রাজশাহীর রানীবাজারে তোষক বিক্রেতার সঙ্গে বিরোধের জেরে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানকর্মীদের বিরুদ্ধে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে রুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ৫ থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুবিনের সঙ্গে রানীবাজারের এক তোষক বিক্রেতার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দোকানের কর্মচারীরা তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ক্যাম্পাসে ফিরে মুবিন বিষয়টি সহপাঠী ও অগ্রজদের জানান। ঘটনার সমাধানে প্রায় ১৫–২০ জন শিক্ষার্থী ওই দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে স্থানীয় দোকানদার ও কর্মচারীরা বাঁশ, লাঠি, চেয়ারসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় রুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের মুহাম্মদ জাহান ও মাশফি এবং মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের মো. যুবায়ের হাসান আহত হন।
গুরুতর আহত যুবায়ের হাসানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “এক ছোট ভাই দোকানের কর্মচারীর হাতে হেনস্তার শিকার হওয়ায় বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য আমরা সেখানে যাই।
কিন্তু দোকানদার ও আশপাশের দোকানের কর্মচারীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে আমিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছি। আমরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই। ” বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাছুমা মুস্তারী জানান, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক জেড এইচ এম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ব্যবসায়ীদের দুই দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা আহত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিলে মামলা করা হবে না। আর ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরবর্তী সময়ে মামলা করা হতে পারে। এ ঘটনায় হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আহত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ, জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রুয়েটের শিক্ষার্থীরা।





















