12:19 am, Monday, 12 October 2026

মহাখালীতে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে আ.লীগ নেত্রী নিলুফা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে মামলা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর মহাখালী দক্ষিণপাড়া এলাকায় ফ্ল্যাট বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী নিলুফা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে। একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করার নাম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় তিনি এলাকায় বহাল তবিয়তে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয় ভুক্তভোগীদের। ফ্ল্যাট বাণিজ্যের নামে অভিনব প্রতারণা অনুসন্ধানে জানা যায়, নিলুফা ইয়াসমিন মহাখালী দক্ষিণপাড়া এলাকার ক-ইউনিট আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি এলাকায় একজন ডেভেলপার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

এই পরিচয়ের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ও তৈরি বিভিন্ন প্রজেক্টে একটি মাত্র ফ্ল্যাট একাধিক ক্রেতার কাছে দলিল ও বায়নাপত্র করার মাধ্যমে বিক্রি করেন তিনি। এভাবে ভুয়া ক্রেতা তৈরি করে এবং নানা অজুহাতে অগ্রিম টাকা নিয়ে পরবর্তীতে টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। তার এই প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছেন বহু মধ্যবিত্ত পরিবার।

ভুক্তভোগীদের করা অভিযোগের সত্যতা মিলেছে থানা সূত্রে। নিলুফা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে বনানী থানায় সুনির্দিষ্ট দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি ৮ নম্বর এবং অন্যটিতে ১১ নম্বর মামলার আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত। এ ছাড়া এসব মামলায় অন্যান্য আসামিদের তালিকায় তাকে ২৯ ও ৩১ নম্বরে রাখা আছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও থেমে নেই তার অপতৎপরতা।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে তিনি বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন এবং তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রছায়ায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। নিজের অপকর্ম ঢাকতে এবং ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ করতে তিনি বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ আহমেদ জানান, ‘নিলুফা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে বনানী থানায় সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে।

পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলাগুলো তদন্ত করছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ’ ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা নিলুফা ইয়াসমিনকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের দাবিও জানান তারা। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী নিলুফা বলেছেন, সবগুলো সত্য না কিছু ঘটনা রয়েছে। তবে এই কৈফিয়ত কাউকে দিতে চাই না। আমার নামে মামলা আছে কিনা সেগুলো পুলিশ প্রশাসনের ব্যাপার।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

মুক্তি পেলেন সিজেপির তিন নেতা অভিজিৎ দীপকেসহ অন্যরা

মহাখালীতে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে আ.লীগ নেত্রী নিলুফা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে মামলা

Update Time : 12:46:58 am, Wednesday, 16 September 2026

রাজধানীর মহাখালী দক্ষিণপাড়া এলাকায় ফ্ল্যাট বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী নিলুফা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে। একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করার নাম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় তিনি এলাকায় বহাল তবিয়তে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয় ভুক্তভোগীদের। ফ্ল্যাট বাণিজ্যের নামে অভিনব প্রতারণা অনুসন্ধানে জানা যায়, নিলুফা ইয়াসমিন মহাখালী দক্ষিণপাড়া এলাকার ক-ইউনিট আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি এলাকায় একজন ডেভেলপার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

এই পরিচয়ের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ও তৈরি বিভিন্ন প্রজেক্টে একটি মাত্র ফ্ল্যাট একাধিক ক্রেতার কাছে দলিল ও বায়নাপত্র করার মাধ্যমে বিক্রি করেন তিনি। এভাবে ভুয়া ক্রেতা তৈরি করে এবং নানা অজুহাতে অগ্রিম টাকা নিয়ে পরবর্তীতে টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। তার এই প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছেন বহু মধ্যবিত্ত পরিবার।

ভুক্তভোগীদের করা অভিযোগের সত্যতা মিলেছে থানা সূত্রে। নিলুফা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে বনানী থানায় সুনির্দিষ্ট দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি ৮ নম্বর এবং অন্যটিতে ১১ নম্বর মামলার আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত। এ ছাড়া এসব মামলায় অন্যান্য আসামিদের তালিকায় তাকে ২৯ ও ৩১ নম্বরে রাখা আছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও থেমে নেই তার অপতৎপরতা।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে তিনি বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন এবং তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রছায়ায় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। নিজের অপকর্ম ঢাকতে এবং ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ করতে তিনি বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ আহমেদ জানান, ‘নিলুফা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে বনানী থানায় সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে।

পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলাগুলো তদন্ত করছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ’ ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা নিলুফা ইয়াসমিনকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের দাবিও জানান তারা। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী নিলুফা বলেছেন, সবগুলো সত্য না কিছু ঘটনা রয়েছে। তবে এই কৈফিয়ত কাউকে দিতে চাই না। আমার নামে মামলা আছে কিনা সেগুলো পুলিশ প্রশাসনের ব্যাপার।