রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। দেশীয় অস্ত্রসহ মিছিলের ভিডিও করতে গেলে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ সাংবাদিকদের। এসময় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। এসময় মিছিলে কয়েকজনের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্রের ভিডিও করতে গেলে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার হন সাংবাদিকরা।
আহত সাংবাদিকেরা হলেন–আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রথমে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে একজন সাংবাদিকের গলা চেপে ধরেন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী।
এ ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তাদের হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্র। খবর পেয়ে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন। পরে তাঁদের হাতে অস্ত্র দেখতে পেয়ে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয়।
এদিকে হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে যান প্রক্টর এবং উপ-উপাচার্য। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তারাও। ক্ষোভ জানান রাকসুর প্রতিনিধিরাও।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, এ ধরনের হামলা প্রশাসনের ব্যর্থতা। এই হামলার ঘটনার বিচার নিয়ে সন্দেহ আছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘বিষয়টি সেন্ট্রাল ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘যারা এই ঘটনাটা ঘটিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে হল প্রশাসন আইনের আশ্রয় নেবে এবং সেটা মামলার প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসবে। আর অন্যান্য যে দাবিগুলো সেগুলো আমরা শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করে একটা তদন্ত কমিটি করব।’





















