7:35 am, Thursday, 1 October 2026

মাঝ আকাশে পাইলটদের সংঘর্ষ, হাইজ্যাকের আশঙ্কায় যুদ্ধবিমান পাঠাল ইসরায়েল

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মাঝ আকাশে দুই পাইলটের মধ্যে মারামারি। এর জেরে জরুরি সংকেত। মুহূর্তেই হাইজ্যাকের আশঙ্কায় তৎপর হয়ে ওঠে ইসরায়েল। পাঠানো হয় যুদ্ধবিমানও। তবে শেষ পর্যন্ত জানা গেল, উড়োজাহাজ ছিনতাই হয়নি; বরং চালককক্ষেই দুই পাইলটের সংঘর্ষের কারণে তৈরি হয়েছিল ভয়াবহ পরিস্থিতি।

বুধবার দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে এ ঘটনা ঘটে। এতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৭ শিশু। উড়োজাহাজটির গন্তব্য ছিল তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঝ আকাশে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে একজন পাইলট অপরজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে এক যাত্রীর বরাতে জানা গেছে।

আহত পাইলটের শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে যাত্রীরা এগিয়ে এসে হামলাকারী পাইলটকে নিবৃত করেন। উড়োজাহাজে থাকা আরও দুই পাইলট তখন নিয়ন্ত্রণ নেন। আহত পাইলটকে একজন দন্তচিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন বলেও এক যাত্রী জানিয়েছেন। ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি প্রথমে জরুরি সংকেত পাঠায়। পরে অবৈধ হস্তক্ষেপ বা ছিনতাইয়ের আশঙ্কা বোঝানো সংকেতও পাঠানো হয়।

এর পরই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সম্ভাব্য হাইজ্যাক হিসেবে বিবেচনা করে। বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে শুরু হয় ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী আকাশে যুদ্ধবিমানও পাঠায়। এদিকে উড়োজাহাজটির গতিপথ বদলে যায়। সেটি ইসরায়েলের দিকে না গিয়ে সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে উড়োজাহাজটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এতে থাকা সব যাত্রী নিরাপদে আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা: নিহত ৫০, জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ

মাঝ আকাশে পাইলটদের সংঘর্ষ, হাইজ্যাকের আশঙ্কায় যুদ্ধবিমান পাঠাল ইসরায়েল

Update Time : 06:02:10 am, Thursday, 1 October 2026

মাঝ আকাশে দুই পাইলটের মধ্যে মারামারি। এর জেরে জরুরি সংকেত। মুহূর্তেই হাইজ্যাকের আশঙ্কায় তৎপর হয়ে ওঠে ইসরায়েল। পাঠানো হয় যুদ্ধবিমানও। তবে শেষ পর্যন্ত জানা গেল, উড়োজাহাজ ছিনতাই হয়নি; বরং চালককক্ষেই দুই পাইলটের সংঘর্ষের কারণে তৈরি হয়েছিল ভয়াবহ পরিস্থিতি।

বুধবার দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে এ ঘটনা ঘটে। এতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৭ শিশু। উড়োজাহাজটির গন্তব্য ছিল তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঝ আকাশে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে একজন পাইলট অপরজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে এক যাত্রীর বরাতে জানা গেছে।

আহত পাইলটের শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে যাত্রীরা এগিয়ে এসে হামলাকারী পাইলটকে নিবৃত করেন। উড়োজাহাজে থাকা আরও দুই পাইলট তখন নিয়ন্ত্রণ নেন। আহত পাইলটকে একজন দন্তচিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন বলেও এক যাত্রী জানিয়েছেন। ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি প্রথমে জরুরি সংকেত পাঠায়। পরে অবৈধ হস্তক্ষেপ বা ছিনতাইয়ের আশঙ্কা বোঝানো সংকেতও পাঠানো হয়।

এর পরই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সম্ভাব্য হাইজ্যাক হিসেবে বিবেচনা করে। বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে শুরু হয় ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী আকাশে যুদ্ধবিমানও পাঠায়। এদিকে উড়োজাহাজটির গতিপথ বদলে যায়। সেটি ইসরায়েলের দিকে না গিয়ে সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে উড়োজাহাজটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এতে থাকা সব যাত্রী নিরাপদে আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।