চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলন ১৯তম দিনে গড়িয়েছে। দাবি আদায়ে এখনো অনড় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। একই দাবিতে সকাল ১১টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে দুপুর ১টার দিকে তাঁদের উদ্যোগে একটি মৌনমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও পানি সম্পদ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সামিউন বাসির বলেন, ‘এ পর্যন্ত বিভিন্ন বর্ষের ১৫টি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ১২ কার্যদিবস ক্লাস নেওয়া যায়নি। বিষয়টি দীর্ঘায়িত হলে বড় ধরনের সেশনজটের আশঙ্কা রয়েছে। তাই আর কালক্ষেপণ না করে সরকারকে বিষয়টি যৌক্তিকভাবে সমাধানের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক সায়েম স্যারের কোনো বিকল্প নেই। আমরা তাঁর পুনর্বহাল চাই। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, সেই বিষয়টিও জোরালোভাবে জানাচ্ছি। ’ এদিকে, চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল এবং নতুন উপাচার্য কর্তৃক রুটিন উপাচার্যের দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে বলেন, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে দূর থেকে তথাকথিত ‘অনলাইন ভিসি’ কর্তৃক উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন।
বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, ‘যাঁকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য হিসেবে মেনে নেননি, তাঁর দেওয়া কোনো রুটিন দায়িত্ব বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চুয়েট ক্যাম্পাসে বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। ’ এ বিষয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ‘উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্তি সম্পর্কে আমি ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছি।
কীভাবে এই দায়িত্বপ্রাপ্তি, তা ফেসবুকই জানতে পারে। ’ চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল ইসলাম জানান, অতীতে নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে অফিস আদেশ জারি করা হতো। কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য পেয়েছেন, তা নোটিশের মাধ্যমে জানানো হতো। তবে এবার তাঁরা কোনো অফিস আদেশ পাননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের জানা নেই, কে দায়িত্ব কত দিনের জন্য পেয়েছেন।




















