1:28 pm, Friday, 6 November 2026

পুরোনো অ্যান্ড্রয়েডের নির্দিষ্ট সংস্করণে বন্ধ হলো হোয়াটসঅ্যাপ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ এসেছে। ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ এবং ৫.১ ললিপপ চালিত বেশ কিছু স্মার্টফোনে বন্ধ হয়ে গেছে হোয়াটসঅ্যাপের অফিশিয়াল সহায়তা। ফলে এসব ফোনে অ্যাপটির ব্যবহার চালিয়ে যেতে হলে অপারেটিং সিস্টেম নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে আপডেট করতে হবে।

আর সেই সুযোগ না থাকলে বদলাতে হতে পারে ফোনও। ওয়েবিটাইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলেই পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের সহায়তা বন্ধের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ ও অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের সহায়তা শেষ হয়েছে। এখন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্সমেলো বা এর পরের সংস্করণ প্রয়োজন।

কোনো ফোন যদি অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ বা অ্যান্ড্রয়েড ৫.১-এ আটকে থাকে এবং সেটিকে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ বা পরবর্তী সংস্করণে আপডেটের সুযোগ না থাকে, তাহলে ওই ফোনে আর হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। এই পরিবর্তনের ফলে মূলত বহু বছর ধরে ব্যবহৃত পুরোনো স্মার্টফোনগুলো বেশি প্রভাবিত হবে। যেসব ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর সফটওয়্যার আপডেট দেয় না, সেসব যন্ত্রেই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বিশেষ করে ভারত, ব্রাজিল, পাকিস্তান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্যবহার রয়েছে। এসব যন্ত্রের অনেকগুলোতেই নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ ইনস্টল করার সুযোগ নেই। ফলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার চালিয়ে যেতে এসব ফোনের ব্যবহারকারীদের নতুন ফোনের কথা ভাবতে হতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপ চালু রাখতে প্রথমেই ফোনের বর্তমান অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ দেখে নিতে হবে।

সেটি অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ বা অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ হলে ফোনটির জন্য কোনো সফটওয়্যার আপডেট এসেছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে। ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ বা পরবর্তী সংস্করণে আপডেট করা গেলে সফটওয়্যার আপডেটের পর হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে ফোনের জন্য নতুন আপডেট না থাকলে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ বা এর পরের সংস্করণ সমর্থন করে এমন নতুন ডিভাইসে পরিবর্তন করতে হবে।

এই নিয়ম সাধারণ হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। হোয়াটসঅ্যাপ নিয়মিত নতুন ফিচার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করে। কিন্তু একটি অ্যাপকে একই সঙ্গে বহু পুরোনো ও নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে কার্যকর রাখা হলে নতুন সুবিধা তৈরি এবং সেগুলোর সামঞ্জস্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ওয়েবিটাইনফোর তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণগুলোর প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন সুবিধাগুলোর সবকিছু সেখানে ঠিকভাবে চালানো সম্ভব নয়।

তাই তুলনামূলকভাবে পুরোনো পরিচালন ব্যবস্থা থেকে সহায়তা সরিয়ে নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণগুলোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। এর ফলে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ ও অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ব্যবহারকারীদের একটি অংশ সমস্যায় পড়লেও হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষে আধুনিক ডিভাইসের জন্য নতুন ফিচার ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা সহজ হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম

পুরোনো অ্যান্ড্রয়েডের নির্দিষ্ট সংস্করণে বন্ধ হলো হোয়াটসঅ্যাপ

Update Time : 01:00:44 am, Monday, 14 September 2026

পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ এসেছে। ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ এবং ৫.১ ললিপপ চালিত বেশ কিছু স্মার্টফোনে বন্ধ হয়ে গেছে হোয়াটসঅ্যাপের অফিশিয়াল সহায়তা। ফলে এসব ফোনে অ্যাপটির ব্যবহার চালিয়ে যেতে হলে অপারেটিং সিস্টেম নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে আপডেট করতে হবে।

আর সেই সুযোগ না থাকলে বদলাতে হতে পারে ফোনও। ওয়েবিটাইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলেই পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের সহায়তা বন্ধের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ ও অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের সহায়তা শেষ হয়েছে। এখন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্সমেলো বা এর পরের সংস্করণ প্রয়োজন।

কোনো ফোন যদি অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ বা অ্যান্ড্রয়েড ৫.১-এ আটকে থাকে এবং সেটিকে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ বা পরবর্তী সংস্করণে আপডেটের সুযোগ না থাকে, তাহলে ওই ফোনে আর হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। এই পরিবর্তনের ফলে মূলত বহু বছর ধরে ব্যবহৃত পুরোনো স্মার্টফোনগুলো বেশি প্রভাবিত হবে। যেসব ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর সফটওয়্যার আপডেট দেয় না, সেসব যন্ত্রেই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বিশেষ করে ভারত, ব্রাজিল, পাকিস্তান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্যবহার রয়েছে। এসব যন্ত্রের অনেকগুলোতেই নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ ইনস্টল করার সুযোগ নেই। ফলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার চালিয়ে যেতে এসব ফোনের ব্যবহারকারীদের নতুন ফোনের কথা ভাবতে হতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপ চালু রাখতে প্রথমেই ফোনের বর্তমান অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ দেখে নিতে হবে।

সেটি অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ বা অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ হলে ফোনটির জন্য কোনো সফটওয়্যার আপডেট এসেছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে। ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ বা পরবর্তী সংস্করণে আপডেট করা গেলে সফটওয়্যার আপডেটের পর হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে ফোনের জন্য নতুন আপডেট না থাকলে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ বা এর পরের সংস্করণ সমর্থন করে এমন নতুন ডিভাইসে পরিবর্তন করতে হবে।

এই নিয়ম সাধারণ হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। হোয়াটসঅ্যাপ নিয়মিত নতুন ফিচার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করে। কিন্তু একটি অ্যাপকে একই সঙ্গে বহু পুরোনো ও নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণে কার্যকর রাখা হলে নতুন সুবিধা তৈরি এবং সেগুলোর সামঞ্জস্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ওয়েবিটাইনফোর তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণগুলোর প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন সুবিধাগুলোর সবকিছু সেখানে ঠিকভাবে চালানো সম্ভব নয়।

তাই তুলনামূলকভাবে পুরোনো পরিচালন ব্যবস্থা থেকে সহায়তা সরিয়ে নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণগুলোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। এর ফলে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ ও অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ব্যবহারকারীদের একটি অংশ সমস্যায় পড়লেও হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষে আধুনিক ডিভাইসের জন্য নতুন ফিচার ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা সহজ হবে।