2:53 am, Monday, 9 November 2026

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের ঘটনায় বিষ বিক্রেতাসহ এ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনের ছোট জোংড়া খাল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. সোহেল শেখ (৩৬), তার স্ত্রী লাইজু বেগম (৩২) ও বিষ বিক্রেতা মো. সেলিম মিয়া (৫২)। তাদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের টহল দলের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জোংড়া বন টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মো. মতিউর রহমান তার ফোর্স নিয়ে টহলে যান। এ সময় খালের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগে একটি নৌকা জব্দ করা হয়। আটকরা তখন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান ও নৌকার চালক মো. এরশাদ আলী আহত হন। সোহেল শেখ ধারালো দা দিয়ে নৌকার চালক এরশাদ আলীকে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তা বৈঠা দিয়ে প্রতিহত করতে গিয়ে ওসি মতিউর রহমানের ডান হাতে আঘাত লাগে।

এ ঘটনায় ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান বাদী হয়ে সোহেল শেখ (৩৬), তার স্ত্রী লাইজু বেগম (৩২),ইউনুস আলী (৩৮) ও নূপুর খীর (৩০) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় মামলা করেন। আসামিরা সবাই মোংলার জয়মনি এলাকায় বাসিন্দা। গত ৪ নভেম্বর মামলাটি রেকর্ড হয়।

এদিকে বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড.শেখ ফরিদুল ইসলামের নজরে এলে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ ও বন বিভাগ বিষ দস্যুদের আটকে তৎপর হয়।

গতকাল শনিবার রাতে মোংলা ও দাকোপ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে জয়মনি এলাকা থেকে সোহেল ও লাইজুকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা মোংলা বাজারের সার ও কীটনাশক বিক্রেতা সেলিম মিয়ার দোকান থেকে মাছ শিকারের বিষ কেনার তথ্য দেয়। পরে সেলিম মিয়াকেও গ্রেপ্তার করে দাকোপ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দাকোপ থানার ওসি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আজ রোববার দুপুরে আটক তিন জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষ বিক্রি ও বিষ দিয়ে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। এ অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

প্রথম ধাপে ১০৫০ ইউপিতে ভোট, সদর উপজেলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: ইসি সচিব

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: বিক্রেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

Update Time : 02:43:31 am, Monday, 9 November 2026

সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের ঘটনায় বিষ বিক্রেতাসহ এ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনের ছোট জোংড়া খাল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. সোহেল শেখ (৩৬), তার স্ত্রী লাইজু বেগম (৩২) ও বিষ বিক্রেতা মো. সেলিম মিয়া (৫২)। তাদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের টহল দলের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জোংড়া বন টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মো. মতিউর রহমান তার ফোর্স নিয়ে টহলে যান। এ সময় খালের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগে একটি নৌকা জব্দ করা হয়। আটকরা তখন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান ও নৌকার চালক মো. এরশাদ আলী আহত হন। সোহেল শেখ ধারালো দা দিয়ে নৌকার চালক এরশাদ আলীকে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তা বৈঠা দিয়ে প্রতিহত করতে গিয়ে ওসি মতিউর রহমানের ডান হাতে আঘাত লাগে।

এ ঘটনায় ফাঁড়ির ইনচার্জ মতিউর রহমান বাদী হয়ে সোহেল শেখ (৩৬), তার স্ত্রী লাইজু বেগম (৩২),ইউনুস আলী (৩৮) ও নূপুর খীর (৩০) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় মামলা করেন। আসামিরা সবাই মোংলার জয়মনি এলাকায় বাসিন্দা। গত ৪ নভেম্বর মামলাটি রেকর্ড হয়।

এদিকে বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড.শেখ ফরিদুল ইসলামের নজরে এলে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ ও বন বিভাগ বিষ দস্যুদের আটকে তৎপর হয়।

গতকাল শনিবার রাতে মোংলা ও দাকোপ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে জয়মনি এলাকা থেকে সোহেল ও লাইজুকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা মোংলা বাজারের সার ও কীটনাশক বিক্রেতা সেলিম মিয়ার দোকান থেকে মাছ শিকারের বিষ কেনার তথ্য দেয়। পরে সেলিম মিয়াকেও গ্রেপ্তার করে দাকোপ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দাকোপ থানার ওসি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আজ রোববার দুপুরে আটক তিন জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষ বিক্রি ও বিষ দিয়ে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। এ অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’