2:29 pm, Saturday, 7 November 2026

আজ ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

আজ ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আজ ৭ নভেম্বর, ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে রক্ষা পায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং মুক্ত হন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বিশিষ্টজনদের মতে, এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় আধিপত্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী ও বহুদলীয় রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়।

১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর, পাকিস্তানকে পারাজিত করার মধ্য দিয়ে বিজয়ী বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বদলে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা, আইন শৃঙ্খলার অবনতি আর লুটপাটের কারণে সংকটের মুখে পড়ে রাষ্ট্র।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর, একই বছরের ৩ নভেম্বর, ক্ষমতা নেয় বিতর্কিত মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ।বন্দি করা হয় তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে।

৭ নভেম্বর পাল্টা অভ্যুথানে মুক্ত স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা তুলে দেয় সিপাহি জনতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘মুশতাক গেল। একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান হলো। তার হাত ধরেই আবার দেশটা সামরিক শাসনের দিকে এগিয়ে গেল। এবং রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়ে, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথটা তৈরি হলো।’

রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা আকাশচুম্বি জনপ্রিয় সেনা-নায়ক জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকশিত হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ নতুন করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পথে, বাক স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায়। এবং আমরা জানি, পরবর্তীকালে এখানে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। একটা সংসদ তৈরি হয়। যে সংসদে ছোট–বড় সব দলেরই প্রতিনিধিত্ব ছিল।’

কোনো স্বৈরতন্ত্রের হাতে যেন আগামীতে দেশ আর অবরুদ্ধ না হয়, সে দিকেও নজর দেয়ার পরামর্শ তার।

জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘আজকে এত বছর পর ৭ই নভেম্বরেক স্মরণ করব। নতুন করে প্রতিজ্ঞা করব বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং স্বর্ভভৌমত্ব রক্ষার এবং এই দেশে গণতন্ত্র যেন কোনো স্বৈরশাসকের পদক্ষেপে ধ্বংস হয়ে না যায়, সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে।’

১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তার চালু করা বহুদলীয় গণতেন্ত্রের সংস্কৃতিকে সামনে এগিয়ে নেন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

আজ ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

Update Time : 02:11:59 pm, Saturday, 7 November 2026

আজ ৭ নভেম্বর, ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে রক্ষা পায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং মুক্ত হন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বিশিষ্টজনদের মতে, এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় আধিপত্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী ও বহুদলীয় রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়।

১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর, পাকিস্তানকে পারাজিত করার মধ্য দিয়ে বিজয়ী বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বদলে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা, আইন শৃঙ্খলার অবনতি আর লুটপাটের কারণে সংকটের মুখে পড়ে রাষ্ট্র।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর, একই বছরের ৩ নভেম্বর, ক্ষমতা নেয় বিতর্কিত মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ।বন্দি করা হয় তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে।

৭ নভেম্বর পাল্টা অভ্যুথানে মুক্ত স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা তুলে দেয় সিপাহি জনতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘মুশতাক গেল। একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান হলো। তার হাত ধরেই আবার দেশটা সামরিক শাসনের দিকে এগিয়ে গেল। এবং রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়ে, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথটা তৈরি হলো।’

রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা আকাশচুম্বি জনপ্রিয় সেনা-নায়ক জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকশিত হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ নতুন করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পথে, বাক স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায়। এবং আমরা জানি, পরবর্তীকালে এখানে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। একটা সংসদ তৈরি হয়। যে সংসদে ছোট–বড় সব দলেরই প্রতিনিধিত্ব ছিল।’

কোনো স্বৈরতন্ত্রের হাতে যেন আগামীতে দেশ আর অবরুদ্ধ না হয়, সে দিকেও নজর দেয়ার পরামর্শ তার।

জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘আজকে এত বছর পর ৭ই নভেম্বরেক স্মরণ করব। নতুন করে প্রতিজ্ঞা করব বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং স্বর্ভভৌমত্ব রক্ষার এবং এই দেশে গণতন্ত্র যেন কোনো স্বৈরশাসকের পদক্ষেপে ধ্বংস হয়ে না যায়, সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে।’

১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তার চালু করা বহুদলীয় গণতেন্ত্রের সংস্কৃতিকে সামনে এগিয়ে নেন আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।