স্মার্টফোন এখন আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি কাজের সঙ্গী। যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যাংকিং, কেনাকাটা, অফিসের কাজ, বিনোদন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ—সবকিছুর জন্যই নির্ভর করতে হয় বিভিন্ন অ্যাপের ওপর।
আর এসব অ্যাপের সঙ্গে নিয়মিতই আসে একটি পরিচিত নোটিফিকেশনÑ ‘আপডেট করুন’। অনেকেই সেটি দেখেই সরিয়ে দেন। কেউ ভাবেন, পুরোনো অ্যাপ তো ঠিকঠাকই চলছে; আবার কেউ নতুন সংস্করণ ডাউনলোড করার ঝামেলা এড়াতে দিনের পর দিন আপডেট না করেই ব্যবহার করতে থাকেন। কিন্তু এই ছোট্ট অবহেলাই কখনো কখনো বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ অ্যাপ আপডেট মানেই শুধু নতুন কোনো ফিচার যোগ হওয়া নয়।
এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, অ্যাপের কার্যক্ষমতা এবং ফোনের নতুন সফটওয়্যারের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়ও। কোনো অ্যাপের কোডে নিরাপত্তা দুর্বলতা থাকলে সেটি শনাক্ত হওয়ার পর ডেভেলপাররা সাধারণত নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেন। নতুন আপডেটে সেই দুর্বলতা ঠিক করা হতে পারে। কিন্তু ব্যবহারকারী যদি পুরোনো সংস্করণেই থেকে যান, তাহলে সংশোধন করা নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধা তিনি পাবেন না।
বিশেষ করে যেসব অ্যাপে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, যোগাযোগের তথ্য কিংবা আর্থিক লেনদেনের তথ্য থাকে, সেগুলো দীর্ঘদিন পুরোনো সংস্করণে ব্যবহার করা বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই অ্যাপ আপডেটকে কেবল নতুন সুবিধার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি ফোনের ডিজিটাল নিরাপত্তারও একটি অংশ। অ্যাপের নতুন সংস্করণে ব্যবহারকারীর জন্য নতুন সুবিধা যুক্ত হওয়া খুব স্বাভাবিক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং, ভিডিও, কেনাকাটা কিংবা বিভিন্ন সেবার অ্যাপগুলো প্রায়ই নতুন ফিচার নিয়ে আসে। তবে আপডেটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলোÑ পুরোনো সমস্যার সমাধান করা। কোনো অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ধীরগতিতে কাজ করা, কোনো নির্দিষ্ট ফিচার ঠিকমতো না চলা কিংবা অস্বাভাবিকভাবে ব্যাটারি খরচ করার মতো সমস্যার সমাধান নতুন সংস্করণে থাকতে পারে।
ফলে দীর্ঘদিন আপডেট না করলে ব্যবহারকারী এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন, যা নতুন সংস্করণে এরই মধ্যে ঠিক করা হয়েছে। স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেমও নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে। অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএসের নতুন সংস্করণ এলে অ্যাপগুলোকেও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোনো অ্যাপ নতুন অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে ঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে।
ফলে ফোনের অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করার পর যদি কোনো অ্যাপ বারবার আটকে যায়, বন্ধ হয়ে যায় বা নির্দিষ্ট ফিচার কাজ না করে, তাহলে অ্যাপটির নতুন সংস্করণ প্রয়োজন হতে পারে। আবার কোনো পুরোনো অ্যাপ একসময় ডেভেলপারদের সমর্থন হারিয়ে কার্যত অচলও হয়ে যেতে পারে। ধরুন, আপনি বিমানবন্দরে। জরুরি সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু অ্যাপ খুলতেই দেখা গেল, ব্যবহার চালিয়ে যেতে হলে সেটি আপডেট করতে হবে।
তখন ইন্টারনেট ধীর, সময় কম, আর আপডেট ডাউনলোড করতেও প্রয়োজন হচ্ছে বাড়তি সময়। এমন পরিস্থিতি এড়ানো যায় আগে থেকেই প্রয়োজনীয় অ্যাপ আপডেট করে রাখলে। বিশেষ করে ভ্রমণ, গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিংবা জরুরি কোনো সেবার আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা দেখে নেওয়া ভালো। এতে প্রয়োজনের সময় হঠাৎ আপডেটের কারণে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা কমে।
তবে অ্যাপ আপডেটের নোটিফিকেশন দেখলেই অন্ধভাবে আপডেট করার প্রয়োজন নেই। বিশ্বস্ত অ্যাপ স্টোর থেকে প্রকাশিত নিয়মিত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত আপডেটকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে ব্যাংকিং, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ দীর্ঘদিন পুরোনো সংস্করণে রেখে দেওয়া ঠিক নয়। ফোনের সেটিংসে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু রাখলে অনেক ক্ষেত্রে কাজটি সহজ হয়ে যায়।
পাশাপাশি মাঝেমধ্যে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে গিয়ে আপডেটের তালিকাও দেখে নেওয়া যেতে পারে। তবে স্বয়ংক্রিয় আপডেটের ক্ষেত্রে মোবাইল ডেটা খরচের বিষয়টিও খেয়াল রাখা ভালো। স্মার্টফোনে আমরা প্রতিদিন অসংখ্য তথ্য ও ব্যক্তিগত কাজের ভার তুলে দিই। তাই অ্যাপ আপডেটের ছোট্ট নোটিফিকেশনকে নিছক বিরক্তিকর বার্তা হিসেবে এড়িয়ে যাওয়ার আগে একবার ভাবা দরকারÑ যে আপডেটটি আজ উপেক্ষা করছি, সেটিই হয়তো ফোনের নিরাপত্তার জন্য আগামীকাল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।




















