তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্য শুধু ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান বা চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ফ্রম স্কিল টু অপরচুনিটি’ শীর্ষক চাকরি মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এ মেলার আয়োজন করে। এতে সহায়তা দেয় বেসরকারি সহযোগিতা সংস্থা চোরগউসান ফর চিল্ড্রেন ও এডুকো। তথ্যমন্ত্রী বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শুধু বিদ্যমান চাকরির জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চাকরির বাজার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘জব ক্রিয়েশন’, ‘জব এক্সটেনশন’ কিংবা ‘জব মার্কেট এক্সপানশন’—যে নামেই বলা হোক, এর মূল ভিত্তি অর্থনীতি, শিল্পনীতি ও উৎপাদননীতি।
এসব নীতির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণ সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই কর্মসংস্থানের সমস্যা সমাধানে শুধু দক্ষতা উন্নয়নের দিকে তাকালে হবে না, চাকরির বাজারের ‘সুইচ’ কোথায়, সেটিও বুঝতে হবে। জহির উদ্দিন স্বপন তরুণদের নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতাকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে জ্ঞান ও প্রযুক্তি এনে বাংলাদেশের জনশক্তিকে আধুনিক পোশাকশিল্পের দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ব্যাংকঋণ, বিদেশি জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে সে সময় একটি নতুন শিল্পখাতের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল।
একজন রাষ্ট্রনায়কের এ ধরনের নীতিগত সহায়তার সুফল শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান দুটি উৎস হলো পণ্য রপ্তানি ও প্রবাসী আয়। সীমিত ভৌগোলিক পরিসরে বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়াতে নতুন নতুন শিল্প ও উৎপাদন খাত গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
চাকরিপ্রার্থী তরুণদের নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কে ধারণা রাখার পরামর্শ দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তরুণদের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কারিকুলাম তৈরির সময় তরুণদের নৈতিকতা, দর্শন এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়ার জন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে একদিকে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে, অন্যদিকে অর্থনীতি, শিল্প ও উৎপাদনের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করে চাকরির বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। এ জন্য রাষ্ট্র, উদ্যোক্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী ও ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহিদ উজ জামান।


















