বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটির অবস্থা নাজুক। ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।
দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং কোথাও কোথাও মেঝেতেও ফাটল রয়েছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে খোলা মাঠে, কখনো বটগাছের তলায় বসিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। পাশাপাশি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেও চলছে নিয়মিত ক্লাস। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ২২৪ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা কম হওয়ায় কয়েকটি শ্রেণির পাঠদান গ্রুপভিত্তিক করতে হচ্ছে। ফলে একই সময়ে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ কিংবা বটগাছের নিচে বসিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। জানা গেছে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খোলা মাঠে ক্লাস করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।
বিশেষ করে প্রচ- রোদ কিংবা বৃষ্টি হলে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। আবহাওয়া খারাপ থাকলে অনেক সময় নির্ধারিত ক্লাসও নেওয়া সম্ভব হয় না। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও এর স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। শুধু শ্রেণিকক্ষ সংকটই নয়, বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটির অবস্থাও নাজুক। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং কোথাও কোথাও মেঝেতেও ফাটল রয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ায় শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও তৈরি হয় ভোগান্তি। ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধারও সংকট রয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে কয়েকটি হোয়াইট বোর্ড। নেই পর্যাপ্ত ডিজিটাল ক্লাসের ব্যবস্থা। ফলে বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানেও নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বসন্তকুমার ম-ল বলেন, শ্রেণিকক্ষের অভাবে অনেক ক্লাস খোলা মাঠে বটগাছের তলায় নিতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন ম-ল বলেন, উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কয়েকটি ক্লাস বটগাছের নিচে বসে করাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদানের জন্য একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণ জরুরি। এ বিষয়ে ইউএনওর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লিমন বিশ্বাস ইউনুস বলেন, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে প্রায় আড়াইশ শিক্ষার্থী। কিন্তু তাদের পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। শিক্ষার্থী বেশি থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। তাই দ্রুত একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। চিতলমারী ইউএনও খাদিজা আক্তার বলেন, সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকটের বিষয়টি আমরা অবগত আছি।
শিক্ষার্থীদের পাঠদানে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।




















