়। একপর্যায়ে সৌমিক ঘুমিয়ে পড়লে তার চার্জার ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যান হায়দার আলীসহ কয়েকজন। এ ঘটনায় আক্কেলপুর মোড়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আক্কেলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সৌমিকের পরিবারের সদস্যরা। পরে ফুটেজে থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার ভ্যানের সন্ধানে সৌমিকের পরিবারের সদস্যরা বদলগাছী থানায় যান। সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার সময় পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এলাকা থেকে থানায় সেবা নিতে আসা কয়েকজন ব্যক্তি হায়দার আলীকে ছবি দেখে শনাক্ত করেন। তারা জানান, ওই ব্যক্তিকে কিছুক্ষণ আগে পাহাড়পুর মোড়ে দেখা গেছে। পরে সৌমিকের পরিবারের সদস্যরা পাহাড়পুর বাজারে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।

এরপর হায়দার আলীকে ধরে ভ্যানে করে বদলগাছী থানায় নিয়ে আসছিলেন তারা। থানার মোড়ে পৌঁছালে হায়দার আলী ভ্যান থেকে লাফ দিয়ে হাটের ভেতর পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সৌমিকের বাবা সামছদ্দিন ‘চোর পালাচ্ছে’ বলে চিৎকার করেন। এরপর বাজারে উপস্থিত লোকজন তাকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে মাইক্রোস্ট্যান্ডের একটি চৌকিতে বসানো হয়।

সেখানেও তাকে আবার মারধর করা হয়। গুরুতর আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পুলিশের কাছে নিয়ে যান সৌমিকের পরিবারের সদস্যরা। পরে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখান থেকে পুলিশের সহযোগিতায় আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় তাকে। শনিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে সেখানে ভর্তি করা হয় হায়দার আলীকে। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক মেহেদী মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় সৌমিকের পরিবার থানায় জিডি করেছিল। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হায়দার আলীকে শনাক্ত করেন তারা। থানায় নেওয়ার সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে উপস্থিত জনতা তাকে মারধর করে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

কৃষক কার্ডের মাধ্যমেই মিলবে আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা ও ১০ ধরনের সুবিধা

নওগাঁয় ভ্যান ছিনতাইয়ের অভিযোগে গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু

Update Time : 11:52:52 am, Monday, 2 November 2026

ভ্যান ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ধরে থানায় নেওয়ার পথে গণপিটুনির শিকার হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর বাজার এলাকা থেকে থানা মোড় এলাকায় এই গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।

পরদিন রোববার (১ নভেম্বর) সকালে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান তিনি। নিহত ব্যক্তির নাম হায়দার আলী (৫০)। তিনি জয়পুরহাট জেলার ভাতশা ইউনিয়নের দেওনাহার গ্রামের মৃত কহির উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ অক্টোবর দুপুরে বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের বারাতৈল গ্রামের ভ্যানচালক সৌমিককে ৩০০ টাকা ভাড়ায় বদলগাছী নতুন ব্রিজ থেকে আক্কেলপুরে নিয়ে যান হায়দার আলীসহ কয়েকজন।

সেখানে বিভিন্ন কৌশলে সৌমিককে দুপুরের খাবার খাওয়ানো হয়। একপর্যায়ে সৌমিক ঘুমিয়ে পড়লে তার চার্জার ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যান হায়দার আলীসহ কয়েকজন। এ ঘটনায় আক্কেলপুর মোড়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আক্কেলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সৌমিকের পরিবারের সদস্যরা। পরে ফুটেজে থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার ভ্যানের সন্ধানে সৌমিকের পরিবারের সদস্যরা বদলগাছী থানায় যান। সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার সময় পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এলাকা থেকে থানায় সেবা নিতে আসা কয়েকজন ব্যক্তি হায়দার আলীকে ছবি দেখে শনাক্ত করেন। তারা জানান, ওই ব্যক্তিকে কিছুক্ষণ আগে পাহাড়পুর মোড়ে দেখা গেছে। পরে সৌমিকের পরিবারের সদস্যরা পাহাড়পুর বাজারে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।

এরপর হায়দার আলীকে ধরে ভ্যানে করে বদলগাছী থানায় নিয়ে আসছিলেন তারা। থানার মোড়ে পৌঁছালে হায়দার আলী ভ্যান থেকে লাফ দিয়ে হাটের ভেতর পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সৌমিকের বাবা সামছদ্দিন ‘চোর পালাচ্ছে’ বলে চিৎকার করেন। এরপর বাজারে উপস্থিত লোকজন তাকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে মাইক্রোস্ট্যান্ডের একটি চৌকিতে বসানো হয়।

সেখানেও তাকে আবার মারধর করা হয়। গুরুতর আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পুলিশের কাছে নিয়ে যান সৌমিকের পরিবারের সদস্যরা। পরে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখান থেকে পুলিশের সহযোগিতায় আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় তাকে। শনিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে সেখানে ভর্তি করা হয় হায়দার আলীকে। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক মেহেদী মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় সৌমিকের পরিবার থানায় জিডি করেছিল। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হায়দার আলীকে শনাক্ত করেন তারা। থানায় নেওয়ার সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে উপস্থিত জনতা তাকে মারধর করে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।