কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঘাস ও খড়ের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া নিখোঁজ যুবক রাজা বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় তার বন্ধু রিফাজ হোসেন (২৬) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রিফাজ উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের সফেদ হোসেনের ছেলে।
পুলিশের দাবি, অনলাইন জুয়ায় বড় অঙ্কের টাকা হেরে আর্থিক সংকটে পড়ে রিফাজ। সেই টাকা জোগাড় করতে বন্ধু রাজাকে মাঠের ভেতর ডেকে নিয়ে হত্যা করে তাঁর পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাজা বিশ্বাস (২৫) সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে পরদিন মঙ্গলবার দৌলতপুর থানায় জিডি করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠে একটি সড়কের পাশ থেকে নিখোঁজ রাজা বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কৃষক সানাউল্লাহ মাঠে নিজ ক্ষেত কাজে যাওয়ার সময় কয়েকটি শিয়ালকে ঘাস ও খড়ের ভেতর থেকে নিহত যুবকেরল লাশ টানাটানি করতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর পাশে পড়ে থাকা স্যান্ডেল, হাতঘড়ি ও পরনের পোশাক দেখে পরিবারের সদস্যরা রাজাকে শনাক্ত করেন।
হত্যাকান্ডের ঘটনায় দৌলতপুর থানা পুলিশ নিহতের বন্ধু রিফাজকে আটক করে জিঞ্জাসবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। জিঞ্জাসাবাদে সে জানায় বন্ধু রাজাকে ডেকে নিয়ে মাদক সেবনের পর জাল বা নেটজাতীয় বস্তু দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়।
হত্যাকান্ডের পর নিহতের মরদেহটি খড় ও ঘাস দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এ ঘটনায় নিহত যুবকের বাবা ইমাম আলী বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। হত্যাকান্ডের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, নিহততের মরদেহ উদ্ধারের সময় ৪জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে রিফাজ নামে একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
অপর ৩ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন জুয়ায় টাকা হারিয়ে রিফাজ আর্থিক সংকটে পড়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




















