গভীর রাতে চারপাশ যখন নিস্তব্ধ থাকে, তখন রবের সান্নিধ্য লাভের আশায় অনেক মানুষ জেগে ওঠেন। জাগতিক কোলাহল এড়িয়ে নির্জন রাতে তারা জায়নামাজে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর কাছে নিজেদের দুঃখ-কষ্ট, আশা-আকাক্সক্ষা ও গুনাহের কথা প্রকাশ করেন।
তাহাজ্জুদের সময় বান্দা যখন আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়, তখন তার হৃদয়ে এক অন্যরকম প্রশান্তি নেমে আসে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো, এটি তোমার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবেন। ’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৭৯)। শেষ রাতÑদোয়া কবুলের বিশেষ সময় তাহাজ্জুদের সবচেয়ে উত্তম সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে আমাদের প্রতিপালক পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকবেÑআমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবেÑ আমি তাকে দেব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবেÑ আমি তাকে ক্ষমা করব? ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৪৫)। তাহাজ্জুদের প্রতি নবীজি (সা.)-এর গুরুত্ব রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত কিয়ামুল লাইল তথা রাতের নামাজ আদায় করতেন।
এমনকি অসুস্থতা বা দুর্বলতার সময়ও তা পরিত্যাগ করতেন না। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতের নামাজ কখনো ছেড়ে দিতেন না। অসুস্থতা বা দুর্বলতা অনুভব করলে বসে তা আদায় করতেন। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৩০৯) এ থেকে বোঝা যায়, তাহাজ্জুদ ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত।
তাদের জন্যও ইসলামে রয়েছে সুসংবাদ। জামাতের সঙ্গে এশা ও ফজর নামাজ আদায় তাহাজ্জুদে উঠতে না পারলেও এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করার ব্যাপারে মুমিনের জন্য রয়েছে বড় ফজিলত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল, সে যেন অর্ধরাত নামাজ আদায় করল। আর যে ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল, সে যেন পুরো রাত নামাজ আদায় করল।
’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৫৬) অতএব, একজন মুসলিম যদি নিয়মিত এশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করেন, তবে তিনি রাতের ইবাদতের বিরাট ফজিলত লাভ করতে পারেন। রাতে ১০০ আয়াত কোরআন তিলাওয়াত কোরআন তিলাওয়াত এমন একটি ইবাদত, যার প্রতিটি অক্ষরে রয়েছে সওয়াব। রাতে কোরআন তিলাওয়াতেরও রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে ১০০ আয়াত তিলাওয়াত করবে, তার জন্য পুরো রাত ইবাদত করার সওয়াব লেখা হবে।
’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ১৬৯৫৮) তাই তাহাজ্জুদের জন্য জাগতে না পারলেও রাতে ঘুমানোর আগে কিংবা ইশার পর ১০০ আয়াত তিলাওয়াত করার অভ্যাস করা যেতে পারে। তাহাজ্জুদের নিয়ত করে ঘুমিয়ে পড়া কেউ যদি আন্তরিকভাবে তাহাজ্জুদ আদায়ের নিয়ত করে ঘুমিয়ে পড়েন, কিন্তু প্রবল ঘুমের কারণে জাগতে না পারেন, তবুও তার নিয়ত বৃথা যায় না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে নামাজ পড়ার নিয়ত করে ঘুমিয়ে যায়, কিন্তু ঘুম তাকে পরাস্ত করে এবং সকাল হয়ে যায়, তার জন্য তার নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব লেখা হবে এবং তার ঘুম তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তার জন্য সদকা। ’ (নাসায়ি, হাদিস : ১৭৮৭)।
















