1:36 pm, Monday, 2 November 2026

জাতীয় যুব পুরস্কার পেলেন পিরোজপুরের শিরিন খানম

জাতীয় যুব পুরস্কার পেলেন পিরোজপুরের শিরিন খানম

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, অসহায় মানুষের সহায়তা, রক্তদান কর্মসূচি ও যুবসমাজের উন্নয়নে দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি পেলেন পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার শিরিন খানম। রাষ্ট্রপতির হাত থেকে তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

জাতীয় যুব পুরস্কার-২০২৬-এ শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক (নারী) বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন। জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। শিরিন খানম পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৮৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্ম নেওয়া শিরিনের বাবা মো. মোজাম্মেল হক এবং মা ফরিদা বেগম। স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হলেও সমাজসেবাকে জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন তিনি।

২০০৭ সালে পাইওনিয়ার ইয়ুথ ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার সামাজিক কর্মকাণ্ডের যাত্রা শুরু। এরপর প্রায় দুই দশক ধরে বেকার যুবক-যুব নারীদের উন্নয়ন, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। শিরিনের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ২০ থেকে ২৫ জন কিশোরীর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং অসচ্ছল পরিবারকে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান।

এ ছাড়া বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি এবং দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নেও রয়েছে তার ভূমিকা। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা সংস্কার, সাঁকো নির্মাণ ও মেরামতের পাশাপাশি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনেও সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি।

শিক্ষা বিস্তার ও পরিবেশ সংরক্ষণেও কাজ করছেন শিরিন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের পাশাপাশি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন। বর্তমানে পাইওনিয়ার ইয়ুথ ক্লাবের পাশাপাশি ইসলামপুর ইউনাইটেড ব্লাড ডোনার ক্লাবের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দীর্ঘদিনের এসব সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড, যুব নেতৃত্বের বিকাশ এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে এ সম্মাননা অর্জন করেন শিরিন খানম।

তার এ অর্জনে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় শিরিন খানম বলেন, জাতীয় পর্যায়ে এ সম্মাননা অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। এ স্বীকৃতি আমাকে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। ভবিষ্যতেও মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে চাই।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

কৃষক কার্ডের মাধ্যমেই মিলবে আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা ও ১০ ধরনের সুবিধা

জাতীয় যুব পুরস্কার পেলেন পিরোজপুরের শিরিন খানম

Update Time : 11:04:44 am, Monday, 2 November 2026

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, অসহায় মানুষের সহায়তা, রক্তদান কর্মসূচি ও যুবসমাজের উন্নয়নে দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি পেলেন পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার শিরিন খানম। রাষ্ট্রপতির হাত থেকে তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

জাতীয় যুব পুরস্কার-২০২৬-এ শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক (নারী) বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন। জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। শিরিন খানম পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৮৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্ম নেওয়া শিরিনের বাবা মো. মোজাম্মেল হক এবং মা ফরিদা বেগম। স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হলেও সমাজসেবাকে জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন তিনি।

২০০৭ সালে পাইওনিয়ার ইয়ুথ ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার সামাজিক কর্মকাণ্ডের যাত্রা শুরু। এরপর প্রায় দুই দশক ধরে বেকার যুবক-যুব নারীদের উন্নয়ন, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। শিরিনের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ২০ থেকে ২৫ জন কিশোরীর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং অসচ্ছল পরিবারকে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান।

এ ছাড়া বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি এবং দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নেও রয়েছে তার ভূমিকা। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা সংস্কার, সাঁকো নির্মাণ ও মেরামতের পাশাপাশি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনেও সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি।

শিক্ষা বিস্তার ও পরিবেশ সংরক্ষণেও কাজ করছেন শিরিন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের পাশাপাশি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন। বর্তমানে পাইওনিয়ার ইয়ুথ ক্লাবের পাশাপাশি ইসলামপুর ইউনাইটেড ব্লাড ডোনার ক্লাবের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দীর্ঘদিনের এসব সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড, যুব নেতৃত্বের বিকাশ এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে এ সম্মাননা অর্জন করেন শিরিন খানম।

তার এ অর্জনে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় শিরিন খানম বলেন, জাতীয় পর্যায়ে এ সম্মাননা অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। এ স্বীকৃতি আমাকে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। ভবিষ্যতেও মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে চাই।