4:49 am, Thursday, 5 November 2026

বাঁশের কঞ্চি ও ডাল পুঁতে পাখি দিয়ে ক্ষতিকর পোকা দমন করছেন কৃষকেরা

বাঁশের কঞ্চি ও ডাল পুঁতে পাখি দিয়ে ক্ষতিকর পোকা দমন করছেন কৃষকেরা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আক্কেলপুরে ধানখেতে পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহারের চিরচেনা দৃশ্য বদলাতে শুরু করেছে। ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে এখন ধানখেতে গাছের ডালপালা, বাঁশের কঞ্চি ও ধইঞ্চাগাছ পুঁতে রাখা হচ্ছে। এসব ডালে বসে ফিঙে ও শালিকের মতো পোকাখেকো পাখি ধানখেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলছে।

এতে কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ সাশ্রয়ের আশা করছেন কৃষকেরা। কৃষিতে প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমনের এ কৌশল পরিচিত ‘পার্চিং’ নামে। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকার ধানখেত ঘুরে দেখা যায়, কোথাও ধানের সারির মধ্যে গাছের ডাল পুঁতে রাখা ও কোথাও আবার সারি করে লাগানো হয়েছে ধইঞ্চাগাছ। কৃষকদের উদ্দেশ্য একটাইÑ ধানখেতে পাখি টেনে এনে তাদের দিয়েই প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করা।

এতে বারবার কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন কমবে বলে আশা তাদের। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৫২০ হেক্টর জমির ধানখেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন কৃষকেরা। আলী মামুদ গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ধইঞ্চাগাছে পাখি বসে ক্ষতিকর পোকা খায়। আবার ধইঞ্চাগাছের পাতা পচে জমিতে জৈবসার তৈরি হয়।

এতে পোকা দমনের পাশাপাশি জমির উর্বরতা বাড়াতেও সুবিধা হচ্ছে। আলাদীপুর গ্রামের কৃষক আফতাবুল ইসলাম বলেন, ‘আগে ধানখেতে পোকা দেখা দিলেই কীটনাশক ছিটাতাম। এতে খরচ বাড়ত। এবার খেতের বিভিন্ন জায়গায় গাছের ডাল পুঁতে রেখেছি। পাখি এসে ডালে বসে পোকামাকড় খাচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় কীটনাশক কম ব্যবহার করতে হচ্ছে। ’ কৃষকেরা মূলত দুই ধরনের পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেনÑ ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং।

ডেড পার্চিংয়ে ধানখেতে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি বা খুঁটি পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে লাইভ পার্চিংয়ে ধইঞ্চাসহ উপযোগী গাছ লাগানো হয়। কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, পার্চিং পদ্ধতি ধানখেতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনের একটি সহজ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব উপায়। ধানখেতে ডালপালা, বাঁশের কঞ্চি ও ধইঞ্চাগাছ পুঁতে দিলে ফিঙে, শালিকসহ বিভিন্ন পোকাখেকো পাখি সেখানে বসে ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলে।

এতে প্রাকৃতিকভাবেই পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ও উৎপাদন খরচ কমে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

প্রকাশিত হলো সিটি ব্যাংকের ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন, মুনাফা বাড়ল ২০ শতাংশ

বাঁশের কঞ্চি ও ডাল পুঁতে পাখি দিয়ে ক্ষতিকর পোকা দমন করছেন কৃষকেরা

Update Time : 04:04:37 am, Thursday, 5 November 2026

আক্কেলপুরে ধানখেতে পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহারের চিরচেনা দৃশ্য বদলাতে শুরু করেছে। ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে এখন ধানখেতে গাছের ডালপালা, বাঁশের কঞ্চি ও ধইঞ্চাগাছ পুঁতে রাখা হচ্ছে। এসব ডালে বসে ফিঙে ও শালিকের মতো পোকাখেকো পাখি ধানখেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলছে।

এতে কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ সাশ্রয়ের আশা করছেন কৃষকেরা। কৃষিতে প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমনের এ কৌশল পরিচিত ‘পার্চিং’ নামে। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকার ধানখেত ঘুরে দেখা যায়, কোথাও ধানের সারির মধ্যে গাছের ডাল পুঁতে রাখা ও কোথাও আবার সারি করে লাগানো হয়েছে ধইঞ্চাগাছ। কৃষকদের উদ্দেশ্য একটাইÑ ধানখেতে পাখি টেনে এনে তাদের দিয়েই প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করা।

এতে বারবার কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন কমবে বলে আশা তাদের। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৫২০ হেক্টর জমির ধানখেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন কৃষকেরা। আলী মামুদ গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ধইঞ্চাগাছে পাখি বসে ক্ষতিকর পোকা খায়। আবার ধইঞ্চাগাছের পাতা পচে জমিতে জৈবসার তৈরি হয়।

এতে পোকা দমনের পাশাপাশি জমির উর্বরতা বাড়াতেও সুবিধা হচ্ছে। আলাদীপুর গ্রামের কৃষক আফতাবুল ইসলাম বলেন, ‘আগে ধানখেতে পোকা দেখা দিলেই কীটনাশক ছিটাতাম। এতে খরচ বাড়ত। এবার খেতের বিভিন্ন জায়গায় গাছের ডাল পুঁতে রেখেছি। পাখি এসে ডালে বসে পোকামাকড় খাচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় কীটনাশক কম ব্যবহার করতে হচ্ছে। ’ কৃষকেরা মূলত দুই ধরনের পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেনÑ ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং।

ডেড পার্চিংয়ে ধানখেতে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি বা খুঁটি পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে লাইভ পার্চিংয়ে ধইঞ্চাসহ উপযোগী গাছ লাগানো হয়। কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, পার্চিং পদ্ধতি ধানখেতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনের একটি সহজ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব উপায়। ধানখেতে ডালপালা, বাঁশের কঞ্চি ও ধইঞ্চাগাছ পুঁতে দিলে ফিঙে, শালিকসহ বিভিন্ন পোকাখেকো পাখি সেখানে বসে ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলে।

এতে প্রাকৃতিকভাবেই পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ও উৎপাদন খরচ কমে।