5:00 am, Sunday, 19 July 2026

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনায় কুয়েত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে একটি বর্ধিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে পাকিস্তান। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার (১৭ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

২০২৩ সাল থেকেই পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া নিয়ে একটি সীমিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। এখন কুয়েত এমন একটি সহযোগিতা চায়, যা সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো হবে।

একজন পাকিস্তানি সরকারি কর্মকর্তা জানান, কুয়েত হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সুবিধা চায়।

তবে পাকিস্তান এতটা এগোতে রাজি হবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কয়েক দশকের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘কুয়েতের চাওয়ার তালিকায় প্রায় সব ধরনের সামরিক সহযোগিতাই রয়েছে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—এই মুহূর্তে যুদ্ধের জন্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি না এবং করতে পারি না।‘

মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে, কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ওই সূত্রের মতে, এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

রয়টার্স চারজন পাকিস্তানি এবং মধ্যপ্রাচ্যের একজন সূত্রের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে তারা কেউই প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা এবং কুয়েতের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।

সম্ভাব্য এই চুক্তির অংশ হিসেবে পাকিস্তান জ্বালানি নিরাপত্তা খাতে কুয়েতের সহযোগিতা চায়। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় তেল ও জ্বালানির মজুত বাড়ানোর যে বৃহত্তর পরিকল্পনা নিয়েছে, তারই অংশ হিসেবে এই সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram নাগরিক সংগ্রাম

Nagorik Sangram | নাগরিক সংগ্রাম

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনায় কুয়েত

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনায় কুয়েত

Update Time : 09:34:18 am, Saturday, 18 July 2026

জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে একটি বর্ধিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে পাকিস্তান। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার (১৭ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

২০২৩ সাল থেকেই পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া নিয়ে একটি সীমিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। এখন কুয়েত এমন একটি সহযোগিতা চায়, যা সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো হবে।

একজন পাকিস্তানি সরকারি কর্মকর্তা জানান, কুয়েত হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সুবিধা চায়।

তবে পাকিস্তান এতটা এগোতে রাজি হবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কয়েক দশকের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘কুয়েতের চাওয়ার তালিকায় প্রায় সব ধরনের সামরিক সহযোগিতাই রয়েছে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—এই মুহূর্তে যুদ্ধের জন্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি না এবং করতে পারি না।‘

মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে, কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ওই সূত্রের মতে, এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

রয়টার্স চারজন পাকিস্তানি এবং মধ্যপ্রাচ্যের একজন সূত্রের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে তারা কেউই প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা এবং কুয়েতের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।

সম্ভাব্য এই চুক্তির অংশ হিসেবে পাকিস্তান জ্বালানি নিরাপত্তা খাতে কুয়েতের সহযোগিতা চায়। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় তেল ও জ্বালানির মজুত বাড়ানোর যে বৃহত্তর পরিকল্পনা নিয়েছে, তারই অংশ হিসেবে এই সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।