কুমিল্লার লালমাই উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা বিএনপির নেতাদের দাবি, দলীয় নেতা মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিল, ব্যানার-পোস্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। জানা যায়, বুধবার বিকেলে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত একদল নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদের নেতৃত্বে মিছিলটি বাগমারা দক্ষিণ বাজার এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
একপর্যায়ে মিছিল থেকে একদল নেতাকর্মী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় কার্যালয়ের দেয়ালে থাকা কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। একটি বড় টেবিলসহ তিন শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে উপজেলা বিএনপি। লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ আলী মীর পিন্টু বলেন, তিনি গত দুই দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিনি জানতে পেরেছেন, সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। তিনি আরও বলেন, হামলার সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে।
এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। ’ অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদ বলেন, অসত্য কথাগুলো পান কেথায়। আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছি। এমন হয়ে থাকলে তদন্ত করা হোক। লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত বিএনপি নেতা মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। রাত ১০টার দিকে লালমাই বাজার এলাকার একটি খাবার হোটেলে হেলমেট পরা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই হামলার প্রতিবাদে বুধবার বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। আর সেই মিছিল থেকেই উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।




















