4:08 am, Monday, 5 October 2026

সোনারগাঁর কাঁচপুরে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে হাজারো পরিবার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সোনারগাঁর কাঁচপুর ইউনিয়নের পাটাত্তা গ্রামে জলাবদ্ধতা যেন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় বাড়ির উঠান, রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও মসজিদের সামনের অংশ। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের বাসিন্দারা।

পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে মশার উপদ্রব ও বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি। স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় পাটাত্তা গ্রামে জলাবদ্ধতার সমস্যা ছিল না। তবে কাঁচপুর বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য গ্রামের পাশের একটি বড় জলাশয় বালু দিয়ে ভরাট করার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। পাশাপাশি আশপাশের খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না।

দীর্ঘদিনেও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় প্রতিবছরই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সম্প্রতি এক দিনের বৃষ্টিতে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমে যায়। পানি ঢুকে পড়ে বসতবাড়ি ও দোকানপাটে। কোথাও কোথাও সেচপাম্পের সাহায্যে পানি সরানোর চেষ্টা করেছেন বাসিন্দারা। কিন্তু পানি বের হওয়ার স্থায়ী পথ না থাকায় কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির উঠানে জমে আছে বৃষ্টির পানি। কোথাও বাড়ি থেকে রাস্তায় চলাচলের জন্য বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী পথ তৈরি করা হয়েছে। আবার কোথাও গাছের গুঁড়ি ও সিমেন্টের পাটাতন বিছিয়ে পানির ওপর দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। মসজিদের সামনের অংশেও জমে রয়েছে পানি। দোকানপাটের সামনে পানি থাকায় ব্যবসায়ীদেরও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে বাড়তি দুর্ভোগ। পাটাত্তা গ্রামের বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই তাদের বাড়িঘর ও রাস্তায় পানি ওঠে। সম্প্রতি বৃষ্টির পানি তার দোকানে ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে। পানির মধ্যে বসে দোকান পরিচালনা করতে গিয়ে তার ছেলে কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। জলাবদ্ধতার কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও সমস্যা হচ্ছে।

এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত ড্রেন নির্মাণের দাবি জানান তিনি। স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফর খন্দকার বলেন, বছরের বড় একটি সময় পাটাত্তা গ্রামের মানুষকে পানির মধ্যে বসবাস করতে হয়। শিক্ষার্থীদের পানি মাড়িয়ে স্কুল ও মাদ্রাসায় যেতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন নোংরা পানিতে চলাচলের কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে জ্বর, চুলকানি ও খোসপাঁচড়াসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

পানি বাড়লে রাস্তাঘাটের আবর্জনা মিশে পরিবেশ আরও দূষিত হয়ে পড়ে। আরেক বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, কাঁচপুর এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বালু দিয়ে জমি ভরাট করা হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশনের খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। সেচপাম্প দিয়ে সাময়িকভাবে পানি সরানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

মোজাম্মেল খন্দকার বলেন, বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ার পর তা বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকছে। এতে মশার উপদ্রব বেড়েছে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। কাঁচপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, পাটাত্তা গ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণের একটি প্রকল্প প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে এ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি। এ বিষয়ে ইউএনও আসিফ আল জিনাত বলেন, পাটাত্তা গ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টি তার জানা ছিল না। এলাকাটি জনবহুল ও বিস্তৃত হওয়ায় স্বল্প অর্থায়নে বড় ধরনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা কঠিন। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

সোনারগাঁর কাঁচপুরে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে হাজারো পরিবার

সোনারগাঁর কাঁচপুরে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে হাজারো পরিবার

Update Time : 03:20:34 am, Monday, 5 October 2026

সোনারগাঁর কাঁচপুর ইউনিয়নের পাটাত্তা গ্রামে জলাবদ্ধতা যেন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় বাড়ির উঠান, রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও মসজিদের সামনের অংশ। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের বাসিন্দারা।

পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে মশার উপদ্রব ও বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি। স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় পাটাত্তা গ্রামে জলাবদ্ধতার সমস্যা ছিল না। তবে কাঁচপুর বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য গ্রামের পাশের একটি বড় জলাশয় বালু দিয়ে ভরাট করার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। পাশাপাশি আশপাশের খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না।

দীর্ঘদিনেও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় প্রতিবছরই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সম্প্রতি এক দিনের বৃষ্টিতে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমে যায়। পানি ঢুকে পড়ে বসতবাড়ি ও দোকানপাটে। কোথাও কোথাও সেচপাম্পের সাহায্যে পানি সরানোর চেষ্টা করেছেন বাসিন্দারা। কিন্তু পানি বের হওয়ার স্থায়ী পথ না থাকায় কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির উঠানে জমে আছে বৃষ্টির পানি। কোথাও বাড়ি থেকে রাস্তায় চলাচলের জন্য বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী পথ তৈরি করা হয়েছে। আবার কোথাও গাছের গুঁড়ি ও সিমেন্টের পাটাতন বিছিয়ে পানির ওপর দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। মসজিদের সামনের অংশেও জমে রয়েছে পানি। দোকানপাটের সামনে পানি থাকায় ব্যবসায়ীদেরও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে বাড়তি দুর্ভোগ। পাটাত্তা গ্রামের বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই তাদের বাড়িঘর ও রাস্তায় পানি ওঠে। সম্প্রতি বৃষ্টির পানি তার দোকানে ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে। পানির মধ্যে বসে দোকান পরিচালনা করতে গিয়ে তার ছেলে কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। জলাবদ্ধতার কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও সমস্যা হচ্ছে।

এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত ড্রেন নির্মাণের দাবি জানান তিনি। স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফর খন্দকার বলেন, বছরের বড় একটি সময় পাটাত্তা গ্রামের মানুষকে পানির মধ্যে বসবাস করতে হয়। শিক্ষার্থীদের পানি মাড়িয়ে স্কুল ও মাদ্রাসায় যেতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন নোংরা পানিতে চলাচলের কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে জ্বর, চুলকানি ও খোসপাঁচড়াসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

পানি বাড়লে রাস্তাঘাটের আবর্জনা মিশে পরিবেশ আরও দূষিত হয়ে পড়ে। আরেক বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, কাঁচপুর এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বালু দিয়ে জমি ভরাট করা হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশনের খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। সেচপাম্প দিয়ে সাময়িকভাবে পানি সরানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

মোজাম্মেল খন্দকার বলেন, বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ার পর তা বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকছে। এতে মশার উপদ্রব বেড়েছে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। কাঁচপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, পাটাত্তা গ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণের একটি প্রকল্প প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে এ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি। এ বিষয়ে ইউএনও আসিফ আল জিনাত বলেন, পাটাত্তা গ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টি তার জানা ছিল না। এলাকাটি জনবহুল ও বিস্তৃত হওয়ায় স্বল্প অর্থায়নে বড় ধরনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা কঠিন। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।