গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) লিপী ঘরামীর বিরুদ্ধে সময়মতো কর্মস্থলে না আসার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তিনি কখনো সকাল ১০টা, কখনো ১১টা, এমনকি কোনো কোনো দিন দুপুর গড়িয়ে গেলেও কার্যালয়ে উপস্থিত হন না।
তার এমন অনিয়মের কারণে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ৯ জন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সচিব নিয়মিত অফিসে আসেন না, দেরিতে আসেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এ ছাড়া চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, অফিসের গোপনীয় তথ্য প্রকাশ এবং ট্রেড লাইসেন্স ও ওয়ারিশ সনদের ফি বাবদ আদায় করা অর্থের সঠিক হিসাব না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সেবাপ্রত্যাশীরা জানান, সকাল থেকে পরিষদে অপেক্ষা করেও অনেক সময় সচিবের দেখা মেলে না। ফোন করে অফিসে আসার সময় জানতে চাইলে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ তাদের। দেরিতে অফিসে আসার কারণ জানতে চাইলে লিপী ঘরামী বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে আসতে হয়, তাই দেরি হতে পারে। প্রতিদিন সকাল ৯টার পরিবর্তে সাড়ে ১০টা বা ১১টায় আসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সব সচিব কি টাইম টু টাইম অফিসে যান?
দেশের সব সচিব যদি টাইম টু টাইম যান, তবেই আমিও টাইম টু টাইম আসব। ’ গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রমেন্দ্রনাথ ঢালী বলেন, ‘সচিব আমাদের কোনো কথাই শোনেন না। তিনি নিজের ইচ্ছেমতো অফিসে আসেন ও কাজ করেন। তার কারণে সরকারি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ’ গোপালগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রেজওয়ানা কবির বলেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।
অভিযোগটি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’ স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে একজন কর্মকর্তার অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হন।





















