ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাথরুম থেকে বারডেম হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স তন্ময়ী মন্ডলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, প্রেমিকের মরদেহ মর্গে দেখে শোক সইতে না পেরে নিজের হাত কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
নিহত তন্ময়ী মন্ডল বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মৃত বিভূতি মন্ডলের মেয়ে। তিনি ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন, প্রায় এক মাস আগে বারডেম হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে যোগ দেন। তার মরদেহ শনাক্ত করেন তার বোন তন্দ্রা মন্ডল। যা ঘটেছিল পুলিশ জানায়, তন্ময়ীর প্রেমিক আকাশ মিত্র গতকাল রবিবার বিকেলে কেরানীগঞ্জের বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) তার মরদেহের ময়নাতদন্ত হয় ঢামেক মর্গে। ওই সময় তন্ময়ী মর্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রেমিকের মরদেহ দেখার পর তিনি হাসপাতালের ভেতরেই নিজের হাত নিজে কাটেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় পুরোনো ভবনের নিচতলার বাথরুমে ঢুকে গলায় ফাঁস দেন। কাটা হাতের রক্ত তার সারা শরীরে লেগে যায়। প্রেমিকের সুইসাইড নোট এদিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, পিরোজপুর জেলার মটবাড়িয়া উপজেলার মাখন চন্দ্র মিত্রের ছেলে আকাশ।
বর্তমানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মালোপাড়া মিন্টু হাজীর গলিতে থাকতো। তিনি আরো জানান, আকাশ মিত্র আর্থিক সংকট ও ঋণে জর্জরিত হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া চিরকুটে তিনি লিখেছেন, “পৃথিবী ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে না, কিন্তু টাকা নেই। ” চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তন্ময়ী তার কাছে টাকা পাবেন, তবে পরিমাণ জানা নেই।
তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন বলেও লিখে যান। তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক ছিলেন। বোনের অভিযোগ বোন তন্দ্রা মন্ডল বলেন, আকাশের সঙ্গে তন্ময়ীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আকাশ বিভিন্ন অজুহাতে তন্ময়ীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়েছিল, যা তন্ময়ী অন্যের কাছ থেকে ধার করেছিল। প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। পুলিশ যা বলছে শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “ভেতরে অনেক রহস্য আছে।
আমরা সেগুলো বের করার চেষ্টা করছি। ” নিহত নারী তার এক বান্ধবীর এনআইডি কার্ড দিয়ে মোবাইলের সিম তুলেছিলেন বলেও জানান তিনি। শাহবাগ থানার এসআই মাহফুজা আক্তার জানান, প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম ফরহাদ হোসাইন বলেন, ‘পুরো বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।
সিসিটিভির ফুটেজ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ’ তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুজেটে তাকে হাসপাতালের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেছে। তার সঙ্গে কেউ ছিল না। তবে বাথরুমে যাওয়া পর্যন্তই তাকে দেখা গেছে।





















