10:03 am, Monday, 5 October 2026

প্রথম চেষ্টাতেই সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ইবির আমজাদ হোসেন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় প্রথম চেষ্টাতেই উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন।

অনেকে যেখানে একাধিকবার চেষ্টা করেও উত্তীর্ণ হতে পারেন না, সেখানে প্রথমবারেই কীভাবে সফল হলেন, কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছেন ইত্যাদি বিষয় জানতে কথা বলেছেন সংগীত কুমার অভিনন্দন। প্রথমবারেই বিজেএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার অনুভূতিটা কেমন? ‘আলহামদুলিল্লাহ’, এটিই ছিল ফলাফল দেখার পর আমার বলা প্রথম শব্দ এবং একই সঙ্গে অনুভূতির প্রকাশ।

অত্যন্ত নাটকীয় ভঙ্গিতে ফলাফলটা পেয়েছিলাম। মহান আল্লাহ্ তায়ালার পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম। প্রথমবারেই সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও সম্মানের বিষয়। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে আসা দায়িত্বের ভারও আমার অনুভূতির শামিল। যখন জানতে পারলেন আপনি সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তখন আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

খবরটি প্রথম কাকে জানিয়েছিলেন? ফলাফল জানার পর প্রথমে আমি বাবাকে ফোন দিই। কলটি ড্রপ হয়ে যায়। সেই সময়ই আমার বড় বোন সাধারণ কারণেই আমাকে ফোন দেয়। আমি ফোন রিসিভ করে তাকে বলেছিলাম, আপু, তোর ভাই এখন একজন সিভিল জজ (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট)। এটি শুনে আমি ওপাশ থেকে শুধু কান্নার আওয়াজ পেলাম। ফোন কেটে আবার বাবাকে ফোন দিই, ফোন ধরলে একই কথা বলে ফলাফল জানাই আর একইভাবে কান্নার আওয়াজই পেলাম।

কেন বিচার বিভাগকেই নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিলেন? একজন আইনের শিক্ষার্থীর বিচারক কিংবা আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন থাকাই অত্যন্ত স্বাভাবিক ও যৌক্তিক। আমি বিচারক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার বেছে নিয়েছি, এর কারণ এটি শুধু একটি ক্যারিয়ারের অপশন নয়, এটি ন্যায়বিচারের আস্থার জায়গা। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আজীবন ভূমিকা রাখতে চাই, ইনশা আল্লাহ।

এমন কোনো ব্যক্তি বা ঘটনা ছিল, যা আপনাকে বিচারক হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে? হ্যাঁ, এমন ব্যক্তি ও ঘটনা উভয়ই রয়েছে। ক্যাম্পাসে সরাসরি সিভিল জজ হতে দেখি শ্রদ্ধেয় আরিফ হোসাইন ভাই ও আসাদুজ্জামান নুর ভাইকে। তারা উভয়ই প্রথমবারেই ১৬তম বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তাদের পরিশ্রম ও সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর অনুভূতি উভয়ই প্রত্যক্ষ করেছি আর অনুপ্রাণিত হয়েছি।

আর ঘটনা বললে ইন্টার্নশিপের সময় শ্রদ্ধেয় মো. মামুনুর রহমান (সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) ভাইয়ের এজলাসে যাওয়ার কথাই বলব। সেদিন তিনি যেভাবে এজলাসে একই সঙ্গে বিচারিক কার্যক্রম আর আমাদের সামলালেন, তা আজও অমøান। বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়ার সময় কখন মনে হলো ‘আমাকে বিজেএসেই যেতে হবে? ’ আমরা ক্যাম্পাসে আসার মাস দেড়েক পরেই করোনা মহামারির প্রভাবে ছুটি শুরু হয়।

প্রায় দেড় বছর পর ক্যাম্পাসে ফিরি। মূলত তখন থেকেই বিজেএসে যাওয়ার ইচ্ছে শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার গল্পটা ছোট্ট করে জানতে চাই। আমি সেকেন্ড টাইমার ছিলাম এবং দ্বিতীয় বার সায়েন্স গ্রুপ ছেড়ে মানবিকের জন্য চেষ্টা করতে থাকি। আর মানবিক বিভাগে আমার কাছে আইন বিষয়টিই পছন্দের শীর্ষে ছিল।

এরপর যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পরীক্ষা দিই, তখন আল্লাহর রহমতে ভালো ভালো পজিশন আসতে শুরু করে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বি ইউনিটে ১৭তম পজিশন ছিল। বেশ কয়েকজনের কাছে পরামর্শ নিলে অনেকে আইন বিভাগ নিয়ে পড়তে নেতিবাচক পরামর্শও দেয়, তবে আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমাকে আইনের দিকেই নিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বন্ধু, সিনিয়র বা সহপাঠীদের কাছ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা পেয়েছেন?

আমি সব সময় সবার সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া পেয়েছি। বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহাবুব শুভ স্যার তৃতীয় বর্ষে থাকাকালে একদিন ক্লাসে হুট করেই আমাকে দাঁড় করে বলেন, আমাদের ব্যাচ থেকে আমি প্রথমবারেই জজ হব। সেদিন জানি না স্যার কেন এভাবে বলেছিলেন, তবে এটি আমাকে দায়বদ্ধ করেছে। বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ম্যাম ও অত্যন্ত বিচক্ষণ শিক্ষক প্রফেসর ড. শাহজাহান ম-ল স্যার এই যাত্রায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

বিভাগে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা পেয়েছি ২০১৭-১৮ সেশনের শাকির ভাই (১৮তম বিজেএস), আরিফ ভাই (১৬তম বিজেএস) ও আনোয়ার ভাইয়ের (১৮তম বিজেএস) কাছ থেকে। নিজ জেলার সিনিয়র আসাদুজ্জামান নুর (১৬তম বিজেএস) ভাই পরামর্শ দিয়ে সব সময় পাশে ছিলেন। সহপাঠীদের ভূমিকাও স্মরণযোগ্য, বিশেষ করে শবনম, তামান্না, আলামিন ও ফুয়াদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ও বিজেএস প্রস্তুতিÑ দুটো একসঙ্গে কীভাবে সামলিয়েছেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স একাডেমিক রেজাল্টেও আমি প্রথম স্থান অধিকার করেছি। ডিপার্টমেন্টের আইন বিষয়গুলো সরাসরি জুডিশিয়ারির সিলেবাসে থাকায় সামলানো তুলনামূলক সহজ হয়েছে। বিজেএস প্রস্তুতি বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি আপনি ঠিক কবে থেকে, কীভাবে শুরু করেছিলেন? আমি করোনার পরে ক্যাম্পাসে ফেরার পর থেকেই আস্তে আস্তে প্রস্তুতি নিতে শুরু করি।

আমার কাছে বিজেএস একটা লং ড্রাইভের মতো ভ্রমণ। কোনো বিশেষ রুটিন ফলো করা হয়ে ওঠেনি। যখনই সুস্থ ছিলাম ও সুযোগ পেয়েছিলাম, পড়াশোনা করার চেষ্টা করেছিলাম। নির্দিষ্ট ঘণ্টা হিসাব করা হয়নি। আপনার প্রস্তুতির সবচেয়ে কার্যকর কৌশল কী ছিল? আমার মনে হয় বারবার রিভিশন, বুঝে বুঝে পড়ে আইন মনে রাখার অত্যন্ত কার্যকরী কৌশল। আমি এটিই করতাম। আইন সাধারণত বারবার না পড়লে মনে থাকে না এবং এগুলো ডেইলি লাইফে কল্পনা করাও জরুরি।

বিজেএসে সফল হতে হলে বুঝে বুঝে বই পড়া, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোট, প্রশ্ন সমাধান ও মডেল টেস্টÑ সবকিছুর সংমিশ্রণ থাকা উচিত। শুধু যেকোনো একটি পদ্ধতিতে গুরুত্ব দিলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ব্যস্ততা থেকে নিজেকে কীভাবে দূরে রেখেছেন? সত্য বলতে আমার সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট করেছে এই আয়াতাকার যন্ত্রটিই।

এটি একই সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে সাহায্যও করেছে। প্রস্তুতির সময়টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেমন সরব ছিলাম না। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর খবর রাখতাম। মাঝেমধ্যে বিনোদনের জন্যও সময় রাখতাম। অনেকেই একাধিকবার চেষ্টা করেও বিজেএসে সফল হতে পারেন না। আপনার ক্ষেত্রে প্রথমবারেই সফল হওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ কী বলে মনে করেন? আমার কাছে মনে হয় ব্যক্তির পরিশ্রম আর ওপর ওয়ালার প্রদত্ত রিজিকের ফয়সালা মিলে গেলে এর সংমিশ্রণে সফলতা আসে বা রিজিকের ব্যবস্থা হয়।

অনেক ভাই একাধিক বার পরীক্ষায় বসেন, এটি তাদের জন্য একটি ধৈর্যের পরীক্ষাও বটে। যে বিশেষ কারণে চূড়ান্ত সফলতা আসছে না, তা খুঁজে বের করে সেটিতে সময় দিতে হবে বলে মনে করি। আর সঙ্গে নিয়মিত আল্লাহর কাছে উত্তম রিজিকের জন্য মিনতি করতে হবে। আপনার প্রস্তুতিতে এমন কোনো ভুল ছিল, যেটা পরে বুঝেছেন এবং ঠিক করেছেন? হুম। বেশ কয়েকটি জায়গায় ছিল।

কিছু সিদ্ধান্তের জন্য সমস্যায় পড়েছিলাম। ভালো কিছুর জন্য জীবনে কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। লক্ষ্যে অটুট থাকা আর নিয়মিত পড়াশোনা করার বিকল্প নেই। প্রস্তুতির সময় কখনো কি মনে হয়েছে ‘হয়তো আমি পারব না? ’ অনেক বারই মনে হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর ওপর আস্থা এবং আপনজনদের ভূমিকায় আবার আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলাম। এমনকি আমার থেকে আমার বন্ধুদেরই বেশি আত্মবিশ্বাস ছিল আমার ওপর।

পরীক্ষার অভিজ্ঞতা প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময় আপনার কৌশল কী ছিল? এই সময়টায় আইনগুলো ঝালিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমি আইনগুলো বেশ কয়েকবার রিভিশন করি। জেনারেল অংশের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখি। আর পরীক্ষার আগমুহূর্তে মডেল টেস্ট দিই। প্রিলিমিনারি থেকে লিখিতÑ এই পর্যায়ে যাওয়ার পর প্রস্তুতিতে কী পরিবর্তন এনেছিলেন?

এই পর্যায়ে আইনের বিশেষ ধারা ও অধ্যায়গুলোয় গুরুত্ব বাড়াই। বেয়ার অ্যাক্ট পড়েছি আর আমার সাহায্যকারী নোটগুলোও অনেক কাজে লেগেছিল। জেনারেল অংশের জন্য বিভিন্ন প্রশ্নের ফরম্যাট সাজিয়ে নিই। আর মুখস্থ অংশ রিভিশন করি। লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে আপনার কৌশল কী ছিল? জুডিশিয়ারির এক্সামে প্র? তি পরীক্ষায় তিন ঘণ্টা বরাদ্দ থাকে। এর মধ্যে পুরো প্রশ্নের উত্তর করতে হবে।

এই অল্প সময়ে পুরো প্রশ্নের উত্তর করে আসাই বড় চ্যালেঞ্জ। টানা ১০টা পরীক্ষায় বসাও শারীরিক ও মানসিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জিং। তাই আমি চেষ্টা করতাম অল্প কথায় কার্যকরি উত্তর দেওয়ার। উত্তর লেখার সময় কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন? বাঞ্ছিত কোনো কিছু না লেখা, ডিজাইনে অতিরিক্ত সময় না দেওয়া, খাতা পরিষ্কার রাখা, ধারা ও রেফারেন্স সঠিক দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছিলাম।

মৌখিক পরীক্ষার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? আপিল বিভাগের মাননীয় বিচারপতি ফারাহ মাহাবুব ম্যামের বোর্ডে ভাইভা ছিল। প্রথমবার ভাইভায় বসব দেখে অনেক এক্সাইটেড ছিলাম। মোটামুটি প্রস্তুতি নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে ভাইভা বোর্ডে অবাকই হয়েছি। কারণ কম সময়ে আমার ভাইভা শেষ হয়। তবে ভাইভার পরিবেশ ভালো ছিল। ব্যক্তিগত সংগ্রাম আপনার সাফল্যের খবর শুনে মা-বাবার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

সব মা-বাবাই চান তাদের সন্তান তাদের মুখ উজ্জ্বল করুক। আমার মা-বাবা খবরটি শোনার পর অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। তারা হয়তো এমন কিছুর অপেক্ষা করেছেন বহু বছর ধরে। কিন্তু হঠাৎ সেই শব্দগুলো শুনে নির্বাক হয়ে যান। এমন কোনো ত্যাগ বা কষ্টের গল্প আছে কি, যা হয়তো বাইরে থেকে কেউ জানে না? হুম, আছে। কমবেশি সবারই থাকে। তবে সেগুলো আমি গোপনই রাখতে চাই।

বিচারকের দায়িত্বকে আপনি কীভাবে দেখেন? বিচার বিভাগ মানুষের ন্যায়বিচারের আশ্রয়স্থল। সেই বিভাগের একজন সদস্য হিসেবে সব সময় চাইব, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে ও দেশের আইন অনুযায়ী বিচারিক দায়িত্ব পালন করতে। ভবিষ্যতে একজন বিচারক হিসেবে আপনি নিজের কাছে কী প্রত্যাশা রাখেন? কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না। নিজেকে একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও যোগ্য বিচারক হিসেবে প্রত্যাশা করি।

শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ আইন অনুষদের যেসব শিক্ষার্থী সামনে বিজেএস দিতে চান, তাদের জন্য পরামর্শ কী দেবেন? পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই, তবে সেটা করতে হবে স্মার্টলি। অযথা সময় নষ্ট না করা, সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করা অত্যন্ত জরুরি। বিজেএস প্রস্তুতি কখন থেকে শুরু করা উচিত বলে মনে করেন? স্বপ্নটি শুরু থেকেই দেখা উচিত। তবে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সেকেন্ড ইয়ার থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হবে।

যারা মনে করেন ‘আমি প্রথমবারে পারব না’, তাদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন? তাদের উদ্দেশে বলব, নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে। নিয়মিত পড়াশোনা ও ইবাদত করে নিজেকে যোগ্য করতে। আর সিভিল জজে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া না হওয়া প্রথমবারে এক্সামে বসার ওপরে নির্ভর করে না। আমি নিজেই অনার্সের ফল হাতে না পেতেই আবেদন করে এক্সামে বসেছিলাম। বিজেএস প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বেশি কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত?

সময় নষ্ট করা, সুষম খাদ্যাভ্যাস না থাকা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়া। আপনার এই যাত্রায় এমন কোনো মানুষ আছেন, যাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চান? হ্যাঁ। এই যাত্রায় আমি আমার মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধবী (শবনম, আলামিন, ফুয়াদ) আর সিনিয়রদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আজকের আমজাদ হোসেন যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া সেই প্রথম বর্ষের আমজাদকে একটি কথা বলতে পারতেন, কী বলতেন?

বলতাম, কখনো হতাশ হয়ো না। আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। যারা আজ আপনার গল্পটি পড়বে, তাদের উদ্দেশে কী বার্তা দেবেন? তাদের উদ্দেশে বলব, আপনারা যে যেই অবস্থাই থাকেন না কেন, আপনি চাইলে আর আল্লাহর পরিকল্পনায় মিললে সব সম্ভব। নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস হারাবেন না। পরিবারের গর্বের কারণ হয়ে উঠুন। আপনাদের জন্য শুভকামনা ও দোয়া রইল। আমার জন্যও দোয়া করবেন।

আসসালামু আলাইকুম।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

জাতীয় দলে ফিরতে চাইলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে সুযোগ দেওয়া হবে: পর্তুগাল কোচ

প্রথম চেষ্টাতেই সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ইবির আমজাদ হোসেন

Update Time : 05:54:27 am, Sunday, 4 October 2026

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় প্রথম চেষ্টাতেই উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন।

অনেকে যেখানে একাধিকবার চেষ্টা করেও উত্তীর্ণ হতে পারেন না, সেখানে প্রথমবারেই কীভাবে সফল হলেন, কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছেন ইত্যাদি বিষয় জানতে কথা বলেছেন সংগীত কুমার অভিনন্দন। প্রথমবারেই বিজেএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার অনুভূতিটা কেমন? ‘আলহামদুলিল্লাহ’, এটিই ছিল ফলাফল দেখার পর আমার বলা প্রথম শব্দ এবং একই সঙ্গে অনুভূতির প্রকাশ।

অত্যন্ত নাটকীয় ভঙ্গিতে ফলাফলটা পেয়েছিলাম। মহান আল্লাহ্ তায়ালার পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম। প্রথমবারেই সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও সম্মানের বিষয়। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে আসা দায়িত্বের ভারও আমার অনুভূতির শামিল। যখন জানতে পারলেন আপনি সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তখন আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

খবরটি প্রথম কাকে জানিয়েছিলেন? ফলাফল জানার পর প্রথমে আমি বাবাকে ফোন দিই। কলটি ড্রপ হয়ে যায়। সেই সময়ই আমার বড় বোন সাধারণ কারণেই আমাকে ফোন দেয়। আমি ফোন রিসিভ করে তাকে বলেছিলাম, আপু, তোর ভাই এখন একজন সিভিল জজ (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট)। এটি শুনে আমি ওপাশ থেকে শুধু কান্নার আওয়াজ পেলাম। ফোন কেটে আবার বাবাকে ফোন দিই, ফোন ধরলে একই কথা বলে ফলাফল জানাই আর একইভাবে কান্নার আওয়াজই পেলাম।

কেন বিচার বিভাগকেই নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিলেন? একজন আইনের শিক্ষার্থীর বিচারক কিংবা আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন থাকাই অত্যন্ত স্বাভাবিক ও যৌক্তিক। আমি বিচারক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার বেছে নিয়েছি, এর কারণ এটি শুধু একটি ক্যারিয়ারের অপশন নয়, এটি ন্যায়বিচারের আস্থার জায়গা। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আজীবন ভূমিকা রাখতে চাই, ইনশা আল্লাহ।

এমন কোনো ব্যক্তি বা ঘটনা ছিল, যা আপনাকে বিচারক হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে? হ্যাঁ, এমন ব্যক্তি ও ঘটনা উভয়ই রয়েছে। ক্যাম্পাসে সরাসরি সিভিল জজ হতে দেখি শ্রদ্ধেয় আরিফ হোসাইন ভাই ও আসাদুজ্জামান নুর ভাইকে। তারা উভয়ই প্রথমবারেই ১৬তম বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তাদের পরিশ্রম ও সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর অনুভূতি উভয়ই প্রত্যক্ষ করেছি আর অনুপ্রাণিত হয়েছি।

আর ঘটনা বললে ইন্টার্নশিপের সময় শ্রদ্ধেয় মো. মামুনুর রহমান (সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) ভাইয়ের এজলাসে যাওয়ার কথাই বলব। সেদিন তিনি যেভাবে এজলাসে একই সঙ্গে বিচারিক কার্যক্রম আর আমাদের সামলালেন, তা আজও অমøান। বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়ার সময় কখন মনে হলো ‘আমাকে বিজেএসেই যেতে হবে? ’ আমরা ক্যাম্পাসে আসার মাস দেড়েক পরেই করোনা মহামারির প্রভাবে ছুটি শুরু হয়।

প্রায় দেড় বছর পর ক্যাম্পাসে ফিরি। মূলত তখন থেকেই বিজেএসে যাওয়ার ইচ্ছে শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার গল্পটা ছোট্ট করে জানতে চাই। আমি সেকেন্ড টাইমার ছিলাম এবং দ্বিতীয় বার সায়েন্স গ্রুপ ছেড়ে মানবিকের জন্য চেষ্টা করতে থাকি। আর মানবিক বিভাগে আমার কাছে আইন বিষয়টিই পছন্দের শীর্ষে ছিল।

এরপর যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পরীক্ষা দিই, তখন আল্লাহর রহমতে ভালো ভালো পজিশন আসতে শুরু করে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বি ইউনিটে ১৭তম পজিশন ছিল। বেশ কয়েকজনের কাছে পরামর্শ নিলে অনেকে আইন বিভাগ নিয়ে পড়তে নেতিবাচক পরামর্শও দেয়, তবে আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমাকে আইনের দিকেই নিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বন্ধু, সিনিয়র বা সহপাঠীদের কাছ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা পেয়েছেন?

আমি সব সময় সবার সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া পেয়েছি। বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহাবুব শুভ স্যার তৃতীয় বর্ষে থাকাকালে একদিন ক্লাসে হুট করেই আমাকে দাঁড় করে বলেন, আমাদের ব্যাচ থেকে আমি প্রথমবারেই জজ হব। সেদিন জানি না স্যার কেন এভাবে বলেছিলেন, তবে এটি আমাকে দায়বদ্ধ করেছে। বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ম্যাম ও অত্যন্ত বিচক্ষণ শিক্ষক প্রফেসর ড. শাহজাহান ম-ল স্যার এই যাত্রায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

বিভাগে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা পেয়েছি ২০১৭-১৮ সেশনের শাকির ভাই (১৮তম বিজেএস), আরিফ ভাই (১৬তম বিজেএস) ও আনোয়ার ভাইয়ের (১৮তম বিজেএস) কাছ থেকে। নিজ জেলার সিনিয়র আসাদুজ্জামান নুর (১৬তম বিজেএস) ভাই পরামর্শ দিয়ে সব সময় পাশে ছিলেন। সহপাঠীদের ভূমিকাও স্মরণযোগ্য, বিশেষ করে শবনম, তামান্না, আলামিন ও ফুয়াদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ও বিজেএস প্রস্তুতিÑ দুটো একসঙ্গে কীভাবে সামলিয়েছেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স একাডেমিক রেজাল্টেও আমি প্রথম স্থান অধিকার করেছি। ডিপার্টমেন্টের আইন বিষয়গুলো সরাসরি জুডিশিয়ারির সিলেবাসে থাকায় সামলানো তুলনামূলক সহজ হয়েছে। বিজেএস প্রস্তুতি বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি আপনি ঠিক কবে থেকে, কীভাবে শুরু করেছিলেন? আমি করোনার পরে ক্যাম্পাসে ফেরার পর থেকেই আস্তে আস্তে প্রস্তুতি নিতে শুরু করি।

আমার কাছে বিজেএস একটা লং ড্রাইভের মতো ভ্রমণ। কোনো বিশেষ রুটিন ফলো করা হয়ে ওঠেনি। যখনই সুস্থ ছিলাম ও সুযোগ পেয়েছিলাম, পড়াশোনা করার চেষ্টা করেছিলাম। নির্দিষ্ট ঘণ্টা হিসাব করা হয়নি। আপনার প্রস্তুতির সবচেয়ে কার্যকর কৌশল কী ছিল? আমার মনে হয় বারবার রিভিশন, বুঝে বুঝে পড়ে আইন মনে রাখার অত্যন্ত কার্যকরী কৌশল। আমি এটিই করতাম। আইন সাধারণত বারবার না পড়লে মনে থাকে না এবং এগুলো ডেইলি লাইফে কল্পনা করাও জরুরি।

বিজেএসে সফল হতে হলে বুঝে বুঝে বই পড়া, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোট, প্রশ্ন সমাধান ও মডেল টেস্টÑ সবকিছুর সংমিশ্রণ থাকা উচিত। শুধু যেকোনো একটি পদ্ধতিতে গুরুত্ব দিলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ব্যস্ততা থেকে নিজেকে কীভাবে দূরে রেখেছেন? সত্য বলতে আমার সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট করেছে এই আয়াতাকার যন্ত্রটিই।

এটি একই সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে সাহায্যও করেছে। প্রস্তুতির সময়টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেমন সরব ছিলাম না। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর খবর রাখতাম। মাঝেমধ্যে বিনোদনের জন্যও সময় রাখতাম। অনেকেই একাধিকবার চেষ্টা করেও বিজেএসে সফল হতে পারেন না। আপনার ক্ষেত্রে প্রথমবারেই সফল হওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ কী বলে মনে করেন? আমার কাছে মনে হয় ব্যক্তির পরিশ্রম আর ওপর ওয়ালার প্রদত্ত রিজিকের ফয়সালা মিলে গেলে এর সংমিশ্রণে সফলতা আসে বা রিজিকের ব্যবস্থা হয়।

অনেক ভাই একাধিক বার পরীক্ষায় বসেন, এটি তাদের জন্য একটি ধৈর্যের পরীক্ষাও বটে। যে বিশেষ কারণে চূড়ান্ত সফলতা আসছে না, তা খুঁজে বের করে সেটিতে সময় দিতে হবে বলে মনে করি। আর সঙ্গে নিয়মিত আল্লাহর কাছে উত্তম রিজিকের জন্য মিনতি করতে হবে। আপনার প্রস্তুতিতে এমন কোনো ভুল ছিল, যেটা পরে বুঝেছেন এবং ঠিক করেছেন? হুম। বেশ কয়েকটি জায়গায় ছিল।

কিছু সিদ্ধান্তের জন্য সমস্যায় পড়েছিলাম। ভালো কিছুর জন্য জীবনে কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। লক্ষ্যে অটুট থাকা আর নিয়মিত পড়াশোনা করার বিকল্প নেই। প্রস্তুতির সময় কখনো কি মনে হয়েছে ‘হয়তো আমি পারব না? ’ অনেক বারই মনে হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর ওপর আস্থা এবং আপনজনদের ভূমিকায় আবার আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলাম। এমনকি আমার থেকে আমার বন্ধুদেরই বেশি আত্মবিশ্বাস ছিল আমার ওপর।

পরীক্ষার অভিজ্ঞতা প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময় আপনার কৌশল কী ছিল? এই সময়টায় আইনগুলো ঝালিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমি আইনগুলো বেশ কয়েকবার রিভিশন করি। জেনারেল অংশের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখি। আর পরীক্ষার আগমুহূর্তে মডেল টেস্ট দিই। প্রিলিমিনারি থেকে লিখিতÑ এই পর্যায়ে যাওয়ার পর প্রস্তুতিতে কী পরিবর্তন এনেছিলেন?

এই পর্যায়ে আইনের বিশেষ ধারা ও অধ্যায়গুলোয় গুরুত্ব বাড়াই। বেয়ার অ্যাক্ট পড়েছি আর আমার সাহায্যকারী নোটগুলোও অনেক কাজে লেগেছিল। জেনারেল অংশের জন্য বিভিন্ন প্রশ্নের ফরম্যাট সাজিয়ে নিই। আর মুখস্থ অংশ রিভিশন করি। লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে আপনার কৌশল কী ছিল? জুডিশিয়ারির এক্সামে প্র? তি পরীক্ষায় তিন ঘণ্টা বরাদ্দ থাকে। এর মধ্যে পুরো প্রশ্নের উত্তর করতে হবে।

এই অল্প সময়ে পুরো প্রশ্নের উত্তর করে আসাই বড় চ্যালেঞ্জ। টানা ১০টা পরীক্ষায় বসাও শারীরিক ও মানসিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জিং। তাই আমি চেষ্টা করতাম অল্প কথায় কার্যকরি উত্তর দেওয়ার। উত্তর লেখার সময় কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন? বাঞ্ছিত কোনো কিছু না লেখা, ডিজাইনে অতিরিক্ত সময় না দেওয়া, খাতা পরিষ্কার রাখা, ধারা ও রেফারেন্স সঠিক দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছিলাম।

মৌখিক পরীক্ষার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? আপিল বিভাগের মাননীয় বিচারপতি ফারাহ মাহাবুব ম্যামের বোর্ডে ভাইভা ছিল। প্রথমবার ভাইভায় বসব দেখে অনেক এক্সাইটেড ছিলাম। মোটামুটি প্রস্তুতি নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে ভাইভা বোর্ডে অবাকই হয়েছি। কারণ কম সময়ে আমার ভাইভা শেষ হয়। তবে ভাইভার পরিবেশ ভালো ছিল। ব্যক্তিগত সংগ্রাম আপনার সাফল্যের খবর শুনে মা-বাবার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

সব মা-বাবাই চান তাদের সন্তান তাদের মুখ উজ্জ্বল করুক। আমার মা-বাবা খবরটি শোনার পর অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। তারা হয়তো এমন কিছুর অপেক্ষা করেছেন বহু বছর ধরে। কিন্তু হঠাৎ সেই শব্দগুলো শুনে নির্বাক হয়ে যান। এমন কোনো ত্যাগ বা কষ্টের গল্প আছে কি, যা হয়তো বাইরে থেকে কেউ জানে না? হুম, আছে। কমবেশি সবারই থাকে। তবে সেগুলো আমি গোপনই রাখতে চাই।

বিচারকের দায়িত্বকে আপনি কীভাবে দেখেন? বিচার বিভাগ মানুষের ন্যায়বিচারের আশ্রয়স্থল। সেই বিভাগের একজন সদস্য হিসেবে সব সময় চাইব, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে ও দেশের আইন অনুযায়ী বিচারিক দায়িত্ব পালন করতে। ভবিষ্যতে একজন বিচারক হিসেবে আপনি নিজের কাছে কী প্রত্যাশা রাখেন? কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না। নিজেকে একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও যোগ্য বিচারক হিসেবে প্রত্যাশা করি।

শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ আইন অনুষদের যেসব শিক্ষার্থী সামনে বিজেএস দিতে চান, তাদের জন্য পরামর্শ কী দেবেন? পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই, তবে সেটা করতে হবে স্মার্টলি। অযথা সময় নষ্ট না করা, সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করা অত্যন্ত জরুরি। বিজেএস প্রস্তুতি কখন থেকে শুরু করা উচিত বলে মনে করেন? স্বপ্নটি শুরু থেকেই দেখা উচিত। তবে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সেকেন্ড ইয়ার থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হবে।

যারা মনে করেন ‘আমি প্রথমবারে পারব না’, তাদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন? তাদের উদ্দেশে বলব, নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে। নিয়মিত পড়াশোনা ও ইবাদত করে নিজেকে যোগ্য করতে। আর সিভিল জজে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া না হওয়া প্রথমবারে এক্সামে বসার ওপরে নির্ভর করে না। আমি নিজেই অনার্সের ফল হাতে না পেতেই আবেদন করে এক্সামে বসেছিলাম। বিজেএস প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বেশি কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত?

সময় নষ্ট করা, সুষম খাদ্যাভ্যাস না থাকা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়া। আপনার এই যাত্রায় এমন কোনো মানুষ আছেন, যাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চান? হ্যাঁ। এই যাত্রায় আমি আমার মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধবী (শবনম, আলামিন, ফুয়াদ) আর সিনিয়রদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আজকের আমজাদ হোসেন যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া সেই প্রথম বর্ষের আমজাদকে একটি কথা বলতে পারতেন, কী বলতেন?

বলতাম, কখনো হতাশ হয়ো না। আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। যারা আজ আপনার গল্পটি পড়বে, তাদের উদ্দেশে কী বার্তা দেবেন? তাদের উদ্দেশে বলব, আপনারা যে যেই অবস্থাই থাকেন না কেন, আপনি চাইলে আর আল্লাহর পরিকল্পনায় মিললে সব সম্ভব। নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস হারাবেন না। পরিবারের গর্বের কারণ হয়ে উঠুন। আপনাদের জন্য শুভকামনা ও দোয়া রইল। আমার জন্যও দোয়া করবেন।

আসসালামু আলাইকুম।