1:08 am, Monday, 9 November 2026

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি নেতা আপেল মাহমুদের ওপর হামলার অভিযোগ, থানায় এজাহার

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি নেতা আপেল মাহমুদের ওপর হামলার অভিযোগ, থানায় এজাহার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি বাউফল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। হামলার ঘটনার পর বাউফল থানার সামনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়ো হতে দেখা গেছে।

এ নিয়ে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রোববার (৮ নভেম্বর) রাতে বাউফল বাজার রোডে হোটেল আল-ফাহাদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আপেল মাহমুদ ফিরোজের অভিযোগ, দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলতাব হোসেন মেম্বারের ছেলে সাদিকের নেতৃত্বে ১২-১৩ জন কিশোর তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর শার্টের কলার ধরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে এবং টেনে রাস্তায় ফেলে দেয়।

একপর্যায়ে তাঁর পকেটে থাকা ৬০ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওই টাকা দিয়ে গরিব মানুষের জন্য চাল কিনতে বাজারে যাচ্ছিলেন বলে জানান আপেল ফিরোজ। খবর পেয়ে বাউফল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রোববার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

র‍্যালিটি হাসপাতাল রোড অতিক্রম করার সময় দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলতাব হোসেন মেম্বার ব্যানারের সামনে চলে আসেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ তাঁকে পেছনে যাওয়ার কথা বললে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে রাতের হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

এ বিষয়ে আলতাব হোসেন মেম্বারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, রাতে গরিব মানুষের জন্য চাল কিনতে বাজার রোডে যাওয়ার সময় সাদিকের নেতৃত্বে ১২-১৩ জন তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় এবং পকেট থেকে টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি বাউফল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর বাউফল থানার সামনে বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

যশোরে ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি নেতা আপেল মাহমুদের ওপর হামলার অভিযোগ, থানায় এজাহার

Update Time : 12:18:38 am, Monday, 9 November 2026

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি বাউফল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। হামলার ঘটনার পর বাউফল থানার সামনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়ো হতে দেখা গেছে।

এ নিয়ে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রোববার (৮ নভেম্বর) রাতে বাউফল বাজার রোডে হোটেল আল-ফাহাদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আপেল মাহমুদ ফিরোজের অভিযোগ, দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলতাব হোসেন মেম্বারের ছেলে সাদিকের নেতৃত্বে ১২-১৩ জন কিশোর তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর শার্টের কলার ধরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে এবং টেনে রাস্তায় ফেলে দেয়।

একপর্যায়ে তাঁর পকেটে থাকা ৬০ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওই টাকা দিয়ে গরিব মানুষের জন্য চাল কিনতে বাজারে যাচ্ছিলেন বলে জানান আপেল ফিরোজ। খবর পেয়ে বাউফল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রোববার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

র‍্যালিটি হাসপাতাল রোড অতিক্রম করার সময় দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলতাব হোসেন মেম্বার ব্যানারের সামনে চলে আসেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ তাঁকে পেছনে যাওয়ার কথা বললে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে রাতের হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

এ বিষয়ে আলতাব হোসেন মেম্বারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, রাতে গরিব মানুষের জন্য চাল কিনতে বাজার রোডে যাওয়ার সময় সাদিকের নেতৃত্বে ১২-১৩ জন তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় এবং পকেট থেকে টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি বাউফল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর বাউফল থানার সামনে বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হন।