12:24 pm, Friday, 6 November 2026

বন্ধ থাকা সব চিনিকল চালুর পরিকল্পনা সরকারের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বন্ধ থাকা সব চিনিকল আবার চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এসব চিনিকল লাভজনক করতে দেশি বিদেশি বিনিয়োগ নিয়েও কাজ চলছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার কথা বলছেন চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান। তবে, শুধু কারখানা চালু নয়, দুর্নীতি রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ অর্থনীতিবিদদের।

এক সময় দেশে চিনির চাহিদার বড় অংশ মেটাতো সরকারি চিনিকলগুলো। কিন্তু ক্রমাগত লোকসানের কারণে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ১৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের ছয়টি বন্ধ করে দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এগুলো হলো শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড় ও রংপুর চিনিকল। এতে সংকটে পড়ে হাজার হাজার শ্রমিক ও আখচাষি।

রংপুরের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, সরকারকে করজোরে অনুরোধ করব যেন এই মিলটা দ্রুত চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। মিলটা চালু হলে আমরা রংপুরবাসী উপকৃত হব।

আরেক ব্যক্তি বলেন, সরকার যদি দ্রুত এই মিল চালু করে, তাহলে এলাকার লোকের অনেক উপকার হবে। বেকারত্ব দূর হবে। অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হবে।

চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান জানান, বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে সব চিনিকল উৎপাদনে আনার পাশাপাশি বিনিয়োগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যুক্ত করা হবে।

চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, আমরা কেন রুগ্নশিল্পে পরিণত হয়েছি– এই ত্রুটি–বিচ্যুতিগুলো খোঁজার চেষ্টা করছি। আমাদের এখানে যে অফিসাররা রয়েছেন, উনারাও দেখছেন। আশা করি, আগামী অর্থ বছর থেকে আখ মাড়াই শুরু হবে।

বন্ধ মিল চালুর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ অর্থনীতিবিদের। তারা বলছেন, বিশেষ করে চালুর আগে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি জরুরি। চিনির উপজাত পণ্য উৎপাদনে আলাদা নজর দেয়ার তাগিদ তাদের। অর্থনীতিবিদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, এক বছরের মধ্যে আপনি একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, রাষ্ট্রের এই কর্পোরেশনগুলোকে আসলে কোথায় যাওয়া উচিৎ।

চিনিকল চালু করতে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সেতাবগঞ্জ ও শ্যামপুর চিনিকল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন মেলেনি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

বাঁশখালীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে এবিসি সড়কে যান চলাচল বন্ধ

বন্ধ থাকা সব চিনিকল চালুর পরিকল্পনা সরকারের

Update Time : 10:46:20 pm, Friday, 21 August 2026

বন্ধ থাকা সব চিনিকল আবার চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এসব চিনিকল লাভজনক করতে দেশি বিদেশি বিনিয়োগ নিয়েও কাজ চলছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার কথা বলছেন চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান। তবে, শুধু কারখানা চালু নয়, দুর্নীতি রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ অর্থনীতিবিদদের।

এক সময় দেশে চিনির চাহিদার বড় অংশ মেটাতো সরকারি চিনিকলগুলো। কিন্তু ক্রমাগত লোকসানের কারণে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ১৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের ছয়টি বন্ধ করে দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এগুলো হলো শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড় ও রংপুর চিনিকল। এতে সংকটে পড়ে হাজার হাজার শ্রমিক ও আখচাষি।

রংপুরের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, সরকারকে করজোরে অনুরোধ করব যেন এই মিলটা দ্রুত চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। মিলটা চালু হলে আমরা রংপুরবাসী উপকৃত হব।

আরেক ব্যক্তি বলেন, সরকার যদি দ্রুত এই মিল চালু করে, তাহলে এলাকার লোকের অনেক উপকার হবে। বেকারত্ব দূর হবে। অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হবে।

চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান জানান, বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে সব চিনিকল উৎপাদনে আনার পাশাপাশি বিনিয়োগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যুক্ত করা হবে।

চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, আমরা কেন রুগ্নশিল্পে পরিণত হয়েছি– এই ত্রুটি–বিচ্যুতিগুলো খোঁজার চেষ্টা করছি। আমাদের এখানে যে অফিসাররা রয়েছেন, উনারাও দেখছেন। আশা করি, আগামী অর্থ বছর থেকে আখ মাড়াই শুরু হবে।

বন্ধ মিল চালুর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ অর্থনীতিবিদের। তারা বলছেন, বিশেষ করে চালুর আগে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি জরুরি। চিনির উপজাত পণ্য উৎপাদনে আলাদা নজর দেয়ার তাগিদ তাদের। অর্থনীতিবিদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, এক বছরের মধ্যে আপনি একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, রাষ্ট্রের এই কর্পোরেশনগুলোকে আসলে কোথায় যাওয়া উচিৎ।

চিনিকল চালু করতে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সেতাবগঞ্জ ও শ্যামপুর চিনিকল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন মেলেনি।