বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় আইনের তোয়াক্কা না করে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ক্ষতিকর চায়না কারেন্ট জালের ব্যবহার। রিং জাল বা চায়না দুয়ারি নামে পরিচিত এই বিষাক্ত ফাঁদে আটকা পড়ে প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে মুক্ত জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য।
ফলে এলাকার নদী-নালা ও খালে দেশীয় প্রজাতির মৎস্য সম্পদ এখন মারাত্মক অস্তিত্বসংকটের মুখে পড়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদী ও খাল-বিলে বেপরোয়াভাবে পাতা হচ্ছে ক্ষতিকর চায়না জাল। বিশেষ করে নাগর নদসহ কাথোহালী গ্রাম এবং ইসলামপুর-সাজাপুর সড়কসংলগ্ন সরু খালগুলোর পানিপ্রবাহ আটকে পাতা হয়েছে এসব জাল।
স্থানীয় কিছু অসাধু মৎস্য শিকারি খালের সরু অংশে বাঁশের খাঁটি দিয়ে পুরো খাল জালের মাধ্যমে বন্দি করে ফেলছে। চায়না জালের ভয়াবহতার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় চাষি আবু মুসা বলেন, মূলত চীনের কৃষি জমিতে ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনের উদ্দেশ্যে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো। পরবর্তীতে প্রযুক্তিটি নতুন রূপ নিয়ে বাংলাদেশে মাছ ধরার জাল হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় দুই থেকে আড়াই ফুট প্রস্থ এবং ৪০ থেকে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই জালে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খোপ থাকে। লোহার গোলাকার রিং দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি সহজেই পানির তলদেশে স্থির হয়ে থাকে। ফলে ছোট-বড় যেকোনো মাছ একবার এই জালের ভেতরে প্রবেশ করলে আর বের হওয়ার সুযোগ পায় না। বর্ষা মৌসুমে নদী-নালা ও খাল-বিলে দেশীয় মাছ যখন ডিম ছাড়ে, ঠিক তখনই চায়না জালের এমন অবাধ ব্যবহারে স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ডিমওয়ালা মা মাছ থেকে শুরু করে অতি সূক্ষ্ম রেণু পোনা একযোগে নিধন হওয়ায় প্রাকৃতিক উপায়ে মাছের বংশবৃদ্ধি স্তব্ধ হতে বসেছে। একসময় এসব জলাশয়ে কৈ, শিং, মাগুর, টেংরা, পাবদা, পুঁটি ও বাতাসির মতো সুস্বাদু দেশীয় মাছের প্রচুর মেলা বসলেও, জালের দৌরাত্ম্যে স্থানীয় বাজারগুলোতে এখন দেশীয় মাছের দেখা মেলা ভার। এ বিষয়ে দুপচাঁচিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহান ফায়েজ বলেন, চায়না জাল সরকারিভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিষাক্ত এই জালের ব্যবহারে আমাদের প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। উপজেলার যেখানেই এই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার দেখা যাবে, তথ্য পাওয়ামাত্রই তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ ও বিনষ্ট করা হবে। পাশাপাশি জড়িয়দের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং দেশীয় মৎস্য সম্পদ বাঁচাতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জরুরি।
সেই সঙ্গে এই জালের বেচাকেনা বন্ধ ও সাধারণ জেলেদের সচেতন করতে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


















