ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে শিশু-কিশোরদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে আইনি জটিলতায় মেটা। বর্তমানে এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে চলছে ২৯ অঙ্গরাজ্যের করা মামলার বিচার শুনানি। দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার জরিমানার পাশাপাশি আসতে পারে অ্যাপ দুটির মূল নকশা ও ফিচার পরিবর্তনের নির্দেশ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
শিশু ও কিশোরদের মানসিক ক্ষতি ইস্যুতে গত ১৮ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে শুরু হয়েছে ৬ সপ্তাহের বিচার শুনানি। মামলার নেতৃত্বে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেন্টাকি, নিউ জার্সিসহ যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য।
তাদের অভিযোগ, শিশু-কিশোরদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখার উদ্দেশ্যে জেনেশুনেই অ্যাপগুলোর নকশা করেছে মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা। এতে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি ১৩ বছরের কম বয়সীদের ব্যক্তিগত তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ করে শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে মেটার বিরুদ্ধে।
তবে শুরু থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মেটা, তাদের দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সাথে মানসিক ক্ষতির সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র নেই। একই সাথে কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তায় নানা পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও করেন তারা।
ছয় সপ্তাহব্যাপী এই বিচারপ্রক্রিয়ায় ৮ সদস্যের জুরি বোর্ড পরামর্শমূলক রায় দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারক। দোষ প্রমাণ হলে ২০০ বিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে মেটাকে। সেইসাথে আসতে পারে অ্যাপ দুটির বিভিন্ন ফিচারে বড় ধরণের পরিবর্তনের নির্দেশ ।
শিশুদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে চলতি মাসেই নিউ মেক্সিকোর আদালত মেটাকে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার জরিমানার নির্দেশ দেয়। এর আগে গত মার্চে আসক্তির শিকার এক তরুণীর মামলায় মেটা ও গুগলকে ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দেয় লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি জুরি।



















