11:55 am, Friday, 6 November 2026

ম্যাকাই টেস্টে তিন ঐতিহাসিক কীর্তির হাতছানি বাংলাদেশের সামনে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টেস্টে নাম্বার ওয়ানদের একপ্রকার ‘নাকানি-চুবানি’ খাইয়ে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে টাইগাররা। সেই সুখস্মৃতি নিয়েই বাংলাদেশের এবারের মিশন ম্যাকাই টেস্ট।

শনিবার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামছে দুই দল। আর এই ম্যাচেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের সামনে হাতছানি দিচ্ছে ইতিহাস কাঁপানো ৩টি মহাকীর্তি! অন্যদিকে, ঘরের মাঠে শোচনীয় অবস্থায় পড়ে ব্যাকফুটে বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়া।

গত ১৩৯ বছরে কোনো দল অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে একাধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাই করতে পারেনি! সেই ১৮৮৭ সালে সিডনিতে সর্বশেষ ইংল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল অজিরা। তারপর থেকে ঘরের মাঠে একাধিক ম্যাচের ১১০টি টেস্ট সিরিজ খেললেও আর কখনো এমন লজ্জায় পড়েনি তারা।

কিন্তু এবার সেই ১৩৯ বছরের পুরোনো ইতিহাস নতুন করে লেখার সুযোগ টাইগারদের সামনে! ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশ সেই ইতিহাস গড়তে পারলে, হয়ে যাবে তিনটি বিরল মহাকাব্য!

প্রথমত, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ১৩৯ বছর পর ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশের চরম লজ্জায় ডুববে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘ ১০ বছর পর টেস্টে অজিদের হোয়াইটওয়াশের স্বাদ দেবে বাংলাদেশ। এর আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয়ত, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে অজিদের এক নম্বর থেকে চারে নামিয়ে, বাংলাদেশ উঠে যাবে ৩ নম্বরে।

অথচ সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশকে পাত্তাই দিতে চায়নি অস্ট্রেলিয়া। সেই অস্ট্রেলিয়াই এখন রীতিমতো খাদের কিনারে। অজিদের এমন দিশেহারা অবস্থা দেখে মুখ খুলেছেন তাদেরই সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক রিকি পন্টিং। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া চরম চাপে আছে। তাদের কয়েকজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এটা। এই নার্ভাসনেস ধীরে ধীরে তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে।’

অন্যদিকে, অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন তো বাংলাদেশ দলের প্রশংসায় একপ্রকার আত্মসমর্পণই করে বসলেন! তার ভাষায়, ‘ডারউইনে বাংলাদেশ আমাদের গলার ওপর পা রেখেই ম্যাচ শেষ করেছে। ওরা দারুণ খেলেছে এবং আমাদের ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই দেয়নি।’

ডারউইনের সাফল্যেই থেমে থাকতে চায় না বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ে লিখতে চায় নতুন ইতিহাস। তবে অর্জনের এই এভারেস্টসম চূড়ায় ওঠা কিন্তু মোটেও সহজ হবে না। ম্যাকাইয়ের বাতাস আর বাড়তি পেসবান্ধব উইকেট নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স। তবে ‘আহত বাঘ’ অস্ট্রেলিয়ার কামব্যাক নিয়ে দলকে সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন তিনি।

ফিল সিমন্স মনে করিয়ে দিয়েছেন, অজিরা এই ম্যাচে আরও আক্রোশ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে। তাই তাঁর সহজ মূলমন্ত্র— প্রথম ইনিংসে লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করা এবং অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচের বাইরে ঠেলে দেওয়া।

সিমন্সের এই মন্ত্র এবার মাঠে বাস্তবায়নের পালা বাংলাদেশের। জিতলে মহাকীর্তি, আর ড্র করলেও অধরা সিরিজ জয়ের গৌরব! এখন দেখার বিষয়— ম্যাকাইয়ের সবুজ উইকেটে বাংলাদেশ কোন চমক উপহার দেয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

মরিশাসে কন্টেইনার দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের করুণ মৃত্যু

ম্যাকাই টেস্টে তিন ঐতিহাসিক কীর্তির হাতছানি বাংলাদেশের সামনে

Update Time : 08:23:29 pm, Friday, 21 August 2026

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টেস্টে নাম্বার ওয়ানদের একপ্রকার ‘নাকানি-চুবানি’ খাইয়ে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে টাইগাররা। সেই সুখস্মৃতি নিয়েই বাংলাদেশের এবারের মিশন ম্যাকাই টেস্ট।

শনিবার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামছে দুই দল। আর এই ম্যাচেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের সামনে হাতছানি দিচ্ছে ইতিহাস কাঁপানো ৩টি মহাকীর্তি! অন্যদিকে, ঘরের মাঠে শোচনীয় অবস্থায় পড়ে ব্যাকফুটে বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়া।

গত ১৩৯ বছরে কোনো দল অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে একাধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাই করতে পারেনি! সেই ১৮৮৭ সালে সিডনিতে সর্বশেষ ইংল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল অজিরা। তারপর থেকে ঘরের মাঠে একাধিক ম্যাচের ১১০টি টেস্ট সিরিজ খেললেও আর কখনো এমন লজ্জায় পড়েনি তারা।

কিন্তু এবার সেই ১৩৯ বছরের পুরোনো ইতিহাস নতুন করে লেখার সুযোগ টাইগারদের সামনে! ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশ সেই ইতিহাস গড়তে পারলে, হয়ে যাবে তিনটি বিরল মহাকাব্য!

প্রথমত, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ১৩৯ বছর পর ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশের চরম লজ্জায় ডুববে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘ ১০ বছর পর টেস্টে অজিদের হোয়াইটওয়াশের স্বাদ দেবে বাংলাদেশ। এর আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয়ত, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে অজিদের এক নম্বর থেকে চারে নামিয়ে, বাংলাদেশ উঠে যাবে ৩ নম্বরে।

অথচ সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশকে পাত্তাই দিতে চায়নি অস্ট্রেলিয়া। সেই অস্ট্রেলিয়াই এখন রীতিমতো খাদের কিনারে। অজিদের এমন দিশেহারা অবস্থা দেখে মুখ খুলেছেন তাদেরই সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক রিকি পন্টিং। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া চরম চাপে আছে। তাদের কয়েকজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এটা। এই নার্ভাসনেস ধীরে ধীরে তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে।’

অন্যদিকে, অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন তো বাংলাদেশ দলের প্রশংসায় একপ্রকার আত্মসমর্পণই করে বসলেন! তার ভাষায়, ‘ডারউইনে বাংলাদেশ আমাদের গলার ওপর পা রেখেই ম্যাচ শেষ করেছে। ওরা দারুণ খেলেছে এবং আমাদের ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই দেয়নি।’

ডারউইনের সাফল্যেই থেমে থাকতে চায় না বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ে লিখতে চায় নতুন ইতিহাস। তবে অর্জনের এই এভারেস্টসম চূড়ায় ওঠা কিন্তু মোটেও সহজ হবে না। ম্যাকাইয়ের বাতাস আর বাড়তি পেসবান্ধব উইকেট নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স। তবে ‘আহত বাঘ’ অস্ট্রেলিয়ার কামব্যাক নিয়ে দলকে সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন তিনি।

ফিল সিমন্স মনে করিয়ে দিয়েছেন, অজিরা এই ম্যাচে আরও আক্রোশ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে। তাই তাঁর সহজ মূলমন্ত্র— প্রথম ইনিংসে লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করা এবং অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচের বাইরে ঠেলে দেওয়া।

সিমন্সের এই মন্ত্র এবার মাঠে বাস্তবায়নের পালা বাংলাদেশের। জিতলে মহাকীর্তি, আর ড্র করলেও অধরা সিরিজ জয়ের গৌরব! এখন দেখার বিষয়— ম্যাকাইয়ের সবুজ উইকেটে বাংলাদেশ কোন চমক উপহার দেয়।