নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সহযোগীদের গুলিতে সাহেব আলী (৪৫) নামে এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াবদা কলোনির বউবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তাকে গুলি করার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে মো. সজিবের দাবি, স্থানীয় রনিসহ কয়েকজন তার বাবার নাম ব্যবহার করে এলাকায় চাঁদাবাজি করতেন। বিষয়টি জানতে পেরে তার বাবা তাদের বাধা দেন। এ বিরোধের জেরেই তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সজিব জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনি এলাকায় তাদের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বউবাজার এলাকায় বালুর ব্যবসা করতেন।
সোমবার বিকেলে একটি ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন তার বাবা। কিছুক্ষণ পর খবর আসে, বউবাজার এলাকায় তাকে গুলি করে খালের ভেতরে ফেলে রাখা হয়েছে। পরে স্বজনেরা আহত অবস্থায় সাহেব আলীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সজিবের অভিযোগ, রনিসহ আরও চার-পাঁচজন তার বাবার কপাল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি করেন।
এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়েও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, সোমবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের ওয়াপদা কলোনি এলাকার ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে পুলিশের তালিকভুক্ত সন্ত্রাসী প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয় পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।
তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে আছি। সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। সন্ত্রাসী সাহেব আলীকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সে পানিতে পরে গেলে মৃত্যু নিশ্চিত করতে পরে তাকে আরও দুটি গুলি করা হয়েছে। এসআরবি সূত্রে জানা যায়, সাহেব আলীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ২০টি মামলা রয়েছে।
এসব মামলার মধ্যে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সাতটি, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত দুটি, নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও নাশকতার তিনটি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাঁচটি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের ছদ্মবেশে ডাকাতির দুটি মামলা রয়েছে।





















