7:56 am, Friday, 9 October 2026

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভাকে বড়লোকের বস্তি বললেন স্থানীয় সংসদ সদস্য

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

১৮.০৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় পাকা দালানের সংখ্যা ৩৪ থেকে ৩৫ হাজার। যার বেশীর ভাগই বহুতল। বিল্ডিংয়ের গা ঘেষে বিল্ডিং। ১৮৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভার মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে এখন। বৃহস্পতিবার খসড়া মহাপরিকল্পনা উপস্থাপনা কর্মশালায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন।

সংসদ সদস্য বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা একটা বড়লোকের বস্তি। এই পৌরসভায় অনেক মেয়র ছিল। তারা কিন্তু কেউই তাদের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে এটাকে ঠিকমতো এ্যাড্রেস করেনি। এর দায়দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে, যারা মেয়র ছিলেন। আমি মনে করি সবার গাফিলতির জবাব দিতে হবে, এই ধ্বংসজজ্ঞের কারণে।’

খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল আরও বলেন, ‘এটা আসলে পৌরসভা নয়, বড় লোকের বস্তি। এখানে ড্রেনেজের কোনো প্রকল্প নাই, রাস্তা ছাড়াছাড়ির কোনো নিয়ম নাই। বিল্ডিংগুলো যে করছে, কোথায় রাস্তা হবে? একটা ৬ ফুট রাস্তার ওপর ১০ তলা বিল্ডিং। বিগত দিনে যারা মেয়র ছিল তাদেরও এই দায় দায়িত্ব নিতে হবে। অনেকে আজকে লম্বা লম্বা কথা বলে। এগুলোর কোনো সুযোগ নাই।’

নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘শেলটেক কনসালট্যান্টস (প্রা.) লি.’ তাদের প্রস্তুতকৃত খসড়া মহাপরিকল্পনা ও প্রেজেন্টেশন তুলে ধরে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম।

এছাড়া কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, এডিবি ও এএফডি এর প্রতিনিধি, পৌরসভার প্রকৌশলী, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৯৩৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভাকে বড়লোকের বস্তি বললেন স্থানীয় সংসদ সদস্য

Update Time : 07:03:39 am, Friday, 9 October 2026

১৮.০৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় পাকা দালানের সংখ্যা ৩৪ থেকে ৩৫ হাজার। যার বেশীর ভাগই বহুতল। বিল্ডিংয়ের গা ঘেষে বিল্ডিং। ১৮৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভার মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে এখন। বৃহস্পতিবার খসড়া মহাপরিকল্পনা উপস্থাপনা কর্মশালায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন।

সংসদ সদস্য বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা একটা বড়লোকের বস্তি। এই পৌরসভায় অনেক মেয়র ছিল। তারা কিন্তু কেউই তাদের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে এটাকে ঠিকমতো এ্যাড্রেস করেনি। এর দায়দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে, যারা মেয়র ছিলেন। আমি মনে করি সবার গাফিলতির জবাব দিতে হবে, এই ধ্বংসজজ্ঞের কারণে।’

খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল আরও বলেন, ‘এটা আসলে পৌরসভা নয়, বড় লোকের বস্তি। এখানে ড্রেনেজের কোনো প্রকল্প নাই, রাস্তা ছাড়াছাড়ির কোনো নিয়ম নাই। বিল্ডিংগুলো যে করছে, কোথায় রাস্তা হবে? একটা ৬ ফুট রাস্তার ওপর ১০ তলা বিল্ডিং। বিগত দিনে যারা মেয়র ছিল তাদেরও এই দায় দায়িত্ব নিতে হবে। অনেকে আজকে লম্বা লম্বা কথা বলে। এগুলোর কোনো সুযোগ নাই।’

নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘শেলটেক কনসালট্যান্টস (প্রা.) লি.’ তাদের প্রস্তুতকৃত খসড়া মহাপরিকল্পনা ও প্রেজেন্টেশন তুলে ধরে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম।

এছাড়া কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, এডিবি ও এএফডি এর প্রতিনিধি, পৌরসভার প্রকৌশলী, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।