মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা কেবল পরিবেশ ও অর্থনীতিরই ক্ষতি করছে না, বরং মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। একই সঙ্গে তারা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
সেদিন মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে আয়োজিত তিন সপ্তাহব্যাপী ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ক আলোকপাত ছিল সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার -উজ-জামানের বক্তব্যেও। রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি দেশের ওপর বহুমুখী চাপ তৈরি করছে মন্তব্য করে তিনি দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন। যার কয়েকটি হচ্ছে- সীমান্ত সমস্যা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যু, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা ও বিদ্রোহ, জ্বালানি সংকট।
ক্যাপস্টোন কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময় করেছেন। এর ফলে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে তারা আরও সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দেশের এসব সমস্যা সমাধানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবেন। এসব সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। বিভিন্ন সময়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এনডিসিতে এনে এ ধরনের কোর্সের মাধ্যমে তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি কোর্সটিও তাদের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, নীতি প্রণয়ন ও আইন প্রণয়নে কোর্সে অংশ নেওয়া অভিজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন বলে আশা সেনাপ্রধানের। তাদের উদ্দেশ্যে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আপনাদের হিকমা, উইজডম ও প্রজ্ঞা আল্লাহ দিয়েছেন। আপনারা আপনাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল। এই প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আপনারা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
‘ এনডিসির ক্যাপস্টোন এ কোর্সে অংশগ্রহণকারী ছিলেন অধ্যাপক, চিকিৎসক, বিচারক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৩৭ জন। তাদের সমন্বয় অভিজ্ঞতার একটি চমৎকার সমাবেশ ঘটেছে। এবার এমন এক সময়ে কোর্সটি হলো এবং সেনাপ্রধান বার্তাটি দিলেন যখন রোহিঙ্গাদের ‘রাখাইনের বাঙালি’ দাবি করে মিয়ানমারের নতুন করে পুরনো বিবৃতি সচেতনদের ভাবিয়ে তুলেছে।
ফেলেছে প্রশ্নের চক্করে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত শরণার্থীর বোঝা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে। স্থানীয় পাহাড়ি ও বনভূমি অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদক ব্যবসা এবং অবৈধ চোরাচালানের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গাদের একাংশ জড়িয়ে পড়ছে। সীমান্ত পরিস্থিতি এবং পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জেও ফেলেছে বাংলাদেশকে।
অথচ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আবারও ‘বাঙালি’ দাবি করে নতুন একটি বিবৃতি দিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিদেরই ফেরত নেওয়া হবে বলে এতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে সমাধানের বিষয় হলেও এটিকে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে মিষ্টি মধুর দাবিও করা হয়েছে বিবৃতিটিতে।
এতে রাখাইন রাজ্যের “নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে” বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে থাকা তিন লাখের কিছু বেশি ‘বাস্তুচ্যুত’ মানুষকে ফিরিয়ে নিতে ইচ্ছুক হওয়ার কথা বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া তালিকায় উল্লেখ করা সংখ্যা নিয়ে আপত্তিও জানিয়েছে দেশটি। এছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে মিয়ানমার দাবি করেছে, যে জাতিগত নামে (রোহিঙ্গা) তাদেরকে পরিচয় করানো হচ্ছে সেই নামে কোনো গোষ্ঠী দেশটিতে নেই।
বিবৃতিতে যে-সব ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তার মাধ্যমে কেবল নিজস্ব ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে মিয়ানমার। একইসঙ্গে, এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আবারও ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। মিয়ানমারের দাবি, আরসার হামলার আগে বুথিদং, মংডু ও রাথিডং টাউনশিপে সাত লাখ ৪০ হাজারের বেশি “বাঙালি” বসবাস করত।
ঘটনার পর সেখানে দুই লাখের বেশি থেকে যায় এবং ৫ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশে চলে যায়। এই হিসাবের ভিত্তিতে মিয়ানমারের দাবি, “রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত” — এই তথ্যটি সঠিক নয়। বিবৃতি অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুতদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেছে মিয়ানমার। চুক্তি অনুযায়ী তিন দফায় তাদেরকে ফেরত নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও “একজনও” ফেরত যায়নি বলে দাবি করেছে নেপিদো।
বাংলাদেশের দেওয়া আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে ২০২৬ সালের ৩১শে জুলাই পর্যন্ত মিয়ানমার চার লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করেছে। যার মধ্যে তিন লাখ আট হাজার ৭৯৭ জন রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা বলে প্রমাণিত, চার হাজার ২৪১ জন “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত” বলে চিহ্নিত এবং এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
যাচাই হওয়া বাস্তুচ্যুতদের দ্রুত ফেরত নিতে “আন্তরিক সদিচ্ছা” নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার। তারা বলছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে যাচাই হওয়া রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দাদের গ্রহণ করা হবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন সরলীকরণ বা মামুলি নয়। ফেরত না নেয়ার যতো অপচেষ্টা আছে, সবই করছে মিয়ানমার। কোনো না কোনো ঝামেলা পাকিয়েই রাখছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার আগে-পরেও বিভিন্ন সময় আরও প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা ঢুকেছে বাংলাদেশে। জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের দেয়া তথ্য হচ্ছে, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমারের তৎকালিন বেসামরিক সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি চুক্তি করেছিল, যার মধ্যস্থতা করেছিল চীন। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১৫ই নভেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি আর বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। এরপর ২০১৯ সালে অগাস্টে চীনের তরফ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কিন্তু নাগরিকত্বের বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় যেতে চায়নি। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আট লাখ রোহিঙ্গার একটি তালিকা মিয়ানমারকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দ্বি-পাক্ষিক, বহুপাক্ষিক আলোচনা এবং সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু তাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার প্রসঙ্গ আলোচনায় এলেও বাস্তব রূপ পায়নি।
এবার যে বিবৃতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়েছে, সেটি সময়ক্ষেপণের পুরোনো কৌশল। এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ যে অবস্থান তৈরি করেছে, তার বিপরীতে নিজেদের একটি পাল্টা অবস্থানই বিবৃতিটি। আগে নানাভাবে সময়ক্ষেপণের যে চেষ্টা মিয়ানমারের ছিল, এবারও সেই পথেই হাটছে তারা। আন্তর্জাতিক পরিসরে রোহিঙ্গা ক্রাইসিস সমাধান নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, তার কাউন্টার হিসেবে মূলত এ বয়ান তারা সামনে এনেছে।
রোহিঙ্গা নামে কোনো জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমারে নেই, এই বিষয়টিও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করার হীনচেষ্টা রয়েছে বিবৃতিটিতে। ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। তারা রোহিঙ্গাদের বারবরই ‘বাঙালি’ হিসেবে আখ্যা দেয়। এটা তাদের এক ধরনের ছক। আপদ বাংলাদেশের ঘাড়ে দিয়ে স্বস্তি খোঁজার চেষ্টাও মিয়ানমারের।
এ রকম সময়েই কক্সবাজারের উখিয়া আশ্রয়শিবিরের একটি ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএন। ঘটনা হিসেবে ছোট হলেও এটি একটি বার্তা। এমন আরো বার্তাই ঘুরছে। একদিকে বাংলাদেশকে তারা রোহিঙ্গা বিষে নীল করছে। বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরও পারমানেন্ট করেছে বাংলাদেশে।
বছরের পর বছর পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা অধরাই থেকে যাচ্ছে এবং আরও দূরে সরে যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মাঝেমধ্যেই শরণার্থীশিবিরগুলোতে টোকা দেয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন কার্যক্রমে প্রতিবছর ৬০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ আসত, যার ফলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সব শরণার্থীকে মাসে ১২ ডলার সমমূল্যের খাদ্য রেশন দিতে পারত।
বৈধ কাজের সুযোগ তেমন না থাকায় এটি ছিল রোহিঙ্গাদের জন্য জীবনরক্ষাকারী এক মাধ্যম। জাতিসংঘ এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোও (এনজিও) শিবিরগুলোতে রান্নার জ্বালানি, পানি ও স্যানিটেশন, শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ অনেক জরুরি পণ্য ও সেবা সরবরাহ করে আসছিল। তবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া অন্যান্য মানবিক সংকট, সাহায্যদাতাদের অগ্রাধিকারের পরিবর্তন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা খাতে বরাদ্দ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার কারণে তহবিল সংকট তৈরি হয়েছে।
এর ফলে মানবিক সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম সংকুচিত করতে এবং সেবা প্রদানে নিয়োজিত হাজারো বেতনভুক্ত শরণার্থী ’স্বেচ্ছাসেবক’ ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে। গত এপ্রিলে ডব্লিউএফপি প্রায় দুই তৃতীয়াংশ শরণার্থীর জন্য খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে বর্তমানে কেউ কেউ মাসে মাত্র ৭ ডলার সমমূল্যের রেশন পাচ্ছেন। তহবিলের পরিমাণ আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা খুব কম বললেই চলে।
বাস্তবতা হলো, বর্তমানের এই সহায়তার ধারা বজায় রাখাই কঠিন হবে। এই চ্যালেঞ্জটি আরও ঘনীভূত হয়েছে শরণার্থীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির কারণে। এর পেছনে রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি নতুন রোহিঙ্গার আগমন এবং প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম। কোনো বহুতল ভবন না থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা শিবিরগুলো এখন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার চেয়েও বেশি ঘনবসতিপূর্ণ।
শরণার্থীশিবিরে অধিকাংশ বাসিন্দার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, পরিবেশ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। এক সৌদি আরবেই ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা থাকার কথা জানিয়েছে ওই দেশের সরকার।
তালিকার বাইরেও সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পরিচয়ে রয়েছে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর ও নেত্রকোনার মতো জেলাগুলোতে পাসপোর্ট করতে গিয়ে রোহিঙ্গাদের ধরা পড়ার ঘটনা এই ভয়াবহতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সংঘবদ্ধ দালালচক্র, স্থানীয় অসাধু জনপ্রতিনিধি এবং তথ্যের সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের অভাবে রোহিঙ্গারা সহজেই সংগ্রহ করছে জন্ম নিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র।
এই পরিস্থিতি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে এক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।





















