পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, আত্মশুদ্ধি ও উত্তম চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাজধানীতে একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর আইডিইবি মিলনায়তনে আশেকে রাসুল জেনারেল অফিসিয়ালস অর্গানাইজেশনের (ARGOO) উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
এতে বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, প্রকৌশলী, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং বিভিন্ন পেশার আশেকে রাসুলরা অংশ নেন। সেমিনারে বক্তারা বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে আনন্দের দিন। এ দিবস উদযাপনে যারা বাধা সৃষ্টি করছেন, তাদের নিন্দা জানিয়ে তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন রাসুলপ্রেমীরা নির্বিঘ্নে এ আনন্দ উদযাপন করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা বলেন, মহানবী (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা, তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই একজন মানুষের চরিত্র পরিপূর্ণতা লাভ করে। তিনি বলেন, “মানুষের জীবনে ধর্মের শিক্ষা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা মানুষের অন্তর, চরিত্র ও আচরণে প্রতিফলিত হয়।
” ঈদে মিলাদুন্নবী প্রচলনে সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন মুসলিম সমাজে প্রচলিত ধারণা ছিল ১২ রবিউল আউয়ালেই মহানবী (সা.)-এর ওফাত হয়েছে। কিন্তু দেওয়ানবাগী (রহ.) ঐতিহাসিক দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে ১ রবিউল আউয়ালকে ওফাতের দিন এবং ১২ রবিউল আউয়ালকে জন্মদিন হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরেন।
ড. কুদরত এ খোদা আরও বলেন, আগে বাংলাদেশে কেবল সিরাতুন্নবী পালন করা হতো। হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলেই বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন শুরু করে। এ জন্য রাসুলপ্রেমীরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিশি আদালতের সাবেক সদস্য বিচারপতি মো. আওলাদ আলী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ড. সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম এবং গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান।
এছাড়া বক্তব্য দেন নজরুল গবেষক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. জাকির হোসেন, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডা. দেওয়ান ফারুকুল ইসলাম, সাবেক যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আহসানুল হাদী এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমানসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও আশেকে রাসুল জেনারেল অফিসিয়ালস অর্গানাইজেশনের (ARGOO) আহ্বায়ক ড. পিয়ার মোহাম্মদ।





















