দেশের ভ্রমণব্যবস্থাকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের আগস্টে দেশজুড়ে অ্যাপভিত্তিক ইন্টারসিটি কার রেন্টাল সেবা চালু করেছে কারবুক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কোনো কমিশন ছাড়াই ইন্টারসিটি কার রেন্টাল সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি দেশের প্রথম ও একমাত্র অ্যাপভিত্তিক প্ল্যাটফরম। কারবুকের এই উদ্যোগে যাত্রীদের জন্য যেমন অনলাইনে গাড়ি বুকিংয়ের সুবিধা তৈরি হয়েছে, তেমনি চালকদের জন্যও আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবার মাধ্যমে যাত্রী ও চালকের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারবুকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেডান, হাইয়েস, নোহা, ট্যুরিস্ট বাস ও কোস্টার ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নির্বাচন করতে পারেন। ইন্টারসিটি ভ্রমণের পাশাপাশি ইনসাইড সিটি, ওয়ান ওয়ে, রাউন্ড ওয়ে, বিমানবন্দর পিকআপ-ড্রপঅফ এবং ঘণ্টাভিত্তিক গাড়ি বুকিংয়ের সুবিধাও রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যাত্রীরা অনলাইনে আগে থেকেই গাড়ি নির্বাচন ও বুকিং করতে পারবেন। এতে ভ্রমণের সময় সরাসরি গাড়ি খোঁজা কিংবা ভাড়া নিয়ে দরদামের মতো প্রচলিত কিছু ভোগান্তি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে কারবুক কর্তৃপক্ষ। সেবাটিতে সাধারণ পরিবহনের পাশাপাশি বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবস্থাও রয়েছে। বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ ও টয়োটা হ্যারিয়ারসহ বিভিন্ন মডেলের গাড়ি ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কারবুকের কার্যক্রম বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী গাড়ির পাশাপাশি চালক নির্বাচন করার সুযোগও পান। কারবুকের ব্যবসায়িক মডেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে রয়েছে ‘জিরো কমিশন’ ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চালকদের আয়ের ওপর কোনো কমিশন কেটে নেওয়া হয় না।
ফলে একটি ট্রিপ থেকে অর্জিত ভাড়ার পুরোটা চালকের কাছে থাকার সুযোগ তৈরি হয়। কারবুকের প্রতিষ্ঠাতা মো. সাগর বলেন, দেশের ইন্টারসিটি ভ্রমণব্যবস্থাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই অ্যাপভিত্তিক এই সেবা চালু করা হয়েছে। চালক ও যাত্রী—উভয়ের জন্য একটি কার্যকর ও সুবিধাজনক পরিবহন প্ল্যাটফরম তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, চালকদের আয় থেকে কমিশন না কাটার ফলে তাদের আর্থিক সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রে চাপও কমতে পারে। ট্রিপের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিরতি নেওয়ার সুযোগ চালকদের ক্লান্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে, যা যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহনসেবা বিস্তারের মাধ্যমে দেশের ইন্টারসিটি ভ্রমণে নতুন বিকল্প তৈরি করাই কারবুকের লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষায়, ‘কারবুক: বাংলাদেশের ইন্টারসিটি ভ্রমণে স্বাধীনতার নতুন পথচলা। ’
















