পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের স্কুল মাঠে বীজতলা করা সেই বিতর্কিত ৫৫নং দক্ষিণ খারিজা বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি ঘিরেই ৩ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
গত বছর এই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে অবৈধভাবে ধানের বীজতলা তৈরি করার কারণে একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। এবার সেই বিতর্কিত স্কুলেই ভোটকেন্দ্র বহাল রাখতে অবৈধ অর্থ লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সরাসরি ঘুষ লেনদেনের ভিডিও না থাকলেও, ঘুষ দাতা স্বয়ং বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হারুন বেপারী নিজ মুখে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওর নিচে সাধারণ মানুষের কমেন্ট বা মন্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষই চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ঘুষ নেওয়া এবং দেওয়া—দুটোই সমান অপরাধ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্যকারীরা জোরালো দাবি তুলছেন যে, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ঘুষ দাতা মো. হারুন বেপারী এবং অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ হাওলাদার—উভয়কেই অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক। এদিকে ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার এই মরিয়া হওয়ার চেষ্টার পেছনে এক চাঞ্চল্যকর পারিবারিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অত্র ৫নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য (মেম্বার) হচ্ছেন হারুন বেপারীর জামাতা মো. জসিম মাতব্বর।
আর এই ৫৫নং দক্ষিণ খারিজা বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি মেম্বার জসিম মাতব্বরের বাড়ির পাশেই অবস্থিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজের জামাতাকে পুনরায় মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করার উদ্দেশ্যে এবং ভোটকেন্দ্রটি মেম্বারের বাড়ির পাশে থাকলে নির্বাচনি মাঠে কিছুটা বাড়তি সুবিধা লুটতে পারবেন—এমন সমীকরণ থেকেই হারুন বেপারী নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ হাওলাদারকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দিতে পারেন বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, হারুন বেপারী নিজেই স্বীকার করেছেন যে, ভোটকেন্দ্রটি নির্দিষ্ট স্থানে বহাল রাখার তদ্বির হিসেবে তিনি পর্যায়ক্রমে মোট ৩ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ঘুষ দেওয়ার প্রথম পর্যায়ে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি কালাম পঞ্চায়েত।
এ বিষয়ে কালাম পঞ্চায়েতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং জানান যে, নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ হাওলাদারকে ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার জন্য কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে এবং সেই ঘুষের টাকা ফেরতও এনে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘুষ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। টাকা নেওয়া কিংবা ফেরত দেওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তবে মাঠ দখল করে বীজতলা তৈরির পুরোনো বিতর্ক এবং বর্তমানে রাজনৈতিক নেতার এই আত্মস্বীকৃতির ভিডিও ও পারিবারিক ফায়দা নেওয়ার গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় সচেতন মহল এখন এই ঘটনার পেছনে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




















