2:30 am, Monday, 24 August 2026

কলকাতার হোটেলে আগুনে নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোলে হস্তান্তর

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভারতের কলকাতার শিখা ইন নামের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোল দিয়ে দেশে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার ২২ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহগুলো বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ও বিজিবি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত (৩), শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০) এবং ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু (৩৭)। এর আগে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ভোমরা বন্দর দিয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ দেশে আনা হয় এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সম্মতিতে সাতক্ষীরার রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকার করা হবে।

গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন, সাতক্ষীরার দুজন এবং ঢাকার সাভারের একজন রয়েছেন। কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার দিলীপ দত্তের ছেলে দেবাশীষ দত্ত।

তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে মহিমা দত্তকে (৭) রেখে গত ৩ আগস্ট তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান। দুই দিন পর স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরকে নিয়ে কলকাতায় যান দেবাশীষ। প্রথমে তারা কলকাতায় দুই দিন অবস্থান করেন। এরপর স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতে যান। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে চিকিৎসা শেষে উড়োজাহাজে করে কলকাতায় ফিরে আসেন তারা।

পরে কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। পরদিন মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ২টার দিকে ওই হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ‘আজকের পত্রিকা’ ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘নাইন’-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন।

এ ছাড়া তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত ‘আজকের আলো’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। চিকিৎসার জন্য ১৯ দিন আগে তারা ভারতের কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। গত বুধবার (১৯ আগস্ট) তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। মরদেহ হস্তান্তরের সময় বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ, বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ও আইসিপি বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তাসহ নিহতদের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

দেবাশীষ দত্তের মরদেহ গ্রহণ করতে বেনাপোল চেকপোস্টে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট ভাই সনি ও অন্যান্য স্বজন। দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত বেনাপোলে আসেননি। তিনি বাড়িতে থেকে কবর খননসহ দাফনের আনুষঙ্গিক কাজ তদারকি করছেন। অপরদিকে, ঢাকা সাভারের আহমেদ বাবুর মরদেহ গ্রহণ করতে বেনাপোল চেকপোস্টে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, গতকাল বিকেলে ভাইয়ের মরদেহ নিতে বেনাপোলে আসেন।

গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার মধ্যে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহ দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু ছাড়পত্র জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আজ শনিবার সন্ধ্যায় তার ভাইয়ের মরদেহ বুঝে পেয়েছেন। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানান, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ২টার দিকে কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নয় বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন এবং ঢাকা সাভারের একজন ছিলেন। ওই পাঁচজনের মরদেহ আজ দেশে ফিরেছে এবং মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর

কলকাতার হোটেলে আগুনে নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোলে হস্তান্তর

Update Time : 11:03:39 pm, Saturday, 22 August 2026

ভারতের কলকাতার শিখা ইন নামের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোল দিয়ে দেশে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার ২২ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহগুলো বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ও বিজিবি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত (৩), শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০) এবং ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু (৩৭)। এর আগে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ভোমরা বন্দর দিয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ দেশে আনা হয় এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সম্মতিতে সাতক্ষীরার রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকার করা হবে।

গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন, সাতক্ষীরার দুজন এবং ঢাকার সাভারের একজন রয়েছেন। কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার দিলীপ দত্তের ছেলে দেবাশীষ দত্ত।

তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে মহিমা দত্তকে (৭) রেখে গত ৩ আগস্ট তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান। দুই দিন পর স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরকে নিয়ে কলকাতায় যান দেবাশীষ। প্রথমে তারা কলকাতায় দুই দিন অবস্থান করেন। এরপর স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতে যান। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে চিকিৎসা শেষে উড়োজাহাজে করে কলকাতায় ফিরে আসেন তারা।

পরে কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। পরদিন মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ২টার দিকে ওই হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ‘আজকের পত্রিকা’ ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘নাইন’-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন।

এ ছাড়া তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত ‘আজকের আলো’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। চিকিৎসার জন্য ১৯ দিন আগে তারা ভারতের কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। গত বুধবার (১৯ আগস্ট) তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। মরদেহ হস্তান্তরের সময় বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ, বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ও আইসিপি বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তাসহ নিহতদের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

দেবাশীষ দত্তের মরদেহ গ্রহণ করতে বেনাপোল চেকপোস্টে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট ভাই সনি ও অন্যান্য স্বজন। দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত বেনাপোলে আসেননি। তিনি বাড়িতে থেকে কবর খননসহ দাফনের আনুষঙ্গিক কাজ তদারকি করছেন। অপরদিকে, ঢাকা সাভারের আহমেদ বাবুর মরদেহ গ্রহণ করতে বেনাপোল চেকপোস্টে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, গতকাল বিকেলে ভাইয়ের মরদেহ নিতে বেনাপোলে আসেন।

গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার মধ্যে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহ দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু ছাড়পত্র জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আজ শনিবার সন্ধ্যায় তার ভাইয়ের মরদেহ বুঝে পেয়েছেন। বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানান, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ২টার দিকে কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নয় বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন এবং ঢাকা সাভারের একজন ছিলেন। ওই পাঁচজনের মরদেহ আজ দেশে ফিরেছে এবং মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।