শিবচরে ক্লু লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, নারী হত্যার পর শিশুকে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ, ঘাতক গ্রেফতার
মাদারীপুর প্রতিনিধি: রবিন চৌধুরী
মাদারীপুরের শিবচরে ঝোপের পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার হেফাজত থেকে নিহত নারীর ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকপিন, রুপার গলার চেইন, জুতা ও পোড়ানো অবস্থায় ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকায় খানবাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদরাসার পাশে বিল্লাল শিকদারগংয়ের মালিকানাধীন জমির ঝোপের পাশ থেকে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত নারীর নাম শাম্পা খাতুন (২৮)।
খবর পেয়ে নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম শিবচর থানায় উপস্থিত হয়ে মরদেহটি তার মেয়ে শাম্পা খাতুনের বলে শনাক্ত করেন। তিনি জানান, প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে শাম্পার ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আবির নামে এক বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
ছামরুল ইসলাম জানান, ১৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনি মেয়ের মৃত্যুর খবর পান। একই সঙ্গে তার এক বছর বয়সী নাতি আবির নিখোঁজ রয়েছে বলেও জানতে পারেন।
এ ঘটনায় ২০ আগস্ট নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার, শিবচর সার্কেল মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮ মাদারীপুরের একটি যৌথ দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শিবচর ও রাজৈর থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে বাখরেরকান্দি এলাকার নিজ বাসা থেকে ফারুককে আটক করা হয়। তিনি রতন মোল্লার ছেলে। তার স্থায়ী ঠিকানা খুলনার তেরখাদা উপজেলার জয়সোমা এলাকায় এবং বর্তমানে বাখরেরকান্দিতে বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, ফারুকের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে নিহত শাম্পা খাতুনের ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকপিন, রুপার গলার চেইন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বাসার চুলা থেকে পোড়ানো অবস্থায় শাম্পার একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক শাম্পা খাতুনকে হত্যার পর তার এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে শিশুটির মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। তাকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে, শাম্পা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি তদন্ত ও চিকিৎসা পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
সহকারী পুলিশ সুপার, শিবচর সার্কেল মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, “এটি একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, মাদারীপুর জেলা পুলিশ হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে তৎপর রয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।





















