3:07 pm, Friday, 6 November 2026

রংপুরে ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় স্কুলশিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রংপুর নগরীতে বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

পুলিশ জানায়, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে ওই বাড়ির ছাদে যায়।

সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিল। ছাদে শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গিয়ে তাদের আড্ডা দেওয়ার কারণ জানতে চান। পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুই তরুণ তার গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। গণপতির চিৎকার শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

মায়ের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসা মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীকেও গামছা ও রশি ব্যবহার করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রার্থীকে হত্যা করতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। পরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছোট ছেলে প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযুক্তরা জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর দুই অভিযুক্ত বাড়ির একটি বাথরুমে গোসল করে।

এরপর ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও বাকি ইয়াবা সেবন করে তারা। পরে জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট তুলনামূলক ফাঁকা থাকার সুযোগে কয়েকটি স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এসব অলংকার কাছের একটি মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়। অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে আলামতগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, হত্যার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে এটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে এলোমেলো করে রাখে অভিযুক্তরা।

পাশাপাশি পুলিশের তদন্তে যেন তাদের পরিচয় শনাক্ত করা না যায়, সে জন্য বাড়িতে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাড়ে ৪৮ লাখ মামলা বিচারাধীন, তীব্র বিচারক সংকট

রংপুরে ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় স্কুলশিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যা

Update Time : 03:14:17 pm, Sunday, 23 August 2026

রংপুর নগরীতে বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

পুলিশ জানায়, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে ওই বাড়ির ছাদে যায়।

সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিল। ছাদে শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গিয়ে তাদের আড্ডা দেওয়ার কারণ জানতে চান। পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুই তরুণ তার গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। গণপতির চিৎকার শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করলে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।

মায়ের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসা মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীকেও গামছা ও রশি ব্যবহার করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রার্থীকে হত্যা করতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। পরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছোট ছেলে প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযুক্তরা জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর দুই অভিযুক্ত বাড়ির একটি বাথরুমে গোসল করে।

এরপর ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও বাকি ইয়াবা সেবন করে তারা। পরে জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট তুলনামূলক ফাঁকা থাকার সুযোগে কয়েকটি স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এসব অলংকার কাছের একটি মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়। অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে আলামতগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, হত্যার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে এটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে এলোমেলো করে রাখে অভিযুক্তরা।

পাশাপাশি পুলিশের তদন্তে যেন তাদের পরিচয় শনাক্ত করা না যায়, সে জন্য বাড়িতে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।