12:16 pm, Tuesday, 3 November 2026

আশুলিয়ায় সকাল থেকে শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ

আশুলিয়ায় সকাল থেকে শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় আবারও পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই এ ঘটনা শুরু হয়।

অন্যদিকে, আন্দোলনরত শ্রমিকরা ইটপাটকেল ছুড়ে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের জামগড়া, নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে সমবেত হতে থাকেন।

এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব এক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছিলেন। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টার পর নরসিংহপুর এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

হা-মীম গ্রুপসহ আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা শারমিন গ্রুপের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিভিন্ন প্লাস্টিকজাতীয় সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

পুলিশের ধাওয়ার মুখে শ্রমিকরা পাল্টা সংগঠিত হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এদিকে, শ্রমিক-পুলিশের এই সংঘাতের প্রভাবে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়।

পাশাপাশি এলাকাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে নরসিংহপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যেকোনো সময় ব্যবহারের জন্য পুলিশের জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

জাতীয় গ্রিডে ৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে: প্রধানমন্ত্রী

আশুলিয়ায় সকাল থেকে শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ

Update Time : 10:31:14 am, Tuesday, 3 November 2026

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় আবারও পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই এ ঘটনা শুরু হয়।

অন্যদিকে, আন্দোলনরত শ্রমিকরা ইটপাটকেল ছুড়ে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের জামগড়া, নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে সমবেত হতে থাকেন।

এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব এক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছিলেন। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টার পর নরসিংহপুর এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

হা-মীম গ্রুপসহ আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা শারমিন গ্রুপের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিভিন্ন প্লাস্টিকজাতীয় সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

পুলিশের ধাওয়ার মুখে শ্রমিকরা পাল্টা সংগঠিত হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এদিকে, শ্রমিক-পুলিশের এই সংঘাতের প্রভাবে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়।

পাশাপাশি এলাকাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে নরসিংহপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যেকোনো সময় ব্যবহারের জন্য পুলিশের জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।