10:32 am, Saturday, 3 October 2026

ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪ অভিযান, হতাহত ১,৫৪০

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের বিরুদ্ধে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪টি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এসব অভিযানে হুতিদের ১ হাজার ৫৪০ জন যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তারা।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানান, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। হুতিদের বিভিন্ন অবস্থান, সামরিক তৎপরতা, শক্তিবৃদ্ধি এবং যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আল-নাজিলি বলেন, দক্ষিণ হারাদ ও উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু করে কিতাফ, আল-জাওফ, মারিব, আল-বায়দা, লাহজ, সানা ও সা’দাসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে অভিযান চালানো হয়েছে। এসবের মধ্যে তাইজ অঞ্চলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। হুতিদের সম্ভাব্য হুমকির উৎস, যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল, সামরিক শক্তিবৃদ্ধি, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনা ছিল অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দাবি, এসব হামলায় হুতিদের ১ হাজার ৫৪০ জন যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন। হতাহতদের অধিকাংশই তাইজের বিভিন্ন রণাঙ্গনের বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে হুতিদের ২১৬টি সামরিক যান ও অন্যান্য সরঞ্জাম ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন আল-নাজিলি। তিনি আরও বলেন, অভিযানের ফলে তাইজে হুতিদের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

পাশাপাশি স্থলপথে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনের প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। এর আগে তাইজ অঞ্চলে হুতিদের চলাচল ও সামরিক শক্তিবৃদ্ধি ঠেকাতে যুদ্ধবিমান দিয়ে ২০টি হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল সেনাবাহিনী। এ ছাড়া বুধবার তিনটি রণাঙ্গনে হুতি যোদ্ধা ও তাদের সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ৪৬৮টি অভিযান পরিচালনার তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ওই সময়ও বিপুলসংখ্যক হুতি সদস্য হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছিল সেনাবাহিনী। ইয়েমেনজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাতের তীব্রতা বেড়েছে। জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই সামরিক উত্তেজনাকে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ সময়ের অবসান ঘটিয়ে দেশটির অন্যতম বড় সংঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। এরপর থেকে দেশটিতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

দেশের কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি

ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪ অভিযান, হতাহত ১,৫৪০

Update Time : 09:25:27 am, Saturday, 3 October 2026

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের বিরুদ্ধে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪টি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এসব অভিযানে হুতিদের ১ হাজার ৫৪০ জন যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তারা।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানান, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। হুতিদের বিভিন্ন অবস্থান, সামরিক তৎপরতা, শক্তিবৃদ্ধি এবং যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আল-নাজিলি বলেন, দক্ষিণ হারাদ ও উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু করে কিতাফ, আল-জাওফ, মারিব, আল-বায়দা, লাহজ, সানা ও সা’দাসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে অভিযান চালানো হয়েছে। এসবের মধ্যে তাইজ অঞ্চলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। হুতিদের সম্ভাব্য হুমকির উৎস, যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল, সামরিক শক্তিবৃদ্ধি, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনা ছিল অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দাবি, এসব হামলায় হুতিদের ১ হাজার ৫৪০ জন যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন। হতাহতদের অধিকাংশই তাইজের বিভিন্ন রণাঙ্গনের বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে হুতিদের ২১৬টি সামরিক যান ও অন্যান্য সরঞ্জাম ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন আল-নাজিলি। তিনি আরও বলেন, অভিযানের ফলে তাইজে হুতিদের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

পাশাপাশি স্থলপথে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনের প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। এর আগে তাইজ অঞ্চলে হুতিদের চলাচল ও সামরিক শক্তিবৃদ্ধি ঠেকাতে যুদ্ধবিমান দিয়ে ২০টি হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল সেনাবাহিনী। এ ছাড়া বুধবার তিনটি রণাঙ্গনে হুতি যোদ্ধা ও তাদের সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ৪৬৮টি অভিযান পরিচালনার তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ওই সময়ও বিপুলসংখ্যক হুতি সদস্য হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছিল সেনাবাহিনী। ইয়েমেনজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাতের তীব্রতা বেড়েছে। জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই সামরিক উত্তেজনাকে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ সময়ের অবসান ঘটিয়ে দেশটির অন্যতম বড় সংঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। এরপর থেকে দেশটিতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।