গ্রীষ্মের গরমের পর বর্ষার আগমন অনেকের কাছেই স্বস্তির অনুভূতি নিয়ে আসে। তবে এই ঋতুতে আবহাওয়া ঠান্ডা ও মনোরম হলেও খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ বর্ষাকালের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে খাবার ঠিকভাবে সংরক্ষণ বা প্রস্তুত না করলে তা সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বর্ষায় পরিবারের সবাইকে সুস্থ রাখতে খাবার তৈরি, সংরক্ষণ ও রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। কিছু সাধারণ অভ্যাস অনুসরণ করলেই খাদ্যজনিত অসুস্থতা থেকে অনেকটা নিরাপদ থাকা সম্ভব।
রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
খাবার তৈরির স্থান সবসময় পরিষ্কার রাখা স্বাস্থ্যকর জীবনের অন্যতম শর্ত। রান্নার আগে ও পরে রান্নাঘরের বিভিন্ন জায়গা, পাত্র এবং সরঞ্জাম ভালোভাবে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করা উচিত। নিয়মিত গরম পানি ও জীবাণুনাশক ব্যবহার করে রান্নাঘরের মেঝে পরিষ্কার রাখলে জীবাণুর বিস্তার কমে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রান্নাঘর খাবারের মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন
বাসনপত্র ব্যবহারের পর ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। ভেজা অবস্থায় রাখা পাত্রে সহজেই জীবাণু জন্মাতে পারে। একই সঙ্গে ফ্রিজের ভেতর ও বাইরের অংশ নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্দিষ্ট সময় পরপর ফ্রিজ ডিফ্রস্ট করাও উপকারী।
সঠিকভাবে খাবার সংরক্ষণ ও রান্নাঘর পরিষ্কার রাখলে বর্ষাকালে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
খাদ্য নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিন
বর্ষাকালে খাবারের বিষয়ে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। এ সময় অপরিষ্কার বা নষ্ট খাবার খেলে পেটের সমস্যা, সংক্রমণসহ বিভিন্ন অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তাই প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন, খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন এবং কোনো খাবার নষ্ট হয়েছে বলে মনে হলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে নিরাপদ উপায়ে প্রস্তুত করা খাবার গ্রহণ করাই বর্ষায় সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়।
























