5:23 am, Friday, 6 November 2026

সাতক্ষীরায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাতক্ষীরার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় গত মঙ্গলবার রাতে দেবহাটা উপজেলার চ-ীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মামুন চ-ীপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় ছয়-সাত মাস আগে দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাহেব আলী তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে তালাক দেন।

অভিযোগ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনের একান্ত মুহূর্তের কিছু ছবি ও ভিডিও ওই নারী গোপনে ধারণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে তা সংগ্রহ করে বাদীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠান। গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ভিডিওগুলো পাঠিয়ে বাদীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এর পরদিন ২০ অক্টোবর অভিযুক্তরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেন।

প্রথমে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে তা কমিয়ে এক লাখ টাকায় নামানো হয়। সমঝোতার অংশ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও আসামিদের ব্ল্যাকমেল ও চাঁদাবাজি থামেনি। টাকা নেওয়ার পরও গত ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং গত ১ নভেম্বর মামুনের ব্যক্তিগত আইডি থেকে বাদীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। বাদী সাহেব আলী বলেন, সামাজিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই ব্ল্যাকমেলিং চালিয়ে আসছিল। বাধ্য হয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত

সাতক্ষীরায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার

Update Time : 03:58:44 am, Thursday, 5 November 2026

স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাতক্ষীরার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় গত মঙ্গলবার রাতে দেবহাটা উপজেলার চ-ীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মামুন চ-ীপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় ছয়-সাত মাস আগে দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাহেব আলী তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে তালাক দেন।

অভিযোগ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনের একান্ত মুহূর্তের কিছু ছবি ও ভিডিও ওই নারী গোপনে ধারণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে তা সংগ্রহ করে বাদীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠান। গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ভিডিওগুলো পাঠিয়ে বাদীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এর পরদিন ২০ অক্টোবর অভিযুক্তরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেন।

প্রথমে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে তা কমিয়ে এক লাখ টাকায় নামানো হয়। সমঝোতার অংশ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও আসামিদের ব্ল্যাকমেল ও চাঁদাবাজি থামেনি। টাকা নেওয়ার পরও গত ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং গত ১ নভেম্বর মামুনের ব্যক্তিগত আইডি থেকে বাদীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। বাদী সাহেব আলী বলেন, সামাজিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই ব্ল্যাকমেলিং চালিয়ে আসছিল। বাধ্য হয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।