লোহাগাড়ায় বনাঞ্চলের পাশে পরিবেশের ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই শতাধিক করাতকল গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব করাতকল চালু থাকলেও কার্যকর নজরদারি ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনাঞ্চল-সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে করাতকল স্থাপন করা হয়েছে। এসব করাতকলের কয়েকটির বিরুদ্ধে বন বিভাগের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালা, ২০১২-এর ৭ ধারায় সরকারি বনভূমির সীমানা থেকে ন্যূনতম ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন ও পরিচালনা না করার বিধান রয়েছে।
একই বিধিমালায় সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারেÑ এমন স্থান থেকেও নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে করাতকল গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে দরবেশহাট, চরম্বা বাজার, উত্তর কলাউজান রবারড্যাডম, দরবেশহাট, আধুনগর বাজার এলাকায় এর ঘনত্ব বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে আধুনগর ইউনিয়নের ফার্নিচার মার্কেট এলাকায় শতাধিক আসবাবপত্র তৈরির দোকান রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব দোকানের চাহিদা মেটাতে বাজারের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রায় ৯টি করাতকল স্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চুনতি ও পদুয়া রেঞ্জের বনাঞ্চল থেকে রাতের আঁধারে সেগুন, আকাশমনি ও অন্যান্য প্রজাতির গাছ কেটে আধুনগর এলাকার এসব করাতকলে এনে জমা করা হয়।
তবে বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটার এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্যে আধুনগরের ওই করাতকলগুলোর সঙ্গে নেচার উদ্দীন, সাইফুল আলম, মিনহাজ, ইউচুপ, মাইনুদ্দীন, ইয়াছিন, শহীদ ও নাজিম উদ্দীনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব করাতকলের মালিক বা পরিচালনাকারী কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। এদিকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেছেন, অবৈধভাবে করাতকল স্থাপন দ-নীয় অপরাধ।
অবৈধ করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধ করাতকলের বিষয়ে কার্যকর তদন্ত, প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাই এবং বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




















