1:23 pm, Saturday, 7 November 2026

৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার সময়। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের ইতিহাসভিত্তিক মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী তাকে মুগ্ধ করেছে। এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সব তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।

একই সঙ্গে সবাইকে নজরুল বর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দী করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দী রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছিল।

এ কারণে জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা বাংলাদেশকে অন্য দেশের অধীনস্থ রাষ্ট্র হিসেবে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।

তবে তার অভিযোগ, ওই সময় পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র পরবর্তী সময়ে থেমে থাকেনি। মহাজোটের নামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা আবারও দেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। পাশাপাশি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই শক্তির আবারও পরাজয় ঘটে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।

তিনি বলেন, সময়ের পরিক্রমায় প্রমাণিত হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। যখনই বাংলাদেশ এই পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই দেশ ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। এ কারণে ৭ নভেম্বরকে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। জাতীয় পরিচয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও মতের ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশের সব নাগরিকের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো—‘আমরা বাংলাদেশি’।

মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ—সবাই এই দেশের নাগরিক। এই অভিন্ন পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। তার মতে, ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে এই জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছিল। তিনি বলেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে। ৭ নভেম্বরের প্রকৃত নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা।

এ প্রসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান যেভাবে মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে অংশ নিয়েছিলেন, ৭ নভেম্বরও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একইভাবে ভূমিকা রেখেছিলেন। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; বরং শুদ্ধ ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা।

এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক হলো, হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় নির্মোহভাবে উপস্থাপন করেছে। ইতিহাসসচেতন এই প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তরুণ প্রজন্মের দেশপ্রেমের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে দেশের তরুণ সমাজ জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ নয়, সে দেশের জাতীয় ঐক্য কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় তরুণরা দেশের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবার আগে বাংলাদেশ—এই চেতনা ধারণ করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন কেউ দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং বাংলাদেশকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের অধীনস্থ করে রাখতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। দেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঐক্য ধরে রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা অন্তরে ধারণ করতে হবে। স্বাধীনতা অর্জনের পাশাপাশি তা রক্ষা করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব হলেও সেই অর্জনকে সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব।

বিশেষ করে তরুণদের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করতে হবে। আর অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো, তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকারও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যখনই ষড়যন্ত্র হয়েছে কিংবা গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, তখনই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে এ দেশের মানুষ।

তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এই ঐতিহাসিক দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হোক—‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

রাজধানীতে এক রাতেই পাঁচ এলাকায় আট ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন

৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : 01:05:35 pm, Saturday, 7 November 2026

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার সময়। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের ইতিহাসভিত্তিক মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী তাকে মুগ্ধ করেছে। এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সব তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।

একই সঙ্গে সবাইকে নজরুল বর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দী করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দী রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছিল।

এ কারণে জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা বাংলাদেশকে অন্য দেশের অধীনস্থ রাষ্ট্র হিসেবে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।

তবে তার অভিযোগ, ওই সময় পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র পরবর্তী সময়ে থেমে থাকেনি। মহাজোটের নামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা আবারও দেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। পাশাপাশি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই শক্তির আবারও পরাজয় ঘটে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।

তিনি বলেন, সময়ের পরিক্রমায় প্রমাণিত হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। যখনই বাংলাদেশ এই পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই দেশ ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। এ কারণে ৭ নভেম্বরকে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। জাতীয় পরিচয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও মতের ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশের সব নাগরিকের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো—‘আমরা বাংলাদেশি’।

মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ—সবাই এই দেশের নাগরিক। এই অভিন্ন পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। তার মতে, ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে এই জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছিল। তিনি বলেন, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে। ৭ নভেম্বরের প্রকৃত নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা।

এ প্রসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান যেভাবে মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে অংশ নিয়েছিলেন, ৭ নভেম্বরও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একইভাবে ভূমিকা রেখেছিলেন। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; বরং শুদ্ধ ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা।

এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক হলো, হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় নির্মোহভাবে উপস্থাপন করেছে। ইতিহাসসচেতন এই প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তরুণ প্রজন্মের দেশপ্রেমের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে দেশের তরুণ সমাজ জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ নয়, সে দেশের জাতীয় ঐক্য কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় তরুণরা দেশের স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবার আগে বাংলাদেশ—এই চেতনা ধারণ করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন কেউ দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং বাংলাদেশকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের অধীনস্থ করে রাখতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। দেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঐক্য ধরে রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা অন্তরে ধারণ করতে হবে। স্বাধীনতা অর্জনের পাশাপাশি তা রক্ষা করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব হলেও সেই অর্জনকে সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব।

বিশেষ করে তরুণদের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করতে হবে। আর অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো, তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকারও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যখনই ষড়যন্ত্র হয়েছে কিংবা গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, তখনই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে এ দেশের মানুষ।

তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এই ঐতিহাসিক দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হোক—‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।