10:51 am, Saturday, 10 October 2026

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মৃৎশিল্পীর কারুকাজে মুখর শারদীয় দুর্গোৎসবের মেলা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগাভাগি ও প্রাণবন্ত করতে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যুগ যুগ ধরে চলে আসছে পূজার মেলা। শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিন উপজেলার বড়াল ও গুমানী নদীতে দেওয়া হয় প্রতিমা বিসর্জন।

এ কারণে হাজার হাজার মানুষ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পূজার মেলা প্রাঙ্গণ। মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় মাটির তৈরি আকর্ষণীয় খেলনা ও গৃহস্থালি সামগ্রী। সারা বছর মৃৎশিল্পীদের কদর না থাকলেও শারদীয় দুর্গাপূজার মেলা উপলক্ষে উপজেলার পালপাড়ার নারী-পুরুষ-শিশুÑ সব বয়সি মৃৎশিল্পের কারিগররা দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

কেউ মাটি ঘুটছেন, কেউ সেই মাটি ছাঁচে দিয়ে তৈজসপত্র তৈরি করছেন। কেউবা খেলনা শুকানোর পর রং-তুলির আঁচড় দিচ্ছেন। পূজার মেলা ঘিরে শিশুদের খেলনার পাশাপাশি কিছু নারীরাও তৈরি করছেন মসলা রাখার পাত্র, হাঁড়ি এবং দেয়ালে ঝোলানো শোপিস। যদিও আধুনিকতার ছোঁয়া ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তাদের অনেকে পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। তবু বংশ পরম্পরায় এবং জীবিকা নির্বাহের তাগিদে অনেকেই এখনো মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

বছরের অধিকাংশ সময় তাদের তেমন ব্যস্ততা না থাকলেও, দুর্গাপূজার সময়ে তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এসব পণ্যের বাহারি নকশা আর মাটির নিজস্ব গন্ধ পূজার আমেজ চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ভাঙ্গুড়া উপজেলার পালপাড়া ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন কারুকাজ করে মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও খেলনা তৈরির পর রং দিয়ে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।

কারিগরদের হাতের ছোঁয়ায় গড়ে উঠছে মাটির পুতুল, হাতি, ঘোড়া, পাখি, হাঁস-মুরগি, মাটির ব্যাংক, চায়ের কাপ, পিঠা তৈরির ছাঁচ, নানা জাতের ফুল, ফুলদানি, হাঁড়ি-পাতিল, প্রদীপ, কলস, খেলনাসহ মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র। ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের কালীবাড়ি পালপাড়ার মৃৎশিল্পী শ্রী সাধন চন্দ্র পাল জানান, এক সময় মৃৎশিল্পীদের কদর থাকলেও সময়ের পরিবর্তনে সেই কদর কমেছে।

এখন আর আমাদের সমৃদ্ধির আশা নেই। পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে শেখা কাজের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শিকড়ের টানে এখনো আঁকড়ে ধরে আছি। এ ব্যাপারে কবি, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী এসএম নাহিদ হাসান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নে মাটির তৈরি জিনিসের বদলে বাজার দখল করছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিক। তাই আধুনিক তৈজসপত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মাটির তৈরি অনেক পণ্য হারিয়েই গেছে।

ঐতিহ্যের স্বার্থে আমাদের মৃৎশিল্পের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

Nagorik Sangram

Popular Post

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে বাগেরহাটের চিতলমারীর সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মৃৎশিল্পীর কারুকাজে মুখর শারদীয় দুর্গোৎসবের মেলা

Update Time : 09:34:06 am, Saturday, 10 October 2026

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগাভাগি ও প্রাণবন্ত করতে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যুগ যুগ ধরে চলে আসছে পূজার মেলা। শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিন উপজেলার বড়াল ও গুমানী নদীতে দেওয়া হয় প্রতিমা বিসর্জন।

এ কারণে হাজার হাজার মানুষ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পূজার মেলা প্রাঙ্গণ। মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় মাটির তৈরি আকর্ষণীয় খেলনা ও গৃহস্থালি সামগ্রী। সারা বছর মৃৎশিল্পীদের কদর না থাকলেও শারদীয় দুর্গাপূজার মেলা উপলক্ষে উপজেলার পালপাড়ার নারী-পুরুষ-শিশুÑ সব বয়সি মৃৎশিল্পের কারিগররা দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

কেউ মাটি ঘুটছেন, কেউ সেই মাটি ছাঁচে দিয়ে তৈজসপত্র তৈরি করছেন। কেউবা খেলনা শুকানোর পর রং-তুলির আঁচড় দিচ্ছেন। পূজার মেলা ঘিরে শিশুদের খেলনার পাশাপাশি কিছু নারীরাও তৈরি করছেন মসলা রাখার পাত্র, হাঁড়ি এবং দেয়ালে ঝোলানো শোপিস। যদিও আধুনিকতার ছোঁয়া ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তাদের অনেকে পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। তবু বংশ পরম্পরায় এবং জীবিকা নির্বাহের তাগিদে অনেকেই এখনো মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

বছরের অধিকাংশ সময় তাদের তেমন ব্যস্ততা না থাকলেও, দুর্গাপূজার সময়ে তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এসব পণ্যের বাহারি নকশা আর মাটির নিজস্ব গন্ধ পূজার আমেজ চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ভাঙ্গুড়া উপজেলার পালপাড়া ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন কারুকাজ করে মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও খেলনা তৈরির পর রং দিয়ে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।

কারিগরদের হাতের ছোঁয়ায় গড়ে উঠছে মাটির পুতুল, হাতি, ঘোড়া, পাখি, হাঁস-মুরগি, মাটির ব্যাংক, চায়ের কাপ, পিঠা তৈরির ছাঁচ, নানা জাতের ফুল, ফুলদানি, হাঁড়ি-পাতিল, প্রদীপ, কলস, খেলনাসহ মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র। ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের কালীবাড়ি পালপাড়ার মৃৎশিল্পী শ্রী সাধন চন্দ্র পাল জানান, এক সময় মৃৎশিল্পীদের কদর থাকলেও সময়ের পরিবর্তনে সেই কদর কমেছে।

এখন আর আমাদের সমৃদ্ধির আশা নেই। পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে শেখা কাজের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শিকড়ের টানে এখনো আঁকড়ে ধরে আছি। এ ব্যাপারে কবি, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী এসএম নাহিদ হাসান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নে মাটির তৈরি জিনিসের বদলে বাজার দখল করছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিক। তাই আধুনিক তৈজসপত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মাটির তৈরি অনেক পণ্য হারিয়েই গেছে।

ঐতিহ্যের স্বার্থে আমাদের মৃৎশিল্পের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে হবে।