4:14 am, Tuesday, 6 October 2026

কাতার থেকে এলএনজি আমদানি অনিশ্চিত: গ্যাস সংকটে কি বাড়বে রান্নার গ্যাসের দুর্ভোগ?

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কাতার থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত। দেশে গ্যাসের চাহিদা আর সরবরাহের ব্যবধানও বড়। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কী করবে? এই প্রশ্ন শুধু শিল্পকারখানা বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নয়—প্রশ্নটা আপনার রান্নাঘরেও। কারণ পাইপলাইনের গ্যাসে চাপ কমলেই মানুষ ছুটছে এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে। আর সেখানেও শুরু হয়েছে নতুন সংকট—সরকারি দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার।

অর্থাৎ, একদিকে এলএনজি সরবরাহে আন্তর্জাতিক ঝুঁকি, অন্যদিকে দেশে গ্যাসের ঘাটতি, আর তার ওপর এলপিজির বাড়তি দাম। বাংলাদেশের গ্যাস সংকটটা আসলে কতটা গভীর? চলুন এ বিষয়ে আলোচনায় যাওয়া যাক।

শুরুতেই আসি কাতারের কথায়। ২৮ সেপ্টেম্বর কাতারএনার্জি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ এশিয়ার কয়েকটি ক্রেতার এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজর নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ইতালির এডিসনের ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত গড়িয়েছে। এর মানে কিন্তু বাংলাদেশকে আলাদা করে টার্গেট করা হচ্ছে—এমন নয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকটেই কাতারের এলএনজি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে।

তবে কাতার পুরোপুরি এলএনজি রপ্তানি বন্ধ করেনি। সেপ্টেম্বরেও হরমুজ দিয়ে কিছু চালান গেছে। অর্থাৎ গ্যাস একেবারে বন্ধ নয়। কিন্তু অনিশ্চয়তা অনেক বেড়েছে।

আর বাংলাদেশের জন্য সেটাই বড় চিন্তার বিষয়। কারণ দেশের গ্যাস সরবরাহে এলএনজির ওপর এখন বড় নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।

এবার আসি দেশের হিসেবে। বাংলাদেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৬ থেকে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনফুট।

এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন। আর এলএনজি থেকে আসছে প্রায় ১ বিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ দশমিক ১ থেকে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ঘনফুট।

পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমছে। নতুন কূপ ও অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো সেই ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে এলএনজির ওপর নির্ভরতা। কিন্তু এলএনজি আমদানি করাও সহজ নয়।

ডলার লাগবে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হবে, জাহাজে করে গ্যাস আনতে হবে। আর এখন এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যুদ্ধ আর সমুদ্রপথের নিরাপত্তাঝুঁকি।

মহেশখালীর টার্মিনাল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে ঢোকে মূলত মহেশখালীর দুটি এফএসআরইউ বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে। সহজ করে বললে, এগুলো গ্যাসের গুদাম নয়। জাহাজে করে এলএনজি আসে। এরপর টার্মিনাল সেই এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে পাঠায়। তাই টার্মিনালে সমস্যা মানেই সরবরাহে ধাক্কা।

জুলাইয়ে একটি এফএসআরইউতে দুর্ঘটনার পর গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছিল। পরে মেরামতের পর সরবরাহ বাড়ে। এরপর সেপ্টেম্বরে খারাপ আবহাওয়ার কারণেও এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়।

অর্থাৎ, একটি টার্মিনালের সমস্যা, একটি ঝড় কিংবা হরমুজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের সংকট—যেকোনো একটি ঘটনাই বাংলাদেশের গ্যাস ব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

এবার এর প্রভাবটা দেখুন আপনার ঘরে। পাইপলাইনের গ্যাসে চাপ কমলে মানুষ বিকল্প হিসেবে এলপিজি কিনছে। সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ২ হাজার টাকা বা তার বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ এসেছে।

কোথাও কোথাও সরকারি দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। সরকার ও আমদানিকারকদের দাবি, দেশে সামগ্রিকভাবে এলপিজির ঘাটতি নেই। সমস্যা হচ্ছে খুচরা বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ।

এ কারণে বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসনকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সমস্যা শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে নয়। দেশের ভেতরের সরবরাহ ব্যবস্থাপনাও এখানে বড় বিষয়।

তাহলে এখন বাংলাদেশের করণীয় কী? স্বল্পমেয়াদে কাতারের সরবরাহ অনিশ্চিত হলে ওমান, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য উৎস এবং স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হবে।

কিন্তু শুধু আমদানি বাড়ালেই তো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বাড়বে বাংলাদেশের আমদানি খরচও। আর শীতের মৌসুমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে এলএনজি নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

তাই দীর্ঘমেয়াদে দরকার নিজেদের গ্যাসের উৎস বাড়ানো। স্থল ও গভীর সমুদ্রে দ্রুত অনুসন্ধান, নতুন কূপ খনন এবং বিদ্যুৎ ও শিল্পে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো—এই কাজগুলোই গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ সমস্যা শুধু চুলায় আজ গ্যাস আছে কি না—তা নয়। একটা এলএনজি জাহাজ দেরি করলে চাপ পড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে। ব্যাহত হয় কারখানার উৎপাদন। বাড়ে উৎপাদন খরচ। আর শেষ পর্যন্ত সেই চাপ গিয়ে পড়ে আপনার রান্নাঘর, বাজার আর পকেটে।

তাই এখন প্রশ্ন একটাই— কাতারের এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত হলে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত? একটা জাহাজ না এলেও যেন থেমে না যায় দেশের চুলা, কারখানা আর বিদ্যুৎকেন্দ্র—সেই প্রস্তুতি কি এখনই নেওয়া হচ্ছে?

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

বাউবিতে মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু

কাতার থেকে এলএনজি আমদানি অনিশ্চিত: গ্যাস সংকটে কি বাড়বে রান্নার গ্যাসের দুর্ভোগ?

Update Time : 12:35:27 am, Tuesday, 6 October 2026

কাতার থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত। দেশে গ্যাসের চাহিদা আর সরবরাহের ব্যবধানও বড়। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কী করবে? এই প্রশ্ন শুধু শিল্পকারখানা বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নয়—প্রশ্নটা আপনার রান্নাঘরেও। কারণ পাইপলাইনের গ্যাসে চাপ কমলেই মানুষ ছুটছে এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে। আর সেখানেও শুরু হয়েছে নতুন সংকট—সরকারি দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার।

অর্থাৎ, একদিকে এলএনজি সরবরাহে আন্তর্জাতিক ঝুঁকি, অন্যদিকে দেশে গ্যাসের ঘাটতি, আর তার ওপর এলপিজির বাড়তি দাম। বাংলাদেশের গ্যাস সংকটটা আসলে কতটা গভীর? চলুন এ বিষয়ে আলোচনায় যাওয়া যাক।

শুরুতেই আসি কাতারের কথায়। ২৮ সেপ্টেম্বর কাতারএনার্জি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ এশিয়ার কয়েকটি ক্রেতার এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজর নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ইতালির এডিসনের ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত গড়িয়েছে। এর মানে কিন্তু বাংলাদেশকে আলাদা করে টার্গেট করা হচ্ছে—এমন নয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকটেই কাতারের এলএনজি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে।

তবে কাতার পুরোপুরি এলএনজি রপ্তানি বন্ধ করেনি। সেপ্টেম্বরেও হরমুজ দিয়ে কিছু চালান গেছে। অর্থাৎ গ্যাস একেবারে বন্ধ নয়। কিন্তু অনিশ্চয়তা অনেক বেড়েছে।

আর বাংলাদেশের জন্য সেটাই বড় চিন্তার বিষয়। কারণ দেশের গ্যাস সরবরাহে এলএনজির ওপর এখন বড় নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।

এবার আসি দেশের হিসেবে। বাংলাদেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৬ থেকে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনফুট।

এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন। আর এলএনজি থেকে আসছে প্রায় ১ বিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ দশমিক ১ থেকে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ঘনফুট।

পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমছে। নতুন কূপ ও অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো সেই ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে এলএনজির ওপর নির্ভরতা। কিন্তু এলএনজি আমদানি করাও সহজ নয়।

ডলার লাগবে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হবে, জাহাজে করে গ্যাস আনতে হবে। আর এখন এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যুদ্ধ আর সমুদ্রপথের নিরাপত্তাঝুঁকি।

মহেশখালীর টার্মিনাল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে ঢোকে মূলত মহেশখালীর দুটি এফএসআরইউ বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে। সহজ করে বললে, এগুলো গ্যাসের গুদাম নয়। জাহাজে করে এলএনজি আসে। এরপর টার্মিনাল সেই এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে পাঠায়। তাই টার্মিনালে সমস্যা মানেই সরবরাহে ধাক্কা।

জুলাইয়ে একটি এফএসআরইউতে দুর্ঘটনার পর গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছিল। পরে মেরামতের পর সরবরাহ বাড়ে। এরপর সেপ্টেম্বরে খারাপ আবহাওয়ার কারণেও এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়।

অর্থাৎ, একটি টার্মিনালের সমস্যা, একটি ঝড় কিংবা হরমুজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের সংকট—যেকোনো একটি ঘটনাই বাংলাদেশের গ্যাস ব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

এবার এর প্রভাবটা দেখুন আপনার ঘরে। পাইপলাইনের গ্যাসে চাপ কমলে মানুষ বিকল্প হিসেবে এলপিজি কিনছে। সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ২ হাজার টাকা বা তার বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ এসেছে।

কোথাও কোথাও সরকারি দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। সরকার ও আমদানিকারকদের দাবি, দেশে সামগ্রিকভাবে এলপিজির ঘাটতি নেই। সমস্যা হচ্ছে খুচরা বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ।

এ কারণে বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসনকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সমস্যা শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে নয়। দেশের ভেতরের সরবরাহ ব্যবস্থাপনাও এখানে বড় বিষয়।

তাহলে এখন বাংলাদেশের করণীয় কী? স্বল্পমেয়াদে কাতারের সরবরাহ অনিশ্চিত হলে ওমান, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য উৎস এবং স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হবে।

কিন্তু শুধু আমদানি বাড়ালেই তো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বাড়বে বাংলাদেশের আমদানি খরচও। আর শীতের মৌসুমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে এলএনজি নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

তাই দীর্ঘমেয়াদে দরকার নিজেদের গ্যাসের উৎস বাড়ানো। স্থল ও গভীর সমুদ্রে দ্রুত অনুসন্ধান, নতুন কূপ খনন এবং বিদ্যুৎ ও শিল্পে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো—এই কাজগুলোই গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ সমস্যা শুধু চুলায় আজ গ্যাস আছে কি না—তা নয়। একটা এলএনজি জাহাজ দেরি করলে চাপ পড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে। ব্যাহত হয় কারখানার উৎপাদন। বাড়ে উৎপাদন খরচ। আর শেষ পর্যন্ত সেই চাপ গিয়ে পড়ে আপনার রান্নাঘর, বাজার আর পকেটে।

তাই এখন প্রশ্ন একটাই— কাতারের এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত হলে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত? একটা জাহাজ না এলেও যেন থেমে না যায় দেশের চুলা, কারখানা আর বিদ্যুৎকেন্দ্র—সেই প্রস্তুতি কি এখনই নেওয়া হচ্ছে?